Maintance

বিশ্বে তথ্য চুরির আলোচিত ১০ ঘটনা

প্রকাশঃ ৫:২২ অপরাহ্ন, এপ্রিল ৮, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, এপ্রিল ৯, ২০১৮

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ইন্টারনেট দুনিয়াতে তথ্য চুরি কিংবা হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটছে প্রতিদিন। অনেক সময় কম তথ্য চুরি হয়, সেটার খবর হয়ত থাকে অজানা।

তবে সম্প্রতি ফেইসবুক থেকে লাখ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার পর আবার আলোচনায় তথ্য চুরির বিষয়। কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা ফেইসবুক থেকে কয়েক কোটি ব্যবহারকারীর তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। এরপরই একে একে থলের বিড়াল বের হতে থাকে।

আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়ে প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এটাও স্মরণ করে দিয়েছেন যে, এমনও হতে পারে ফেইসবুকের প্রতিটি ব্যবহারকারীই কোনো না কোনো ভাবে তাদের তথ্য খুঁইয়ে থাকতে পারেন।

আরও পড়ুন ঃ- ইমেইল, ফোন নম্বর দিয়ে বন্ধু খোঁজা বন্ধ করলো ফেইসবুক

তবে ফেইসবুকের এমন তথ্য চুরির আগে বিশ্বে বেশকিছু বড় তথ্য চুরির ঘটনা ঘটেছে। যা পুরো বিশ্বকে অবাক করে দিয়েছে।

সম্প্রতি সিএসও অনলাইন ডটকমে বিশ্বব্যাপী ঘটে যাওয়া সবচেয়ে আলোচিত হ্যাকিং বা সার্ভার থেকে তথ্য চুরির ঘটনার তালিকা প্রকাশ করেছে। সেখান থেকে  আলোচিত ১০ তথ্য চুরির ঘটনা সম্পর্কে তুলে ধরা হলো এই প্রতিবেদনে।

ইয়াহু

২০১৩ সালে এক সময়ের জনপ্রিয় মেইল সেবা ইয়াহু থেকে ৩০০ কোটি ব্যবহারকারীর মেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়। ২০১৬ সালে ইয়াহুকে কিনে নিয়েছিল ভেরিজন। এই জন্য ভেরিজন ব্যয় করেছিল ৪.৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই বছর প্রতিষ্ঠানটির তদন্ত দল এই হ্যাকিং হওয়ার কথা জনান। হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি এত বড় ছিল যে, সেটা আগে কল্পনাও করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

চুরি হওয়া ডাটার মধ্যে ছিল  ব্যবহারকারীর মেইল আইডি, পাসওয়ার্ড, পেইমেন্ট কার্ড ও ফোন নম্বরসহ আরো ব্যক্তিগত তথ্য।

ইয়াহু ১৯৯৪ সালে তৈরি হয়েছিল, একটা সময় প্রতিষ্ঠানটির ভ্যালু ছিল ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

অডাল্ট  ফেন্ড ফাইন্ডার

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালির্ফোনিয়া ভিত্তিক সেক্স পার্টনার খোঁজার ওয়েবসাইট অ্যাডান্ট ফ্রেন্ড ফাইন্ডার হ্যাক হয়েছিল। ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে সেক্স পার্টনার খোঁজা ও লাইভ চ্যাট করা যায়।

এই হ্যাকিং ঘটনায় ৪১ কোটি ২২ লাখ অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি হয়। গ্রাহকদের চুরি হওয়া তথ্যের মধ্যে ছিল তাদের ব্যক্তিগত ই-মেইল অ্যাড্রেস, ক্রেডিট কার্ড নম্বর ও সেক্সচ্যুয়াল পার্টনারদের বিভিন্ন তথ্য। সেই সময় এক ই-মেইল বিবৃতিতে ফ্রেন্ড ফাইন্ডার নেটওয়ার্কস তার গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছিল। তবে হ্যাকের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সাইটের নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে ফিরিয়ে আনে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সেই সময় বিশ্বের সবচেয়ে বড় অ্যাডান্ট ফ্রেন্ড ফাইন্ডার ওয়েবসাইটটির মোট গ্রাহক সংখ্যা ৬ কোটি ৪০ লাখের বেশি ছিল।

আরও পড়ুন ঃ- এবার ফেইসবুক থেকে সরছে প্লেবয়

ইকুইফ্যাক্স

২০১৭ সালের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি ইকুইফ্যাক্স হ্যাকের শিকার হয়। এতে  প্রায় ১৪ কোটি ৭৯ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য ফাঁস হয়।

এই ঘটনায়, এক হ্যাকার দল ইকুইফ্যাক্সের ডাটাবেজে বিনা অনুমতিতে কার্যক্রম চালিয়ে ব্যবহারকারীদের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, জন্ম তারিখ, ঠিকানা এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স হাতিয়ে নেয়।

Symphony 2018

হার্টল্যান্ড পেমেন্ট সিস্টেম 

২০০৮ সালে হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড সেবা দাতা প্রতিষ্ঠান হার্টল্যান্ড পেমেন্ট সিস্টেম। তবে ২০০৯ সালে বিষয়টি নজরে আসে প্রতিষ্ঠানটির। এই ঘটনায় প্রায় ১৩ কোটি ৪০ লাখ ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন ঃ- ভবিষ্যৎ জানানো ফেইসবুক অ‍্যাপগুলো কি নিরাপদ?

উবার

২০১৬ সালে হ্যাকিংয়ে শিকার হয়েছিল অ্যাপ ভিত্তিক রাইড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান উবার। এতে ৫ কোটি ৭০ লাখ  গ্রাহকের নাম, ইমেইল ঠিকানা ও মোবাইল ফোন নম্বর চুরি করে হ্যাকাররা। আর ক্ষতিগ্রস্ত ওই গ্রাহকদের মধ্যে ছয় লাখ চালকের নাম ও লাইসেন্সের তথ্যও হ্যাকারদের হাতে পড়েছিল।

তথ্য চুরি হওয়ার পর তা চেপে গিয়েছিল উবার। তবে ২০১৭ সালে বিষয়টি স্বীকার করে উবার। গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য হ্যাকারদের হাতে পড়ার পর তা মুছে ফেলতে এক লাখ ডলার দিতে হয়েছিল উবারকে। উবার গ্রাহকদের তথ্য চুরির  খবর প্রকাশ হওয়ার পর কোম্পানির প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা জো সুলিভান পদত্যাগ করেন।

omputer-hacker-screen-techshohor

মার্কিন অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টের (ওপিএম) 

২০১৪ সালের এপ্রিলের দিকে হ্যাকের শিকার হয় মার্কিন অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্টের (ওপিএম) এর সার্ভার। তবে খবরটি প্রকাশ পায় ২০১৫ সালে।  এই হ্যাকিং ঘটনার প্রায় দুই কোটি ২০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য হ্যাকারদের কাছে চলে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মী, চাকরির আবেদনকারী, ফেডারেল কন্ট্রাক্টর ও তাদের লাখ লাখ পার্টনারদের তথ্য ছিল এই সার্ভারে। এ ছাড়া সাবেক মার্কিন কর্মীদের তথ্যের পাশাপাশি ছিল সোস্যাল সিকিউরিটি নম্বর, বাসস্থান ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ইতিহাস, কর্মীদের কাজের ইতিহাস, স্বাস্থ্য, অপরাধ ও আর্থিক ইতিহাস, আঙুলের ছাপ প্রভৃতি তথ্য।

সনির প্লেস্টেশন নেটওয়ার্ক

২০১১ সালের ২০ এপ্রিল গেইমিং কনসোল প্লেস্টেশন নেটওয়ার্কে হামলা চালিয়ে প্রায় সাত কোটি ৭০ লাখ  ‘প্লেস্টেশন থ্রি’ বা পিএস থ্রি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করে হ্যাকাররা।

সেই সময় প্লেস্টেশন থ্রি কনসোলগুলো অনলাইনে প্লেস্টেশন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত থাকায় হ্যাকাররা প্লেস্টেশন নেটওয়ার্কে সাইবার আক্রমণ চালিয়ে ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড, জন্মতারিখ, ই-মেইল ঠিকানার তথ্যও চুরি করে।

শুধু একবার নয়, ২০১৪ সালেও  লিজার্ড স্কোয়াড নামের হ্যাকারদের একটি দল সনির সার্ভারে হামলা চালিয়ে ছিল।

অ্যাডোবি

২০১৩ সালে হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছিল গ্রাফিক্স সফটওয়্যার নির্মাতা অ্যাডোবি। এতে তিন কোটি ৮০ লাখ ব্যবহারকারীর তথ্য চলে যায় হ্যাকাদের কাছে। গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য যেমন ইমেইল, পাসওয়ার্ড এবং এমনকি ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড নাম্বার চুরি হয়েছিল।

শুধু ইউজার ডেটাই নয়, হ্যাকাররা অ্যাডোবির বিখ্যাত সফটওয়্যার অ্যাডোবি অ্যাক্রোবাট এবং ক্লাউডফিউশন এর সোর্স কোডেও অযাচিত অ্যাক্সেস হাতিয়ে নিয়েছিল।

হোম ডেপুটি

‘হোম ডেপুটি’ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক  হোম অ্যাপ্লায়েন্স  পণ্য নিমার্তা ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠানার সার্ভারে হামলা করেন হ্যাকারা। এতে প্রায় ৫৬ মিলিয়ন গ্রাহকদের ক্রেডিট ও ডেভিট কার্ডের তথ্য চুরি হয়।

ভ্যারিসাইন

২০১০ সালে ইন্টারনেট নিরাপত্তা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ভ্যারিসাইনের সার্ভার হ্যাক হয়। প্রায় ১ বছর পরে এই হ্যাকিংয়ের কথা স্বীকার করেন প্রতিষ্ঠানটি। এতে কত ব্যবহারকারীর তথ্য চুরি হয়েছে সেই সম্পর্কে কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।  তবে এটি বিশ্বের বড় সাইবার হামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল বলে ধারণা করা হয়।

*

*

Related posts/