Maintance

পানিকে জয় করবে ব্র্যাকইউ ডুবুরি

প্রকাশঃ ১:৫৭ অপরাহ্ন, মার্চ ২৪, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৩:৫০ অপরাহ্ন, মার্চ ২৪, ২০১৮

তুসিন আহমেদ, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : পানির নীচে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে পারে এমন একটি রোবট বানিয়েছেন দেশের তরুণ প্রযুক্তি শিক্ষার্থীরা। ডুবে যাওয়া নৌকা বা জাহাজ উদ্ধার, নদী ভাঙন ও মাছ চাষে ভবিষ্যতে কাজে লাগবে এটি।

পানির নিচের জগতকে জয় করতে এ জন্য অবশ্য আরও উন্নয়ন করতে হবে এ রোবটকে। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর বেশ কিছু দিনের চেষ্টার ফলে ইতিমধ্যে বেশ কিছু কাজও নিজে নিজে করতে পারে ব্র্যাকইউ ডুবুরি নামের এ যন্ত্র।

আগে থেকে প্রােগ্রাম করা তিনটি কাজ সুচারুভাবে করিয়ে দেখিয়েছে রোবটি। এর মাধ্যমে একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পুরস্কারও পেয়েছে দলটি।

আরো পড়ুন: রোবট নিজেই নিজেকে জ্বালালো!

সিঙ্গাপুরে প্রতিযোগিতা

সিঙ্গাপুর অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল কম্পিটিশন (এসএইউভিসি) প্রতিযোগিতায় শীর্ষ সাত দলে স্থান করে নেয় ব্র্যাকইউ ডুবুরি।

ইনস্টিটিউট অব ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার্সের (আইট্রিপলই) ওসেনিক ইঞ্জিনিয়ারিং সোসাইটি (ওইএস) ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুর এবং সিঙ্গাপুর পলিটেকনিকের সহায়তায়  প্রতিযোগিতাটির আয়োজন করে।

প্রতিযোগিতায় যা করতে হয়েছে

প্রতিযোগিতায় রোবটটিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানির নীচে অবস্থান করে পূর্ব নির্ধারিত কয়েকটি কাজ অল্প সময়ের মধ্যে নিজে থেকে করতে হয়েছে।

প্রথম কাজ ছিল, পানির নিচে গিয়ে সোজা অবস্থায় একটি নির্দিষ্ট দূরুত্ব অতিক্রম করা। তারপর লাল, সবুজ ও কালো রঙের সমন্বয়ে তৈরি একটি গেটের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করা। পরবর্তী ধাপে একটি দণ্ডকে আঘাত করে তার উপরে রাখা একটি বল ফেলে দেওয়া।

সর্বশেষ কাজটি ছিল, সবুজ রঙের ব্যাকগ্রাউন্ডের উপর রাখা কয়েকটি রঙের আলাদা বালতির মধ্যে নির্দিষ্ট একটিতে সংরক্ষিত বল ফেলা।

এরপর সেটিকে সংরক্ষণ করে নিজে নিজে ভেসে ওঠা।

এ কাজগুলো রোবটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে হয়েছে। রোবট নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ ছিল না। মূলত ইমেজ প্রসেসিং ও কিছু সেন্সর ফিউশনের মাধ্যমে কম্পিউটারে একটি প্রিলোডেড প্রোগ্রাম এ কাজগুলো করে।

যা আছে রোবটিতে

এ রোবটের মূল কাঠামো তৈরি করা হয়েছে পিভিসি পাইপ দিয়ে। পাইপগুলো পানির লাইনে ব‍্যবহৃত হয়ে থাকে। কন্ট্রোল সার্কিট ও প্রসেসর রাখার জন্য ওয়াটার প্রুফ কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

রোবট চালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ডিসি গিয়ার্ড মটোর। তার সঙ্গে প্রপেলার হিসেবে লাগানো হয়েছে প্রসেসরের কুলারের পাখা।

Symphony 2018

নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে রোবট দলের ডিজাইন করা পিসিবি বোর্ড। ইমেজ প্রসেসিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে জেটসন টি-কে-১ বোর্ড।

এটির সঙ্গে পানির গভীরতা মাপা ও দিক ঠিক রাখার জন্য বিভিন্ন সেন্সরকে রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করে পানির নিচে কাজের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।

রোবটটি তৈরি সম্পর্কে রাহাতুল আমিন অনন্ত টেকশহরডটকমকে জানান, নিজেদের পুল না থাকায় এবং শীতের সময় বেশিরভাগ পুলে পানি না থাকায় রোবটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে তাদের বেগ পেতে হয়েছে।

এ ছাড়া সেন্সর, মটর ও রোবট তৈরির যন্ত্রাংশের সীমাবদ্ধতা রয়েছে দেশে। তবুও কাজ থেমে থাকেনি। এই অর্জন আমাদের পরবর্তীতে কাজে ধাপে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে বলে জানান অনন্ত।

দলে ছিলেন যারা

তিন শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ১৫ শিক্ষার্থীর দলটির দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল ব্র্যাকইউ ডুবুরি। প্রতিযোগিতায় এ দলকে প্রতিনিধিত্ব করছে আদনান সাব্বির, রাহাতুল আমিন অনন্ত, সাকিব আহমেদ সামদানি ও সায়ান্তন অর্ক।

এ দলের উপদেষ্টটা ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খলিলুর রহমান।

এ রোবটের ব‍্যবহার

নদী ও লেকের তলদেশ পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি জাহাজডুবির পর উদ্ধারের কাজে ও জাহাজ খুঁজে বের করতে সাহায্য করতে পারবে রোবটটি।

মাছ চাষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সেন্সরের মাধ্যমে পুকুর, পানি ও মাছের অবস্থা জানাতে পারবে এটি।

এ ছাড়া নদী ভাঙন ও গতিপথ পরিবর্তনের কারণ নির্ণয়, নদী বা লেকের তলদেশের মাটির প্রকৃতি নির্ণয় করা যাবে এই রোবটের সাহায্যে।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, সামনের দিনের জন্য প্রস্তুত হতে চাইলে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি অর্জনের চেষ্টা এখন থেকেই চালিয়ে যেতে হবে। তাই এ ধরনের রোবট নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন। ধাপে ধাপে এ রোবটের আরও উন্নয়ন করা হবে।

প্রতিযোগিতায়  জয়ী দল

সিঙ্গাপুর অটোনোমাস আন্ডারওয়াটার ভেহিকেল কম্পিটিশন (এসএইউভিসি) প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ থেকে এবার প্রথমবারের মতো কোনো দল অংশ নেয়।

৯ থেকে ১২ মার্চের এ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় চীনের নর্থ ওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির ইনটেলিজেন্ট মেরিন ভেহিকল টিম। প্রথম রানার্সআপ হয় ভারতের এনআইটি রুরকেলার তিবুরন ও দ্বিতীয় রানার্স আপ হয় রাশিয়ার ফার ইস্টার্ন ফেডারেল ইউনিভার্সিটির এফইএফইউ/আইএমটিপি।

আরো পড়ুন: 

*

*

Related posts/