কোডিং নিয়ে বেসিসের সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি

তুহিন মাহমুদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোডিং নিয়ে ভীতি দূর করতে সপ্তাহব্যাপী একটি কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বেসিস। এর অংশ হিসাবে ১০ ডিসেম্বর রাজধানীতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ঢাকায় ও বেসিস মিলনায়তনে ১৩ ডিসেম্বর সকাল ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ‘বেসিস আওয়ার অব কোড’ অনুষ্ঠিত হবে।

বিশ্বের ১৬০টি দেশের মতো বাংলাদেশেও ৯ থেকে ১৫ ডিসেম্বর ‘কম্পিউটার সায়েন্স এডুকেশন উইক’ পালনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)।

মঙ্গলবার সংগঠনের সভাকক্ষে ‘বেসিস আওয়ার অব কোড’ শীর্ষক এ আয়োজন সম্পর্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে এসব তথ্য জানান বেসিস সভাপতি শামীম আহসান।

BASIS Hour of code-TechShohor

মত বিনিময় অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সপ্তাহব্যাপী ‘বেসিস আওয়ার অব কোড’ হচ্ছে প্রোগ্রাম সম্পর্কে এক ঘন্টার একটি পরিচিত পর্ব। কোডিং সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের মাঝে ভীতি দূর করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই যে কেউ অংশ নিতে পারবেন। নিজস্ব ক্যাম্পাস অথবা সুবিধাজনক স্থানে নিজেদের মতো করে সপ্তাহব্যাপী এ কার্যক্রম আয়োজন করা সুযোগ রাখছে বেসিস। অংশ নিতে পারবে।

কোডিং বিষয়ক এ আয়োজনে অংশ নিতে আগ্রহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে বেসিস। শিক্ষার্থীদের জন্য হলেও এতে যে কোনো বয়সের মানুষ অংশ নিতে পারবেন। গুগল হ্যাংআউটের মাধ্যমে তারা অনলাইনে প্রোগ্রামিং শিখতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে বেসিস সভাপতি বলেন, বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোতে এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বাংলাদেশের কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বিরাট সুযোগ। তবে এ জন্য নিজেদের দক্ষ হিসাবে গড়ে তুলতে হবে।

শামীম আহসান বলেন, বর্তমানে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে জনবল প্রয়োজন কম্পিউটার বিজ্ঞান থেকে পাশ করা ছাত্রের তিন গুণ। পাশাপাশি ইংল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালিতে ২০১৫ সাল নাগাদ এ খাতে দক্ষ জনবলের ঘাটতি হবে আড়াই লাখ। আর ২০২০ সাল নাগাদ শুধু যুক্তরাষ্ট্রে এ জনবল ঘাটতি ১০ লাখ এবং বিশ্বব্যাপী এক কোটিতে পৌছাবে। এ সুযোগ নিতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের এখনই উদ্যোগ নিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বেসিস সভাপতি আরও বলেন, বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রা দ্রুতগতির হলেও দেশে তুলনামূলকভাবে কম্পিউটার বিজ্ঞান তথা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী কম। বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ জনবলের অভাব পূরণে বাংলাদেশিরা একটু চেষ্টা করলে সহজেই প্রবেশ করতে পারবে। আর এ জন্য প্রয়োজন শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার বিজ্ঞানে আগ্রহী করে তোলা। এরই অংশ হিসাবে বেসিস এ অনুষ্ঠান আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে।

মত বিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বেসিসের সিনিয়র সহ-সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, মহাসচিব রাসেল টি আহমেদ এবং পরিচালক ও এ কর্মসূচির আহবায়ক শাহ ইমরাউল কায়ীস।

Related posts

*

*

Top