মাইক্রোসফটের এক্সবক্স ওয়ান ২৪ ঘন্টায় বিক্রি ১০ লাখ

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রতিদ্বন্দ্বী সনির গেইমিং কনসোল প্লেস্টেশন ফোরের বাজারে আসার রেশ না কাটতেই মাইক্রোসফটের এক্সবক্স ওয়ানের বিক্রি শুরু হলো শুক্রবার। এর মধ্যে দিয়ে গেইমিং কনসোল ময়দানে আরেকবার মুখোমুখি কোম্পানি দুটি।

দীর্ঘ প্রচারণার পর এক সপ্তাহ আগে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে ও কানাডায় প্লেস্টেশন ফোরের বিক্রি শুরু হয়। যুক্তরাজ্যের বাজারে এখনও আসেনি। অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এগিয়ে থাকতে এক্সবক্স ওয়ান ১৩ দেশে এক যোগে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে শুধু জাপানে ছাড়া হবে আগামী বছরের প্রথম দিকে। বিক্রির শুরুটা স্মরণীয় হয়েছে টেক জায়ান্ট মাকক্রোসফটের। প্রথম ২৪ ঘন্টায় বিক্রি হয়েছে ১০ লাখেরও বেশি।

xbox one_techshohor

মাইক্রোসফট নতুন এ গেইমিং কনসোল উদ্বোধন উপলক্ষে শুক্রবার নিউ ইয়র্ক, লস এঞ্জেলস ও লন্ডনে একই সময়ে অনুষ্ঠান করে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার মধ্য রাত থেকেই যুক্তরাজ্যের তিনশ’ গেমিং শপে এবং একশ’ টেসকো স্টোরে কিনতে পাওয়া যাবে এক্সবক্স ওয়ান। এ জন্য মাঝ রাত থেকেই গেইমারদের দোকানগুলোর সামনে ভীড় করতে দেখা যায়।

এক্সবক্স ওয়ান বাজারে আনার আগে থেকেই নানা ধরনের প্রচারণা চালিয়ে আসছে মাইক্রোসফট। এর অংশ হিসোব প্রথম বিক্রির জন্য সংরক্ষিত এক্সবক্স ওয়ান কলসোলটি নিউজিল্যান্ডের একটি অ্যাকুরিয়ামে হাঙ্গরের পাহারায় ছিল। ২০টি হাঙ্গর কনসোলটিকে পাহারা দেয় দিন-রাত ২৪ ঘন্টা।

বিবিসিকে মাইক্রোসফটের প্রধান উৎপাদক কর্মকতা মার্ক হোয়াইটেন বলেন, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি প্রি-অর্ডার পেয়েছেন তারা। এক্সবক্স ৩৬০ থেকে বেশি সাড়া পাওয়া গেছে। এক্সবক্স ওয়ান উন্মুক্তের মাধ্যমে শুরু হল নতুন এক অধ্যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, এক্সবক্স ওয়ানে নতুন অনেক ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। মাইক্রোসফটের বিখ্যাত মোশন সেন্সর কাইনেক্ট থাকছে এক্সবক্স ওয়ানে যা আগের যে কোন সময়ের চেয়ে উন্নত ও নিখুঁত।

এদিকে, বাজারে আসার কয়েকদিনের মধ্যেই বাজিমাত করেছে সনির অষ্টম প্রজন্মের গেইমিং কনসোল প্লেস্টেশন ফোর। কোম্পানিটির লক্ষ্য ছিল প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক্রোসফটের এক্সবক্স ওয়ান বের হওয়ার আগেই যত বেশি গেইমারের কাছে সম্ভব পিএসফোর পৌঁছানো। আর এ ক্ষেত্রে বেশ সফল হয়েছে তারা।

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় মুক্তি দেওয়ার পরপরই ২৪ ঘণ্টায় ১০ লাখ কনসোল বিক্রি হয়। এর দাম রাখা হয়েছে ৪০০ ডলার।

সনি কম্পিউটার এন্টারটেইনমেন্টের প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড্রু হাউজ এ ব্যাপারে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘গেইমারদের প্রত্যাশা পূরণের অঙ্গীকার নিয়ে পিএসফোর তৈরি করা হয়েছে। তাদের দারুণ প্রতিক্রিয়ায় আমরা উচ্ছ্বসিত।’ তিনি জানান, আগামী নভেম্বরে ইউরোপ ও লাতিন আমেরিকায় মুক্তির দিকে এখন তাকিয়ে আছে সনি।

পিএসফোর বের হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন গেইমশপ ও রিটেইল দোকানের সামনে গেইমারদের মধ্যরাত পর্যন্ত লাইন ধরে দাঁড়িয়ে কনসোলটি কিনতে দেখা গেছে।

গেইমারদের মতে, নতুন নতুন গেইম ও কনসোলের কারণে ২০১৩ সালটি যেন গেইমাদের জন্যই। এর মধ্যে বছরের শেষ দিকে দুটি নতুন কনসোল বাজারে আসায় তা স্মরণীয় হয়ে রইল গেইমারের জন্য।

এক্সবক্স ওয়ান বাজারে আসার মাধ্যমে সনির প্লেস্টেশন ফোরের সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে এখন মাইক্রোসফট। এখন দেখায় অপেক্ষায় কে জয়ী হয় এ যুদ্ধে।

যুক্তরাজ্যে এক্সবক্স ওয়ানের দাম পড়বে ৪২৯ পাউন্ড। অন্যদিকে প্লে স্টেশন ফোরের দাম ৩৪৯ পাউন্ড।

বিবিসি অবলম্বনে তুসিন আহমেদ

Related posts

*

*

Top