বিজয় সফটওয়্যারের রজত জয়ন্তী সোমবার

তুহিন মাহমুদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলা লেখার সফটওয়্যার বিজয়ের ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে সোমবার। ১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর প্রথম বাজারে আসে জনপ্রিয় সফটওয়্যারটি। রজত জয়ন্তীর এ মাইলফলককে স্মরণীয় করে রাখতে আসছে বিজয়ের নতুন সংস্করণ একাত্তর প্রো।

তথ্যপ্রযু্ক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার কম্পিউটারে বাংলা লেখার সফটওয়্যার বিজয়ের রূপকার। কিবোর্ডে বাংলা হরফ বিন্যস্ত করার নতুন ধারণাকে কাজে লাগিয়ে কম্পিউটারে বাংলা লেখা সহজ করার অনন্য অবদান বিজয়ের।

Bijoy71_techshohor

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় কম্পিউটারে লেখার পাশাপাশি প্রিন্ট মিডিয়া ও ছাপাখানার কাজে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় বিজয়। বর্তমানে এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ইন্টারনেটেও সরাসরি ইউনিকোডে বাংলা লেখা যাচ্ছে।

১৯৮৮ সালের ১৬ ডিসেম্বর শুরুর পর থেকে প্রায় প্রতি বছর কিছু না কিছু আপডেট এসেছে বিজয় সফটওয়্যারে। বিজয় এখন চারটা প্লাটফর্মে কাজ করে। এগুলো হলো মেকিন্টোস, উইন্ডোজ, লিনাক্স ও অ্যান্ড্রয়েড। এরমধ্যে মেকিন্টোস ও উইন্ডোজের সংস্করণ হয়েছে অনেক। তবে ম্যাকের জন্য সবচেয়ে বড় ধরণের সংস্করণ এসেছে ১৯৮৮, ১৯৯২, ২০০৫ ও ২০১২ সালে। উইন্ডোজের ক্ষেত্রে ১৯৯৩, ১৯৯৯, ২০০০, ২০০৫ ও ২০০৭ এর পরে আরও চারটিসহ মোট ৯টি বড় ধরণের সংস্করণ বাজারে এসেছে।

বিজয়ের শুরু প্রসঙ্গে মোস্তফা জব্বার টেক শহরকে বলেন, বিজয়ের প্রথম কোডিং হয়েছে দিল্লীতে। দেবেন্দ্র জোশী নামের একজন ভারতীয় ১৯৮৮ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে এ কাজটি করেন। এরপর বাংলাদেশে ধারাবাহিকভাবে এর উন্নয়ন করা হয়েছে। ২৫ বছরে শত শত বাঙালী তরুণ-তরুণী এর উন্নয়নে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, শুরুর বছরে শুধু মেকিন্টোস কম্পিউটারের জন্য প্রচলিত হয় বিজয় সফটওয়্যার। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে বিজয়ের লেআউট মুদ্রিত কিবোর্ড বাজারে আসে।

বিজয়ের রূপকার এ তথ্যপ্রযুক্তিবিদ বলেন, গত ২৫ বছরে বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, ত্রিপুরাসহ বিশ্বের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কম্পিউটারে বাংলা লেখার জনপ্রিয় সফটওয়্যার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মোস্তাফা জব্বার দাবি করেন দেশের শতকরা ৯৫ ভাগ কম্পিউটারে সফটওয়্যারটি ইনস্টল হয়েছে। তিনি বলেন, কেবল মাইক্রোসফট উইন্ডোজ বা অফিস বিজয়ের এ কাতারে রয়েছে। রজত জয়ন্তীতে বিদ্যমান সংস্করণগুলোর সাথে নতুন যুক্ত হচ্ছে উইন্ডোজের জন্য বিজয় একাত্তর প্রো। এতে বিজয়, মুনির ও জাতীয় কীবোর্ড কাজ করবে। এটি আস্কি, একাত্তর ও ইউনিকোড এনকোডিং-এ কাজ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে সব ধরনের কনভার্টার রয়েছে।

অন্য সফটওয়্যারের চাইতে নতুন সংস্করণ আলাদা হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বিজয়ের এই কারিগর বলেন, কোয়ার্ক এক্সপ্রেসে পেশাদারী পেজ মেকআপ সফটওয়্যারের উচ্চতর সংস্করণগুলোতে (৬, ৭, ৮, ৯ ও ১০) কাজ করার পাশাপাশি এটি উইন্ডোজ এক্সপি, উইন্ডোজ ভিস্তা, উইন্ডোজ সেভেন ও উইন্ডোজ এইটে কাজ করে। এটি আগের সকল সংস্করণের চাইতে অনেক দ্রুত কাজ করে। তিনি জানান, রজত জয়ন্তীতে বিজয়ের গর্ব করার মতো আরও একটি বিষয় হচ্ছে এতে এবার ১০০ ফন্ট যুক্ত হয়েছে। বাংলা লিপির এমন বৈচিত্র্য এর আগে আর কখনও দেখা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মোস্তাফ জব্বার বলেন, রজত জয়ন্তীর পূর্তিতে বিজয়ের প্রত্যাশা হলো সামনের দিনগুলোতে সফটওয়্যারটিতে বাংলা ব্যাকরণ, অভিধান, অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিডার ও নতুন নতুন ফন্ট যোগ করা। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, পিসিসহ নতুন নতুন ডিজিটাল যন্ত্রের সকল ধরনের অপারেটিং সিস্টেমে বিজয় ব্যবহারের চেষ্টা করা হবে।

Related posts

*

*

Top