অনলাইনের ছোট ব্যবসা বড় হুমকিতে

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্মিলর : অনলাইন উদ্যোক্তাদের জন্য খুব একটা ভালো সময় যাচ্ছে না এখন। গ্রাহকদের তথ্যের নিরাপত্তা ও সংরক্ষণ নিয়ে একের পর ঝুঁকির মুখে পড়তে থাকায় এ খাতের ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ক্ষতির মুখে পড়ছে।

সম্প্রতি ইন্টারনেট নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে হার্টব্লিড নামে একটি বাগের আক্রমণে ইন্টারনেটভিত্তিক অসংখ্য ব্যবসা হুমকির মুখে পড়েছে। জনপ্রিয় ওপেন-সোর্স এনক্রিপশন সফটওয়্যার ওপেন এসএসএল নিরাপত্তা ভেঙে এটি বিশ্বের দুই-তৃতীয়াংশ ওয়েবসাইটের তথ্য চুরি করেছে।

অনেক ই-কমার্স ওয়েবসাইটের অজান্তেই অবশ্য এ ঘটনা ঘটেছে। দুর্বল নিরাপত্তার কারণে জাপানের বিটকয়েন এক্সচেঞ্জ এমটিগক্স থেকে সাড়ে ৮ লাখ ডিজিটাল মুদ্রা চুরি যায়। এর ফলে কোম্পানিটি দেউলিয়ায় পরিণত হয়।

hack_techshohor

একটি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ কিথ কটেনডেন এ ব্যাপারে বলেন, ‘গ্রাহকদের তথ্য নিয়ে থাকে এমন যে কোনো ওয়েবসাইট এখন হুমকির মুখে। কারণ ওপেন এসএসএলে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ করা হতো। আপাতত কিছুদিন এ সংক্রান্ত ব্যবসা বন্ধ রাখা উচিত।’

কিন্তু বন্ধ রাখার পরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হ্যাকার ও তথ্য চোরদের হাত থেকে বাঁচানোর কোনো পদ্ধতি এখনও বের করতে পারেনি ছোট অনলাইন প্রতিষ্ঠানগুলো। এমনকি এর জন্য পুরো ব্যবসাই ধসে পড়তে পারে।

ব্রিটেনের ফেডারেশন অফ স্মল বিজনেসেসের (এফএসবি) মতে, অনলাইন অপরাধের জন্য যুক্তরাজ্যের ক্ষুদ্র উদ্যোগের বাৎসরিক ক্ষতি হচ্ছে চার হাজার পাউন্ডের বেশি। আর সারা বিশ্বের সাইবার অপরাধের ফলে ব্রিটিশ অর্থনীতিতে ক্ষতি হচ্ছে ২৭ বিলিয়ন পাউন্ড।

এ ছাড়া ২০১৩ সালে সিকিউরিটি সফটওয়্যার ফার্ম এভিজি জানায়, তথ্যের নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জানার পরও অনেক সময় সংশ্লিষ্টদের ভুল ও অবহেলায় প্রচুর তথ্য হারিয়ে যায়। অনেক প্রতিষ্ঠান তথ্যের ব্যাকআপও রাখে না।

আরেক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ব্রিটেনের ৪৩ ভাগ ও যুক্তরাষ্ট্রের ৫৩ ভাগ ক্ষুদ্র ব্যবসা ব্যাকআপের চেয়ে বেশি সময় ব্যয় করে পাসওয়ার্ড বদলাতে।

শুধু মানুষের কারণেই যে সার্বিকভাবে তথ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে, তা নয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগও ছোট অনলাইন ব্যবসার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Browser Security-TechShohor

ইন্সটিটিউট অফ বিজনেস অ্যান্ড হোম সেফটি একও প্রতিষ্ঠানের মতে, বড়সড়ো প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর ২৫ ভাগ ক্ষুদ্র ব্যবসা দীর্ঘদিন পুনরায় চালু হতে পারে না। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হারিকেন স্যান্ডি এমন অনেক ব্যবসা ধ্বংস করেছিল।

ম্যানচেস্টারভিত্তিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান এনসিসি গ্রুপের সিইও রব কটন এ ব্যাপারে বলেন, ‘যেসব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তাদের নিজস্ব আইটি সেবা ব্যবহার করছেন তাদের উচিত যন্ত্রপাতির নিরাপত্তা ও বাহ্যিক হুমকির কথা মাথায় রাখা। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে নিজের কর্মীদের মাধ্যমেই সাইবার অপরাধ হতে পারে, সে ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে।’

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে কোনো তথ্য ক্লাউডে ব্যাকআপ রাখার জন্য। কিন্তু সেক্ষেত্রে কি লোকাল ক্লাউড সার্ভার ব্যবহার করা উচিত নাকি অন্য কোম্পানির বড় ক্লাউড সেবা—তা নিয়েও দ্বন্দ্ব রয়েছে। তবে ক্লাউড সেবাদাতারা সিকিউরিটি আপডেট ও মেনটেন্যান্স নিয়ে বেশ সতর্ক থাকেন, তাই সেখানে ব্যাকআপ রাখা নিরাপদ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ভাইরাস, ম্যালওয়্যার, হ্যাকার, দুর্যোগ, অভ্যন্তরীণ ঝুঁকি, বহুমূল্য ক্লাউড—সব মিলিয়ে তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী হিমসিম খাচ্ছেন ক্ষুদ্র অনলাইন উদ্যোক্তারা। তারপর এ ক্ষেত্রে টিকে থাকতে হলে তথ্যের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার বিকল্প নেই। এর ফলে ব্যয় ও ঝামেলা হয়তো বাড়বে, কিন্তু ব্যবসার প্রসার ও গ্রাহকদের আস্থার ফলে উদ্যোগের ব্যাপক প্রসারের সম্ভাবনাও রয়েছে।

– বিবিসি প্রতিবেদন থেকে শাহরিয়ার হৃদয়

Related posts

*

*

Top