Maintance

শিশু কিশোরদের প্রোগ্রামিং শেখাতে তৈরি প্রশিক্ষকরা

প্রকাশঃ ৫:২৬ অপরাহ্ন, এপ্রিল ১৭, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১২:১৯ পূর্বাহ্ন, এপ্রিল ১৮, ২০১৮

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : জাতীয় পর্যায়ে শিশু কিশোর প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার ব্যাপক কর্মযজ্ঞের শুরুতেই প্রোগ্রামিং শেখানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন প্রশিক্ষকরা।

রাজধানীর খামারবাড়ি এলাকায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে সারাদেশ হতে আগত ৩৬০ জনকে এ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার দুই দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার উপস্থিত হয়ে প্রশিক্ষকদের উৎসাহ দেন।

এসময় তিনি জানান, সরকার আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে  তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করতে যাচ্ছে।

কর্মশালার প্রথম দিন সোমবারে পাইথন প্রোগ্রামিং ভাষার ওপরে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার দেয়া হয়েছে স্ক্র্যাচের।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), ইয়াং বাংলা এবং সেন্টার ফর রিসার্চ আন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজক।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা দেশের বাছাই করা ১৮০ টি শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষক এবং ল্যাব সমন্বয়ক। ল্যাবে এই সমন্বয়কদের দিয়েছে ইয়াং বাংলা।

প্রশিক্ষণ শেষে তারা নিজ নিজ জেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সঙ্গে সমন্বয় করে শিশু কিশোর বাছাই করে প্রতিযোগী হিসেবে তাদের প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষণ দেবেন।

সিআরআইয়ের সহযোগী সমন্বয়ক তন্ময় আহমেদ টেকশহরডটকমকে জানান, কীভাবে প্রোগ্রামিং শেখাতে সে বিষয়ে প্রশিক্ষকদের তৈরি করা হচ্ছে। এরপর তারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে শিশু কিশোরদের প্রোগ্রামিংয়ের জন্য তৈরি করবেন।

তন্ময় জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় ৬ষ্ঠ হতে দ্বাদশ শ্রেণির পরিবর্তে ৬ষ্ঠ হতে ১০ম শ্রেণিকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কারণ একাদশ ও দ্বাদশে প্রোগ্রামিংয়ের সিলেবাস রয়েছে । এছাড়া প্রোগ্রামিং ভাষা সি বা সি প্লাস প্লাস এর পরিবর্তে পাইথনকে বেছে নেয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রথম বারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয়কেও প্রতিযোগিতার আওতায় আনা হচ্ছে। প্রাথমিকের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে স্ক্র‍্যাচ প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা। স্ক্র্যাচে সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের মতো করে স্টোরি, গেইমস, অ্যানিমেশন বানাতে বানাতে প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহী হয়ে উঠবে তারা।

Symphony 2018

এই প্রোগ্রামিং প্রশিক্ষণ ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সত্যিকারভাবে শিশু কিশোররা যেন শিখতে পারে, আত্মবিশ্বাসী হয় তার জন্য অনেক চিন্তাভাবনা করে কাজ করা হচ্ছে-বলছিলেন সিআরআইয়ের এই সমন্বয়ক।

যেভাবে হবে এই প্রতিযোগিতা :

 প্রতিযোগিতা হবে দেশের ৬৪ টি জেলায়। রেজিস্ট্রেশন উম্মুক্ত হলেই প্রথমে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব আছে এমন বিদ্যালয়গুলোতে রেজিস্ট্রেশন এবং প্রতিযোগিতার প্রশিক্ষণসহ প্রাথমিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতা করা হবে।

প্রথম পর্যায়ে ল্যাবের প্রতি ব্যাচে তৃতীয় হতে পঞ্চম শ্রেণির বাছাই করা ১৫ জন শিক্ষার্থী নেয়া হবে। এই ব্যাচ হতে ৩ জন করে আলাদা আলাদা ৫টি দল করা হবে। দলগুলোকে তিন দিনের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। এই ক্যাটাগরির প্রোগ্রামিং ভাষা হবে স্ক্র্যাচ।

দ্বিতীয় পর্যায়েও এভাবে ১৫ জন শিক্ষার্থীর ৫টি দল করা হবে। তবে এটি হবে ৬ষ্ঠ হতে ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে। এদের প্রোগ্রামিং ভাষা হবে পাইথন।

প্রশিক্ষণের পর শিক্ষার্থীরা দুই-তিন সময় পাবেন অনুশীলন ও প্রজেক্ট তৈরি করার। কেউ চাইলে সি বা সি প্লাস প্লাস প্রোগ্রামিং ভাষায়ও প্রজেক্টও জমা দিতে পারবেন।

সারাদেশে প্রতিযোগিতা হবে এক সময়ে অনলাইনে। দুই ক্যাটাগরির প্রতিযোগিতা দুটি আলাদা দিনে হবে।

প্রতিযোগিতায় প্রতি জেলা হতে বিজয়ী হবে একটি টিম। প্রত্যেজ জেলা বিজয়ীদের নিয়ে এরপর দুই দিনব্যাপী স্ক্র্যাচ এবং পাইথনের জন্য দুটি জাতীয় ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে। প্রতিটি জাতীয় ক্যাম্পের প্রথম দিনে প্রশিক্ষণ এবং দ্বিতীয় দিনে জাতীয় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

এসব আয়োজন হবে ঈদুল ফিতরের আগেই।

ঈদের পর বিজয়ীদের নিয়ে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হবে। পুরস্কার বিতরণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকতে পারেন।

স্কুল পর্যায়ে এই প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা শুরু হয় ২০১৫ সালে। প্রথমবারে ৫০০টি বিদ্যালয় অংশগ্রহণ করে। এরপর ২০১৬ সালে এক হাজার বিদ্যালয় এবং ২০১৭ সালে ৪৩ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী এতে অংশ নেয়।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

Related posts/