লাল-সবুজ পতাকার বিশ্বজয়!

তুহিন মাহমুদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব পতাকা তৈরি করে গিনেজ বুকে বিশ্ব রেকর্ড গড়লো বাংলাদেশ। ২৭ হাজার ১১৭ জন লোক নিয়ে এ মানব পতাকা তৈরি করা হয়। সোমবার দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে শের-ই-বাংলা নগরে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে এ মানব পতাকা তৈরি করা হয়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় এ মানব পতাকা তৈরি করে বেসরকারি মোবাইল অপারেটর রবি।

এর আগে পাকিস্তানের লাহোর জাতীয় হকি স্টেডিয়ামে পাঞ্জাব ইয়ুথ ফেস্টিভালে ২৪ হাজার ২০০ লোকের অংশগ্রহণে সবচেয়ে বড় মানব জাতীয় পতাকা তৈরির রেকর্ড ছিল। সুতরাং বিজয়ের মাসে আবারও পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে এক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

Bangladesh flag record-TechShohor

এদিন সকাল থেকে সেনাবাহিনীর সদস্য ও রবির সদস্যরা প্যারেড গ্রাউন্ডে আসেন। সকাল থেকে অংশ্রহণকারী সেনাবাহিনীর সদস্য ও রাজধানীর বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত বাসে প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রবেশ করতে থাকে। তবে সকাল আটটা পর্যন্ত কোনও সাধারণ জনগনকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

বেলা ১২টা পর্যন্ত চলে পতাকা তৈরির প্রস্তুতি। এরপর মানব পতাকার চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার জন্য সবাইকে নির্ধারিত স্থানে পাঠানো হয়। সবার হাতে ছিল ভিন্ন প্লাকার্ড। মানব পতাকা তৈরির জন্য প্যারেড গ্রাউন্ডে নির্দিষ্ট মাপের মধ্যে সাদা চুন দিয়ে ত্রিশ হাজার ছোট ছোট ঘর করে দাগ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক ঘরে একজন করে নির্দিষ্ট রংয়ের প্লাকার্ড নিয়ে দাঁড়ায়।

এ কার্যক্রমের সমন্বয়কদের নির্দেশে প্রথমে দুবার মহড়া দেওয়া হয়। তার আগে গিনেস রেকর্ড কর্তৃপক্ষের নিয়মাবলী সম্পর্কিত একটি ভিডিও দেখানো হয়। মহড়া শেষে আসে চূড়ান্ত মুহুর্ত। নির্দেশ দেওয়ার পর সবাই একসঙ্গে তাদের হাতে থাকা প্লাকার্ডটি মাথার ওপর তুলে ধরে। দুটি গানের চলতে থাকে মাইকে। ৬ মিনিটেরও অধিক সময় প্লাকার্ডগুলো মাথার উপর তুলে রাখে অংশগ্রহণকারীরা।

এ মানব পতাকা তৈরি করতে লাল অংশে প্রায় ৮ হাজার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও সবুজ অংশে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেয়। আয়োজনটি দেখার জন্য গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড কমিটির অনুমোদিত একজন পর্যবেক্ষক উপস্থিত ছিলেন। আয়োজনটি সুষ্ঠুভাবে শেষ হওয়ার পর প্রমাণ হিসাবে সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য ও ছবি গিনেস ওয়ার্র্ল্ড রেকর্ড কমিটির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা করছে কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ঢাকা ট্রিবিউন, চ্যানেল আই এবং রেডিও ফুর্তি।

Related posts

*

*

Top