Maintance

জিপিতে ছাঁটাই, কর্মীদের অবস্থান কর্মসূচি-সমাবেশ

প্রকাশঃ ১:০৭ অপরাহ্ন, এপ্রিল ১৭, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:০৭ অপরাহ্ন, এপ্রিল ১৭, ২০১৮

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এক কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন তার সহকর্মীরা।

মঙ্গলবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অপারেটরটির কার্যালয়ের লেভেল-২’ তে কর্মীরা অবস্থান নেন। এ সময় প্রায় দুই’শ কর্মী  জড়ো হন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি শেষে খাবারের বিরতিতে যান তারা।

এই কর্মসূচি হতেই বিকাল ৪টায় সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। কার্যালয়ের টাউন হলে সমাবেশ হবে।

চাকরিচ্যুত কর্মী বিএম জাহিদুর রহমান জিপির গুলশান লাউঞ্জের ব্যবস্থাপক। তিনি গ্রামীণফোন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের গঠন করা সংগঠন গ্রামীণফোন পিপলস কাউন্সিলের (জিপিপিসি) সাধারণ সম্পাদকও।

যৌন হয়রানির অভিযোগে তাকে চাকরিচ্যুত করেছে জিপি।

জিপিপিসির চেয়ারম্যান ও অ্যাপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. শফিকুর রহমান মাসুদ টেকশহরডটকমকে জানান, কর্মীদের ইনক্রিমেন্ট আন্দোলনকে দমিয়ে দিতে এই ষড়যন্ত্র। এই অভিযোগ মিথ্যা, এটি চেষ্টা করেও প্রমাণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

‘বিকালে সমাবেশ আছে। আমরা কর্তৃপক্ষকে চ্যালেঞ্জ করবো। সিদ্ধান্ত হতে না সরলে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি আসবে’-বলছিলেন মাসুদ।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে গ্রামীণফোন এক বিবৃতিতে জানায়, নিজস্ব কোড অব কন্ডাক্ট এবং যেকোনো আইনের লংঘনকে গুরুতর বিবেচনা করে তারা। আইন অনুযায়ী উল্লেখিত ‌ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো গ্রামীণফোনের কর্মকর্তা, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল উইমেন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএনডব্লিউএলএ)-এর প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত একটি স্বাধীন কমিটি তদন্ত করে। বেশ কয়েকজন অভিযোগকারীর দায়ের করা অভিযোগের সত্যতা পায় এই কমিটি । ঘটনা এবং তদন্তের ফলাফলের স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় কোম্পানি এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ।

Symphony 2018

অপারেটরটির কর্মী ও ইউনিয়ন নেতারা বলছেন, ২০১৬ সালে বিএম জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে এমন একটা অভিযোগ এনে তারা বিচার শুরু করে কমপ্লায়েন্স টিম। কিন্তু অভিযোগের কোনো প্রমাণ না থাকায় তারা আর এগোয়নি। তখন আইনগতভাবে বিচার শেষ হয়ে যায়।

সম্প্রতি জিপিপিসি গ্রামীণফোনের হেড অব কমপ্লায়েন্সের বিরুদ্ধে কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগসহ অনাস্থা আনে।

কর্মীরা মনে করছে এই চাকরিচ্যুতির অন্যতম কারণ এটি।

জিপিপিসি নেতারা জানান, আইনগতভাবে একই অভিযোগে দুইবার বিচার করার সুযোগ নেই। ২০১৬ সালে অভিযোগ প্রমাণ করতে না পেরে হাইকোর্টের ২০০৯ সালের একটি গাইডলাইনের ব্যবহার করে পুনরায় বিচার শুরু করে তারা।

এটির বিরুদ্ধে আদলতে মামলা করা হলে আদালত কমপ্লায়েন্স কার্যক্রম স্থগিত করেন। পরে গ্রামীণফোন আদালতকে জানায়, কোম্পানি যেহেতু কার্যক্রম স্থগিত করেছে তাই আর নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন নেই।

এরপর আবার জাহিদুর রহমানকে হাজির হওয়ার নোটিশ দিলে তিনি বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। এতে উভয়পক্ষের শুনানি হয়; কিন্তু আদেশের কপি আসার আগেই সোমবার রাতে তাকে বরখাস্ত করা হয়।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

Related posts/