বাংলাদেশে ক্রমশই বিজ্ঞান শিক্ষার্থী কমছে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বিজ্ঞান চর্চায় বিশ্বের অন্যান্য দেশ যেখানে এগিয়ে চলেছে সেখানে বাংলাদেশ ক্রমেই পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রকৌশলী, অর্থনৈতিকসহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ক্রমেই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। ফলে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, কর্মক্ষেত্রেও বিপুল সংখ্যক দক্ষ জনবলের সংকট দেখা দিয়েছে। শুধু চট্টগ্রামেই গত ১০ বছরে বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ৩৬ শতাংশ থেকে ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে।

বৃহষ্পতিবার চট্টগ্রাম চেম্বারে এ কে খান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায়, চিটাগাং রিসার্চ ইনেশিয়েটিভ (সিআরআই) এবং পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। অনুষ্ঠানে স্কুল-কলেজে বিজ্ঞান শিক্ষার হালচাল নিয়ে বিশেষ গবেষণামূলক ‘হালখাতা চট্টগ্রাম’ নামে বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৩ প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল, স্কুল-কলেজে বিজ্ঞান শিক্ষার হালচাল ও দক্ষতাভিত্তিক বিশ্বমানের চট্টগ্রাম নগরী গড়ে তোলা।

Science students declines_ Tech Shohor

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় সেমিনারে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ একাডেমী অব সায়েন্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ড. শমসের আলী, একে খান ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি সেক্রেটারী সালাউদ্দিন কাসেম খান, বাংলাদেশস্থ জাইকার কান্ট্রি ডিরেক্টর তাকাও তোদা, বেস টেকনোলজিসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান শিবলী, বিজিসি ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. সরোজ কান্তি সিংহ হাজারী, বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির কমান্ডেন্ট ড. সাজিদ হোসেন, ড. মঈনুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, প্রফেসর জাহাঙ্গীর চৌধুরী, জয়নাব বেগম, ভাস্কর ভট্টাচার্য্য প্রমুখ।

গবেষণামূলক প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান শিক্ষার এ ক্রমসংকোচনের ফলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তাঁরা বলেন, জাতীয় সমাজতত্ত্বে স্বল্প পরিশ্রমে সাফল্য লাভের প্রবণতা বা মানসিকতা দেখা দিয়েছে। ব্যবসায় শিক্ষার একচেটিয়া দাপটে ভারসাম্যহীনতার দিকে চলে যাচ্ছে শিক্ষা ক্ষেত্র। শিক্ষার মান নিম্নমুখিতার দিকে ধাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষা ক্ষেত্রে গ্রাম-শহরের মধ্যে বৈষম্যও প্রকট হয়ে উঠেছে। গ্রামাঞ্চলে বিজ্ঞান শিক্ষার্থীর হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। এটা দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার অন্তরায় বলেও মন্তব্য করা হয়েছে। বিজ্ঞান শিক্ষার সংকট মোকাবিলা করা বর্তমান সময়ে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘বিজ্ঞান এবং দক্ষতা : চট্টগ্রামকে দক্ষ নগরী গড়ে তোলা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ড. জিল্লুর রহমান। এতে তিনি উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে বিজ্ঞান শিক্ষার্থী ক্রমেই কমে চলেছে। এতে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, কর্মক্ষেত্রেও দক্ষ জনবলের সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি গার্মেন্টস ও শিল্পকারখানায় ২৫ শতাংশ দক্ষ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন জনবলের সংকট রয়েছে। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় চট্টগ্রামে বিজ্ঞান যাদুঘর প্রতিষ্ঠার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নয়ন এবং দক্ষতা বাড়াতে পারলেই চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক উন্নয়নের চালক এবং সবচেয়ে সুন্দর নগরীতে পরিণত করার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা যাবে। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে চট্টগ্রাম বন্দর একটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। এর যথোপযুক্ত ব্যবহার করা গেলে শিল্প উৎপাদন, সংযোজন শিল্প, বাণিজ্য ও সেবা খাতে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক হাবে পরিণত হবে।

এ কে খান ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি সালাউদ্দিন কাসেম খান বলেন, জাহাজ শিল্প, গার্মেন্টস, চামড়া খাতে চট্টগ্রাম অনেক এগিয়ে গেছে। কোরিয়া সরকারের সহায়তায় স্থাপিত হয়েছে টেকনিক্যাল কলেজ। বিজ্ঞান শিক্ষা ও চট্টগ্রামের উন্নয়নে জাইকার সহায়তা আরো বাড়ানোর দাবি করেন তিনি।

বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সের সাবেক সভাপতি ড. শমসের আলী বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্বারোপ করে বলেন, এইচএসসি শ্রেণী পর্যন্ত বিজ্ঞান পড়া অত্যাবশ্যক। কারণ এরপর থেকে যেকোনো মাধ্যমে পরিবর্তন করা যায়। পৃথিবীতে পড়াশোনার কায়দা বদলে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিজ্ঞানের অবদানে বিশ্ব এগিয়ে গেলেও বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে। ভালো শিক্ষার জন্য ভালো শিক্ষকের প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য সুরম্য অট্টালিকার দরকার হয় না।

জাইকার কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. তাকাও তোদা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ও ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য চট্টগ্রাম এখনো বিশ্বে খ্যাতি রয়েছে। চট্টগ্রামে পানির সমস্যা সমাধান, সংস্কৃতি ও শিক্ষার উন্নয়নে জাইকা কাজ করে যাচ্ছে। উন্নয়ন ধারার সাথে শিক্ষার উন্নয়নে জাইকার সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

– বিজ্ঞপ্তি

ট্যাগ

Related posts

Comments are closed.

Top