আগামী বছরেই ডিজিটাল সিগনেচার

তুহিন মাহমুদ, টেক শহর স্টাফ কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিশ্বব্যাপী মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের বাজার এখন ৮ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। ২০১৬ সাল নাগাদ এটি প্রায় ২২ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌছাবে। আর এই বাজারে বাংলাদেশি অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট ও ডিজাইনারদের সংখ্যা খুবই নগন্য। তাই দেশের তরুণদের এই বিলিয়ন ডলারের আন্তর্জাতিক বাজারে সম্পৃক্ত করতে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

‘জাতীয় পর্যায়ে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়নে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি কর্মসূচি’ শীর্ষক এই আয়োজনে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সারদের মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়ন বিষয়ক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। নীতি নির্ধারণ পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও সাধারণের মধ্যে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারের মাত্রা বাড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এই প্রকল্পে। আর এক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাথে যৌথভাবে কাজ করতে সমঝোতা স্বাক্ষর করেছে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান ইএটিএল (এথিকস অ্যাডভান্স টেকনোলজি লিমিটেড) ও এমসিসি (মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স লিমিটেড। রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) মিলনায়তনে এই সমঝোতা স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।

apps development-MoICT-TechShohor

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম খান। উপস্থিত ছিলেন কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক ড. মো: আবুল হাসান, ইএটিএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুবিন খান ও এমসিসি’র এস এম আশরাফ কবির। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস-বেসিস সভাপতি শামীম আহসান।

প্রধান অতিথি নজরুল ইসলাম খান বলেন, আগামী বছরেই দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি অফিসগুলোতে ডিজিটাল সিগনেচার চালু করা হবে। প্রথম বছর আইসিটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে খরচ বহন করা হবে। পরের বছর থেকে নিজেদেরই এই খরচ বহন করতে হবে। উদ্যোক্তা তৈরিতে লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। যশোরে দেশের প্রথম কম্পিউটার ও নেটওয়ার্কিং ল্যাব তৈরি করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এটি সারাদেশে বাস্তবায়ন করা হবে। চলমান আরো প্রোগ্রামের মধ্যে রয়েছে আইসিটি প্রশিক্ষণ, জনতা টাওয়ার সফটওয়্যার টেক পার্ক চালু, কুয়েট ইনকিউবেটর তৈরি, আইটি ভিলেজ তৈরি, মোবাইল অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি। চলমান বিভিন্ন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ইনফরমেশন হাইওয়ে তৈরি, বাংলাগভনেট, বেসিক আইসিটি স্কিল ট্রান্সফার, যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক, ক্যাপাসিটি বিল্ডিং অন আইটিইই ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি।

তিনি আরও জানান, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নিতে আগামী ২০১৪-২০২১ সাল এর কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের তরুণদের উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা করতে এন্টারপ্রেওনার ইনস্টিটিউট, অনলাইন নিরাপত্তায় সাইবার সিকিউরিটি অথরিটি, দেশের ৬৪ টি জেলায় ৬৪টি কম্পিউটার ল্যাব তৈরি ইত্যাদি বিষয় রয়েছে। এছাড়া সিলেট, নাটোরে হাইটেক পার্ক, রাজশাহীতে বরেন্দ্র সিলিকন সিটিসহ বেশ কয়েকটি পাইপলাইন প্রজেক্ট রয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ১ বছর ২ মাস মেয়াদী এই কর্মসূচি ৮টি ধাপে সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে রয়েছে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন আইডিয়া উদ্ভাবন, মোবাইল অ্যাপস আইডিয়া সংকলন প্রকাশ, অ্যাপস সেনসেটাইজেশন বুট ক্যাম্প, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণ, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন প্রস্তুত ও প্রকাশ, জাতীয় মোবাইল অ্যাপস প্রতিযোগিতার আয়োজন ও রিসোর্স পোর্টাল তৈরি করা। আগামী বছরের ডিসেম্বরে এই কর্মসূচির মেয়াদ শেষ হবে।

Related posts

*

*

Top