আইসিটি বিভাগেই চালু হয়নি ই-ফাইলিং

জামান আশরাফ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দেড় মাসের বেশি আগে ঘটা করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ই-ফাইলিং পদ্ধতি চালু করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের ডিজিটাল কার্যক্রম বাস্তবায়নের পুরোধায় থাকা এ বিভাগের অফিস ব্যবস্থাপনাতেই আধুনিক এ পদ্ধতি চালু করা সম্ভব হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে আইসিটি বিভাগের সচিব মোঃ নজরুল ইসলাম খান বারবার কর্মকর্তাদের তাগাদা দিলেও লাভ হয়নি। বিভাগের মাত্র একটি শাখা এ পদ্ধতি গ্রহণ করে কাজ করছে। বাকিরা কেউ কিছুই করছে না।

ict_e filing_techshohor

গত ১১ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ই-ফাইলিং পদ্ধতির উদ্বোধন করান আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

বিভাগের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা বলছেন, উদ্বোধনের সময় খুব বড় গলা করে বলা হয়েছিল ই-ফাইলিং অফিস ব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তাছাড়া কাগজবিহীন অফিস প্রতিষ্ঠা, যে কোনো সময় যে কোনো জায়গায় থেকেই ফাইলে মতামত দেওয়াসহ নানা কার্যকারিতার কথা তখন বলা হয়।

প্রতিমন্ত্রী সেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে খুবই জোর গলায় বলেছিলেন, এখনই অফিসের ৯০ শতাংশ কাজ ই-ফাইলিংয়ের মাধ্যমে করা সম্ভব।

কিন্তু রোববার এ বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে পলক বলেন, নানা জটিলতার কারণে খুব একটা কাজ করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া কর্মকর্তাদের অনভ্যস্থতার বিষয়টিও এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্যে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের চেষ্টা আছে। কিন্তু নানা করণে কাজটি হচ্ছে না। তাছাড়া এই একটি বিভাগ কেবল ই-ফাইলিং চালু করলেই তো হবে না। সরকারের অন্যান্য মন্ত্রনালয় এবং বিভাগকেও একই সঙ্গে এ প্রযুক্তিতে আসতে হবে। না হলে এই বিভাগের ফাইল অন্য মন্ত্রনালয় বা বিভাগে গেলে তারা পড়তে পারবেন না। সুতরাং সামগ্রিকভাবেই এ নিয়ে কাজ করতে হবে।’

e filing_techshohor

গত ২২ এপ্রিল আইসিটি বিভাগের সকল কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে সচিব নজরুল ইসলাম একটি চিঠি লেখেন। তাতে বলা হয়েছে, মাত্র একটি শাখা বাদে আর কেউ ই-ফাইলিং পদ্ধতি ব্যবহার করছেন না। যদিও সকলকে এ বিষয়ে আগেও তাগাদা দেওয়া হয়েছে।

এক্ষেত্রে সচিব প্রত্যেক শাখাকে দিনে অন্তত একটি ফাইল ই-ফাইলিং পদ্ধতি ব্যবহার করে মন্ত্রী-সচিবের কাছে তোলার জন্য অনুরোধ করেন।

বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, তিন বছর আগে ই-ফাইলিংয়ের কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ডিজিটাল স্বাক্ষর প্রথম প্রবর্তনের পর ই-ফাইলিং নিয়ে কাজ শুরু হয়।

পরে পলক এ বিভাগের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর ছেলে জয়ের মন জয় করতে নতুন করে ই-ফাইলিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করার উদ্যোগ নেন বলে অনেকে মন্তব্য করেন।

Related posts

*

*

Top