হার্ডডিস্ক স্বল্পতায় প্রযুক্তিপণ্যের বাজার

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেশে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় অন্য সব খাতের মতো নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে প্রযুক্তি পণ্যের বাজারেও। টানা হরতাল ও অবরোধে রাজধানীর কম্পিউটার বাজারগুলো একপ্রকার ক্রেতাশুণ্য হয়ে পড়েছে। বেচাবিক্রি কমার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের নিত্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশের সরবরাহও কমে গেছে। অন্য সব পণ্যের চেয়ে সবচেয়ে বেশি স্বল্পতা দেখা গেছে হার্ডডিস্কের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আমদানি কমে যাওয়ায় মূলত সংকট দেখা দিয়েছে হার্ডডিস্কের। অন্য সময় বাজারে বিভিন্ন ধরনের হার্ডডিস্ক পাওয়া গেলেও এখন শুধু ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল ব্র্যান্ডের ড্রাইভ পাওয়া যাচ্ছে। এ সুযোগে কেউ কেউ দামও বাড়িয়ে দিয়েছেন।

bcs computer city_techshohor

বাজারে সাধারণত স্যামসাং, হিটাচি, টুইনমস, ওয়েস্টার্ন ব্র্যান্ডের হার্ডডিস্ক পাওয়া যায়। কিন্তু শনিবার দেশের বৃহত্তম প্রযুক্তিপণ্যের বাজার আগারগাঁয়ের আইডিবি ভবনের বিসিএস কম্পিউটার সিটিতে বেশিরভাগ দোকানে হার্ডডিস্ক নেই বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। অনেক ক্রেতা অবরোধের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে হার্ডডিস্ক কিনতে এসেও পাননি। স্বল্পতার সুযোগে কেউ কেউ দামও বেশি রাখছেন বলে ক্রেতারা জানান।

বিক্রেতারা জানান, ইউএসবি থ্রি ১ টেরাবাইট পোর্টেবল হার্ডড্রাইভ পূর্বে ৬ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন বর্তমানে ৬ হাজার ৮০০ থেকে  সাত হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মগবাজার থেকে আসা হাসিব হার্ডড্রাইভ কিনতে এসে হতাশা প্রকাশ করে বলেন, নিজের পছন্দের ব্র্যান্ডের হার্ডড্রাইভ বাজারে না থাকায় তিনি না কিনেই ফিরছেন। এ ছাড়াও অন্য ব্র্যান্ডের দামও বেশি চাচ্ছেন দোকানিরা।

অবরোধ এবং হরতালের কারণে প্রযুক্তি বাজারে প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম কিছুটা বেড়েছে সরবরাহ স্বল্পতায়। ল্যাপটপ, মনিটর, র‍্যাম, পাওয়ার সাপ্লাই, মাদারবোর্ড, পিন্টারসহ অন্যান্য পন্যগুলো  দু’শ থেকে চারশ’ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে।

তবে আগের চেয়ে কমে দামে বিক্রি করার ব্যতিক্রমী ঘটনাও ঘটছে। এক বিক্রেতা জানান, ‘আমরা আগের চেয়ে কম দামে ডেস্কটপ কম্পিউটার বিক্রি করছি। প্রতি কম্পিউটারে  আগের তুলনায় ৪-৫ হাজার টাকা কম নেওয়া হচ্ছে। ’ দৈনন্দিন খরচ তুলতেই এমনটা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

টানা ছয় দিন অবরোধের পর শনিবার থেকে আবার অবরোধ-হরতাল শুরু হওয়ায় বিকিকিনি নেই বললেই চলে। বিক্রেতারা জানান, শুধু হার্ডডিস্ক নয়- টানা অবরোধের কারণে অন্যান্য পণ্য সরবরাহও কমে গেছে। অবরোধে মার্কেট খোলা রাখলেও ক্রেতা নেই বললেই চলে। এতে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কেউ কেউ লোকসানের আশংকাও করছেন। তবে শুক্রবার অবরোধ না থাকায় অনেকেই বাজারে এসেছিলেন। সেদিন মার্কেট বেশ জমেছিল বলে জানান বিক্রেতারা। পুরো সপ্তাহের ক্রেতা একদিনে সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে অনেককে।

আর শনিবার অবরোধে দেখা গেছে একদম ভিন্ন চিত্র। বিক্রেতারা দোকানে অলস সময় কাটিয়েছেন। অপরদিকে দোকানের মালিকরা খুব বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েছে দৈনন্দিন খরচ পোষানো নিয়ে। রাজনৈতিক অচলাবস্থার নিরসন না হলে তাদের দোকান বন্ধ রাখা ছাড়া গতি থাকবে না বলে মনে করছেন সাইবার প্লাজার আতাউল ওহাহিদ মুবিন।

১৯৯৯ সালে আইডিবি ভবনে বিসিএস কম্পিউটার সিটির যাত্রা শুরুর পর এমন অবস্থা আর হয়নি বলে মন্তব্য  অনেকে দোকানির। বছরের অন্য সময় যেখানে ভিড় লেগেই থাকে সেখানে আইডিবির দোকানগুলো এখন একদম ফাঁকা। দোকানগুলোতে সেই চিরচেনা ব্যস্ততা নেই বললেই চলে। সেলসম্যানরা অলস বসে থাকছেন আর মালিকরা বসে আছেন নিরাশভাবে।

Related posts

টি মতামত

  1. লাকি এফএম said:

    আমার মতে এগুলো কৃত্তিম সংকট, কারন মার্কেটে এগুলোর অভাব অন্তত আমি একজন লোকাল বিক্রেতা হিসেবে ফিল করছিনা,
    একটু বেশি লাভের আশায় এমনটা হয়ে থাকে সাধারনত

*

*

Top