Maintance

ভিডিও গেইমে লাখপতি লাখো কিশোর

প্রকাশঃ ৪:২৪ অপরাহ্ন, মার্চ ৩০, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৪:২৮ অপরাহ্ন, মার্চ ২৯, ২০১৮

ইমরান হোসেন মিলন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ভিডিও গেইম খেলা এখন শুধু নেশা নয়, এটি পেশাও। গেইম খেলেও হাজার হাজার কিশোর হয়েছে লাখ লাখ ডলারের মালিক।

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনার ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অ্যালেক্স বেলফানজ। ১৮ বছর বয়েসি অ্যালেক্স অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতোই প্রতিদিন ক্লাস লেকচার টুকে নেওয়া, সেমিনারে উপস্থিত হওয়া, অ্যাসাইনমেন্ট করার কাজ করেন। কিন্তু তিনি প্রতিদিন অন্তত দু’ঘণ্টা এবং সপ্তাহ শেষে বশে কয়েক ঘণ্টা ব্যয় করেন ভিডিও গেইমের পিছনে।

কিন্তু তিনি শুধু খেলেনই না, সেগুলো তৈরিও করেন। এর মধ্য দিয়ে অ্যালেক্স অনেক অর্থের মালিক হয়েছেন।

১০ মাস হয়েছে ‘জেলব্রেক’ গেইম রিলিজ করা হয়েছে, এটি ইতোমধ্যে সাত ডিজিটের ফিগারের মতো আয় করেছে। নিজের তৈরি পুলিশ এবং ডাকাতের একটি ভিডিও গেইম নিয়ে বলছিলেন অ্যালেক্স বেলফানজ। যেটি গত বছরেই উন্মুক্ত করেছেন তিনি। কয়েক সপ্তাহ আগে গেইমটি কয়েক শো কোটিবার খেলা হয়েছে।

অ্যালেক্স বেলফানজ হাজার হাজার তরুণের মধ্যে একজন। যে তরুণ বয়সেই গেইম নিয়ে উদ্যোক্তা হয়েছেন। এমন কয়েকজন তরুণ গত বছর অন্তত ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ইন্ডাস্ট্রিতে পরিণত হয়েছে।

এর মাধ্যমে এমন একটি জীবিকার কথা বলা হচ্ছে, যেটি গত ১০ বা পাঁচ বছর আগেও ছিল না। যেটি এখন বাস্তবে হচ্ছে বিভিন্ন দেশে, বিভিন্নভাবে।

আরেক ১৮ বছর বয়েসি শিক্ষার্থী অ্যান্ড্রু বেরেজা। যে ‘মিনারস হেভেন’ এবং ‘আজার মাইন’ নামের দুটি গেইম গত দুই বছরে নির্মাণ করেছেন এবং রিলিজ করেছেন। তিনি ‘রোবলক্স’ নামে একটি প্লাটফর্ম তৈরি করেছেন যেখানে একেবারে শিশুরাও গেইম তৈরি করে পাবলিশ করতে পারবে। এটিও অনেকটাই অ্যালেক্স বেলফানজের মতোই একটি প্লাটফর্ম।

যদিও আমি আমার সহকর্মীদের মতো বাৎসরিকবভাবে লাখপতি হইনি, আমি আমার কাজের শুরু থেকেই ছয় ডিজিটের অর্থ উপার্জন করে আসছি। বলছিলেন বেরেজা।

তার আয়ের অর্থ দিয়েই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন। তিনি পড়ছেন কম্পিউটার সায়েন্সে।

তিনি বলেন, আমি জানি না কিভাবে পড়ালেখার পাশাপাশি গেইম তৈরি ও এটা নিয়ে কাজ করার সময় বের করি।

নিজেই গেইম তৈরি ও বিক্রি করতে চাইলে…

এখন যেকোনো গেইমের জন্য কিছু কমন অনলাইন প্লাটফর্ম তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে অ্যাপ স্টোর, প্লে স্টোর, স্ট্রিম বা রোবলক্স। যেখানে একটু ভালো আইডিয়ার গেইম তৈরি করে ছাড়তে পারলে সেগুলো শতকোটি মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবে।

Symphony 2018

কিন্তু এই প্রযুক্তি এবং ইকোসিস্টেম মাত্র গত এক দশকের মধ্যেই তৈরি হয়েছে। যেখানে নতুন কিছু অ্যাপ ডেভেলপারই সেটি তৈরিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন। এটাকে অনেকটাই রক ব্র্যান্ডের সঙ্গে তুলনা করা যায়। একসময় যেমন রক সঙ্গীত হঠাৎই খুব জনপ্রিয় হলো এবং বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছিল, গেইমরের ব্যাপারটিও ঠিক তেমনই হয়েছে।

১৯৭০ ও ৮০র দশকেও অনেক গেইম ছিল। কিন্তু সেটা বর্তমানের মতো ছিল না। তাই এর তেমন প্লাটফর্মও ছিল না। এখন গেইম তৈরি করে এমন সব প্লাটফর্মের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারছে তরুণরা। প্রয়োজনে অনেকেই তৈরি করছেন নিজেদের প্লাটফর্ম।

অনলাইন স্ট্রিমিং দেখে লাখো মানুষ

এখন টাকা কামানোর আরেকটি উপায় হচ্ছে ভিডিও গেইম খেলা। এমনকি এটা খেলতে গিয়ে অনেক আশ্চর্য মানুষের সঙ্গেই ইন্টারনেটে পরিচয় হয়ে যায়।

টুইচ ইন্টারনেটে এখন গেইম খেলার জন্য জনপ্রিয় একটি প্লাটফর্ম। এটা এখন বিশ্বব্যাপীই জনপ্রিয়। এটি ২০১ সালে অ্যামাজন ১০০ কোটি ডলারে কিনে নেয়। এর পর থেকেই এটি লাখ লাখ গেইমারের সামনে তাদের গেইম উপহার দিয়ে আসছে।

তৈরি হয়েছে পেশাদার গেইমার

বিভিন্ন গেইমভিত্তিক প্লাটফর্মের মাধ্যমে পেশাদার গেইমার তৈরি হয়েছে। এসব পেশাজীবীদের অনেকেই একবিংশ শতাব্দীর তরুণ। যারা গেইম খেলাকে জীবিকা হিসেবে নিয়েছে তাদের প্যাশন থেকেই।

এমন গেইম বর্তমানে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে অন্তত ৬০ কোটি মানুষ খেলছে এবং অন্তত ১৪০ কোটি ডলার এর থেকেই শুধু আয় হবে ২০২০ সালের মধ্যে।

এমনকি অলিম্পিক কমিটি এখন তাদের ইভেন্টে ভিডিও গেইম খেলাকে যুক্ত করেছে।

সুমাইল হাসান সবেচেয়ে তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে অলিম্পিক ইস্পোর্টসে ১০ লাখ ডলার জিতেছে। সে শুধু ডটা গেইমটি খেলেই অন্তত আড়াই মিলিয়ন ডলার জিতেছে। সে এখন এটাকে পুরো দস্তুর একটা কাজ হিসেবে নিয়েছে।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় ভিডিও গেইম

বিশ্বের অনেক দেশের লাখো তরুণের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় এখন জড়িয়ে রয়েছে ভিডিও গেইম। তারা চায় ভিডিও গেইম তৈরি এবং খেলায় তাদের ক্যারিয়ার গড়তে। সে জন্য অনেকেই প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে জানাচ্ছে ব্লুমবার্গ।

এদিন থেকে দেশের তরুণরাও পিছিয়ে নেই। দেশে ভিডিও খেলা এবং এর থেকে অর্থ আয় করতে এখন বেশকিছু তরুণ কাজ করছেন। তারা নিজেরা তো বটেই, অন্যদেরও উৎসাহিত করছেন ভিডিও গেইমে। এর থেকে হাজার হাজার ডলার আয় করা সম্ভব হবে বলে তারা এর পিছনে সময় ব্যয় করছেন।

*

*

Related posts/