ই-কমার্স সাইটের অন্দরের খবর!

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ভার্চুয়াল বনিকরা প্রযুক্তির কল্যাণে চমক দিচ্ছে ক্রেতাদের, বাড়াচ্ছে ব্যবসার পরিধি। বিপনণ কৌশল আর তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারে আজকাল নির্ধারিত হচ্ছে ভার্চুয়াল কারবারের লাভ-ক্ষতি। এ যুগের অভিধানে ফ্যাশ সেলস ও প্রাইভেট সেলস বলে দুটি কথা আছে। প্রচলিত বাজারের নিয়মিত দামের চেয়ে অনেক কমে পণ্য দেওয়া হয় অনলাইননির্ভর বিকিকিনিতে। কিন্তু দু-একটা প্রশ্ন রয়েই গেলো! অনলাইনে নিয়মিত দামের চেয়ে কমে একটি পণ্য কিভাবে বিক্রি হয়? কতইবা লাভ হয় এতে?

ভারতভিত্তিক অনলাইন কেনাকাটার পোর্টাল ব্রেন্ডমাইল ডট কমের সিইও ভেহবি সিনান টুনালিওগলুর মতে, অনলাইন সেবাটা এককেন্দ্রিক না, কোনো নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এতে ক্রেতা বা ভোক্তা অনেক। প্রচলিত দোকানের পাশাপাশি অনলাইনে কেনাকাটার সুযোগ থাকায় উৎপাদনের তালিকা বড় করতে হচ্ছে জোগানদাতাদের। তাই বাড়ছে মুনাফাও। কেনো ছাড়ের ছড়াছড়ি! অনলাইন কেনাকাটার সাইটে একটি পন্যের দামের সাথে ২০% ছাড় দেখে তো অবাক! ঘটনা কী? দোকানে ছাড় নেই, অথচ এরা দেয় কীভাবে? তাহলে কী নকল পণ্য! ‘এমন শত প্রশ্ন। আসল ঘটনা মজার।

Ecommerce-site-TechShohor

একটা পণ্য উৎপাদনের পর থেকে গ্রাহক বা ভোক্তা পর্যন্ত আসে অনেক হাত ঘুরে। তাই পন্যের দাম বেড়ে যায়। সরবরাহ, বিজ্ঞাপন, বিপননসহ আনুষঙ্গিক খরচের কথা মাথায় রেখেই একটি পন্যের দাম নির্ধারিত হয়। তাই খরচটাও বেশি হয়। অন্যদিকে, অনলাইনে বিক্রির ক্ষেত্রে এত সব ঝামেলা নেই।

উৎপাদনের পর তেমন কোনো খরচ নেই। শুধু ঠিকঠাক ঠিকানায় সরবরাহ করতে পারলেই হলো। এখানে খুচরা বিক্রেতা বা মধ্যস্বত্তভোগীদের বালাই নেই। লাভের প্রায় পুরোটাই যায় উৎপাদকের পকেটে। তাই উৎপাদক প্রতিষ্ঠান তুলনামূলক কম মূল্যে বা ছাড়ে পন্যের দাম হাঁকতে পারছে। তবে স্থানভেদে ভিন্নতাও আছে। বেশি গ্রাহক, বেশি ছাড়; লাভও বেশি কেনাকাটার সাইটে আছে, দলীয় কারবারও। এসবে দেনদরবার হয় বিভিন্ন প্যাকেজে। সাধারনত গ্রুপ ইভেন্টগুলো লক্ষ্য করেই এ অফার।

রেস্টুরেন্ট, হোটেল, ভ্রমন, আয়োজনের মতো বেশি সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহন আছে, এমন সব ইভেন্টের ক্ষেত্রে বিশেষ অফার বা ছাড় দেয় অনলাইন কারবার বা কেনাকাটার সাইটগুলো। এ ক্ষেত্রে তারা বুকিংয়ের দায়িত্বও নেয়। ই-কমার্স সাইটের সাথে কিছু পার্টনার প্রতিষ্ঠান থাকে, যারা এ ধরনের কার্যক্রমে সমন্বয় করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সাইটে নিশ্চিত করার পরও কাঙ্খিত হোটেলে গিয়ে বুকিংয়ের রেকর্ড পায়নি গ্রাহক, অর্থাৎ হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে সেবাদানকারী সাইট বুকিংয়ের কোনো তথ্য পাঠায়নি। তাই বুকিং বা বিল পরিশোধের আগে সাইটের বিশ্বস্থতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু অনলাইনে সব হোটেলের তথ্যই পাওয়া যায়, গ্রাহক যেখানে কম পায় সেখানেই যাবে। তাই অনলাইন মধ্যস্থতাকারী সাইটের মাধ্যমে কম খরচে সেরা অফারটিই দেয় অনেকে।

তা ছাড়া দিনক্ষণ ভেদে হোটেলে কখনো ভ্রমনকারীর অনেক চাপ থাকে, আবার কোনো কোনো সময় অনেক রুমই খালি থাকে। তখন হোটেল কর্তৃপক্ষ মধ্যস্থতাকারী সাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন প্যাকেজে নিয়মিত রেটের চেয়ে অনেক কমে অফার করে। এতে দুটো লাভ হয়, ক্ষতি পোষানো যায় এবং সঙ্গে প্রচারও হয়।

– বিভিন্ন ওয়েবসাইট অবলম্বনে তারেক হাবিব

ট্যাগ

Related posts

Comments are closed.

Top