সায়েন্স অলিম্পিয়াডের সদস্য পদ পেলো এসপিএসবি

টেক শহর ডেস্ক : আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের সদস্য পদ পেলো বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির (এসপিএসবি)। সংগঠনটির এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষে এর সাধারণ সম্পাদক ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী বক্তব্য রাখেন। নিচে পুরো বক্তব্যটি তুলে ধরা হলো-

প্রিয় বন্ধুরা,
আপনারা অনেকেই জানেন আমাদের দেশে বিজ্ঞান মেলার একটা ভাল ঐতিহ্য গড়ে উঠেছিল আবদুল্লাহ আলমুতী, জহুরুল হক, আলী আসগর স্যারদের হাত ধরে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সেই ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে। দেশে বর্তমানে বিজ্ঞান শিক্ষার্থীর সংখ্যা ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। আবার বিজ্ঞান মেলাও কেমন ম্রিয়মান হয়ে পড়েছে। গেল কয়েক বছর ধরে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি কিছু উদ্যোগ এই অবস্থার উন্নতি ঘটাতে পারে। এজন্য দরকার বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ওপর শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করে তোলা।

বেসরকারি নানান উদ্যোগের মধ্যে গত কয়েকবছর ধরে বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দেশের প্রায় দুই শতাধিক স্কুলে বিজ্ঞান মেলা, বিজ্ঞান শিক্ষকদের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সব আয়োজন ইতোমধ্যে তৃণমূল পর্যায়ে কিছুটা হলেও বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। ২০১২ সাল থেকে বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি জাপান ভিত্তিক বিজ্ঞান সংগঠন সায়েন্স ফোরাম ২১ এর সহযোগিতায় উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষকদের জন্য কর্মশালার আয়োজন করেছে।

শিশু কিশোরদের বিজ্ঞানের প্রতি অনুরাগী ও বিজ্ঞানের মূল রীতিনীতির ওপর আগ্রহী করে তুলতে আয়োজন করা হয়েছে শিশু কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস। পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত সার্চ ইঞ্জিন গুগল আয়োজিত সায়েন্স ফেয়ারেও যাতে আমাদের শিশু-কিশোররা যোগ দিতে পারে সে জন্য আমরা এ উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এরই ফলশ্রুতিতে গত ৩১মে ও ১ জুন ঢাকার ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) ধানমন্ডি ক্যাম্পাসে সফল ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে Èফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক-বিএফএফ শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস ২০১৩’। এসপিএসবি ও বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের (বিএফএফ) যেৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ বিজ্ঞান কংগ্রেসে জুনিয়র ও সিনিয়র বিভাগে ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা বৈজ্ঞানিক নিবন্ধ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও পোস্টারের মাধ্যমে নিজের ধারণা প্রকাশ করে।

ijso_pic

প্রিয় সাংবাদিকগণ,
প্রথম বারের মতো আয়োজিত এ কংগ্রেসে ছিলো বিজ্ঞান নিবন্ধ, প্রকল্প উপস্থাপন, পোস্টার তৈরি ও প্রকল্প প্রদর্শন। এছাড়া অংশগ্রহণকারী শিক্ষাথর্ীদের জন্য ছিলো একাধিক কর্মশালা যেখানে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান গবেষণার মেৌলিক বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছে। কংগ্রেসে অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩০ জনকে নিয়ে আমরা আয়োজন করেছি  Èপ্রথম জগদীশ চন্দ্র বসু বিজ্ঞান ক্যাম্প’। আমাদের কংগ্রেস আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চেৌধুরী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মাননীয় প্রতিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক রেজওয়ান খান, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. এ. এম জাকারিয়া, বিশষ্টি জিন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চেৌধুরীসহ অনেকে।

প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুরা,
বিজ্ঞান কংগ্রেসে সারা দেশের ৩০টি জেলার ১১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ২৭০ জন। এর মধ্যে জুনিয়র ক্যাটাগরিতে ১০৭ জন এবং সিনিয়র ক্যাটাগরিতে ১৬৩ জন। বিজ্ঞান কংগ্রেসকে সাফল্যমন্ডিত করতে এবং শিশু-কিশোরদের উদ্ধুদ্ধ করে তুলতে আমরা সারা দেশে মোট ১৩টি কর্মশালা করেছি। ঢাকার বিভিন্ন স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক, বিজ্ঞান শিক্ষক ও বিজ্ঞান ক্লাবের মডারেটরদের নিয়ে একদিন মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সারা দেশে ৫৮টি জেলায় ৪৮০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক ও বিজ্ঞান শিক্ষক বরাবর ও মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান কংগ্রেসে অংশগ্রহনের জন্য আহবান জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড (আইজেএসও)
এরই অংশ হিসেবে আমরা আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে (আইজেএসও) অংশগ্রহনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করি। এরই প্রেক্ষিতে এসপিএসবি আইজেএসও’র সদস্যপদ পেয়েছে। এখন থেকে এসপিএসবি’র মাধ্যমে আাইজেএসও’র বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ হতে বাছাইকৃত শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করতে পারবেন। আইজেএসও নিয়মিতভাবে প্রতি বছরই বিশ্বব্যাপি পদার্থ, রসায়ন এবং জীববিদ্যার উপরে প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।  ২০০৪ সাল থেকে আইজেএসও নিয়মিত ভাবে এ আয়োজন করছে।

ইতিমধ্যে আইজেএসও চলতি বছর ৩-১২ ডিসেম্বর ভারতের পুনেতে অনুষ্ঠেয় ১০ম আন্তর্জাতিক সায়েন্স অলিম্পিয়াডে আমাদের পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রন জানিয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে অলিম্পিয়াডে

পর্যবেক্ষক হিসেবে আমার যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। আমি সেখানে বাংলাদেশের পূর্ণ সদস্য পদের জন্য আবেদন করবো। আর্ন্তজাতিক বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের এই প্রতিযোগিতায় প্রত্যেক দেশ থেকে একটি করে দল অংশগ্রহন করতে পারবে। ৬ সদস্যের শিক্ষার্থী এবং  ৩ জন পরিচালক মিলে একটি দল গঠন করতে হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারকদের রায়ে অংশগ্রহনকারী দলগুলোর মধ্য থেকে ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম ১০ ভাগকে দেওয়া হয় স্বর্ণ পদক, দ্বিতীয় ২০ ভাগ শিক্ষার্থীদেরকে দেওয়া হয় রেৌপ্য পদক এবং সবশেষ ৩০ ভাগকে দেয়া হয় ব্রোঞ্জের পদক।

আমরা জেনেছি গত মঙ্গলবার সরকার সারাদেশে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয়করার জন্য চার বছর মেয়াদী একটি প্রকল্ড গ্রহণ করেছে। যদিও প্রকল্পের বিস্তারিত এখনো জানা যায়নি, তারপরও আমরা আশা করবো, এই প্রকল্প আমাদের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করতে সহায়তা করবে। সরকারি এবং বেসরকারি নানা উদ্যোগ একুম শতকের উপযোগী বিজ্ঞান মনস্ক একটি জাতি গঠনে আমাদের সহায়তা করবে বলে আমরা দৃঢভাবে বিশ্বাস করি।

আপনাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

– ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি)

*

*

Top