Maintance

গ্রাহক বেশি স্পেকট্রাম কম, ফোরজির মান থাকবে তো ?

প্রকাশঃ ৯:১৪ অপরাহ্ন, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:৫৩ অপরাহ্ন, ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮

আল-আমীন দেওয়ান, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নিজেদের স্পেকট্রামের তুলনায় বাংলাদেশের অপারেটরগুলোর গ্রাহকের সংখ্যা আগে হতেই অনেক বেশি। সেখানে কোয়ালিটি অব সার্ভিসের প্রশ্নও নতুন নয়- আছে গ্রাহকের অবিরাম অভিযোগ।

সেবার মান নিয়ে যখনই নিয়ন্ত্রণ সংস্থা-সরকার অপারেটরগুলোকে চেপে ধরতো তখন তাদের অন্যতম ঢাল ছিল স্পেকট্রাম কম ও টেক নিউট্রালিটি না থাকা।

অথচ দেশে ফোরজি চালুর সন্ধিক্ষণে নিলামে ওঠা স্পেকট্রামের তিন ভাগের এক ভাগও পুরোপুরি কেনেনি অপারেটরগুলো। তাহলে এত বিপুল গ্রাহকের বিপরীতে অপারেটরগুলো স্বল্প স্পেকট্রামে ফোরজি সেবার মানের ভবিষ্যত কী ? স্পেকট্রাম কেনায় কেনই বা অপারেটরদের এই ‘অনীহা’।

বিটিআরসি বিভিন্ন ব্যান্ডের ৪৬ দশমিক ৪ মেগাহার্জের স্পেকট্রাম নিলাম তুলেছিল। অথচ এর হতে বিক্রি হয়েছে মাত্র ১৫ দশমিক ৬ মেগাহার্জ। অপারেটরগুলো বলছে অতিরিক্ত দামের কারণেই তারা আরও স্পেকট্রাম কিনতে পারেনি। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দামের দিক হতে বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাংলাদেশের স্পেকট্রামের দাম।

এই দামের কারণে রবি স্পেকট্রাম নেবে না বলে নিলামেই অংশ নেয়নি। যদিও গ্রাহকের তুলনায় সরকারি অপারেটর টেলিটকের পর্যাপ্ত স্পেকট্রাম রয়েছে।

মঙ্গলবার স্পেকট্রাম নিলামের দিনে অপারেটরগুলোর সেবার মান নিয়ে উষ্মা দেখা গেলো স্বয়ং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বারের বক্তব্যে।

‘এতদিন পর্যন্ত আমরা শুনে আসছিলাম, কেন কোয়ালিটি দেয়া যায় না? অপারেটরগুলো বলতো-টেক নিউট্রালিটি নাই, স্পেকট্রাম নাই।’

‘এবার আমরা স্পেকট্রামের দরজা খুলেছি, নিউট্রালিটি দিয়েছি। এখন যদি জনগণ জিজ্ঞেস করে ফোনে কথা বলতে পারি না কেন, তার জবাব দেয়া কঠিন। কারণ সরকারের দিকে সব দরজা খুলে দেয়া হয়েছে।’

অপারেটরগুলোকে বিষয়টি উপলব্ধি করার কথা বলে মন্ত্রী বলেন, ‘সেবার মানই প্রধানতম বিষয়। এটি কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না যে, মালয়েশিয়ার মতো দেশের চেয়ে ১৫ গুন বেশি গ্রাহক থাকবে আর আপনি স্পেকট্রাম কিনবেন না, কোয়ালিটি দেবেন না। তাই এমন পরিস্থিতি আর কোনো অবস্থাতেই মেনে হবে না।’

নিলাম অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মালয়েশিয়া ও জার্মানিতে প্রতি মেগাহার্জে যেখানে ১ লাখ বা এর থেকে একটু বেশি মানুষকে সেবা দেয়া হয় সেখানে বাংলাদেশে গ্রামীণফোন ১৭ লাখ ৩৭ হাজার, বাংলালিংক ১০ লাখ ও রবি ১১ লাখ ১৭ হাজার মানুষকে সেবা দেয়। যদিও টেলিটক প্রতি মেগাহার্জে মাত্র ১৭ হাজার মানুষকে এই সেবা দেয়।

সাড়ে ৬ কোটি গ্রাহকের বিপরীতে গ্রামীণফোনের এখন মোট স্পেকট্রাম ৩৭ দশমিক ৬ মেগাহার্জ, রবির ৪ কোটি ২০ লাখের বিপরীতে ৩৬ দশমিক ৪ মেগাহার্জ, বাংলালিংকের ৩ কোটি ২০  লাখের বিপরীতে ৩০ মেগাহার্জ এবং টেলিটকের ৪৪ লাখের বিপরীতে রয়েছে ২৫ দশমিক ২ মেগাহার্জ।

মোবাইল অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের মহাসচিব এবং প্রধান নির্বাহী টিআইএম নূরুল কবীর টেকশহর ডটকমকে বলেন, উচ্চমূল্যে স্পেকট্রামের দাম নির্ধারণের আগে কিছু অর্থনৈতিক সমীক্ষা দরকার ছিল। এই দামের কারণে আপারেটরগুলো যে পরিমাণ তরঙ্গ নেয়ার কথা তা নেয়নি। এরং অবিক্রিত স্পেকট্রামটা এখন জিরো ভ্যালু।

‘অথচ দাম কমিয়ে দিলে এই পাঁচ হাজার কোটি টাকাই বিক্রি হতো তবে স্পেকট্রাম বেশি বিক্রি করা করা যেত। আর এতে কোয়ালিটি অব সার্ভিস টু দ্যা পিপল নিশ্চিত হতো।’

নূরুল কবীর বলেন, ‘দাম কম হলে নিলামে স্পেকট্রাম বিক্রি যেখানে এখন এক তৃতীয়াংশ হয়েছে তা দুই তৃতীয়াংশ হতো। মালেশিয়ায় ২০১৬ সালের ১৮০০ ব্যান্ডে প্রতি মেগাহার্জের দাম ছিল ১১ মিলিয়ন সেখানে আমাদের এখানে ২৮ মিলিয়ন। আমরা যদি এটা ১১ মিলিয়নে দিতাম তাহলে যে ২৮ মিলিয়নে ১ মেগাহার্জ নিয়েছে সে আরও বেশি নিতে পারত।’

‘সাবস্ক্রাইবারের দিকটা দেখা এবং অপারেটরের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা-দুটি দিক না দেখে যদি রেভিনিউ আর্নিংটাকে প্রাথমিক বিবেচনা হিসেবে দেখে তাহলে আমরা ওই জায়গাটায় পৌঁছাতে পারবো না। গ্রাহকদের নিরবিচ্ছিন্ন সার্ভিস দিতে ডিমান্ড সাইটে যা যা করণীয় সে জায়গাগুলো ঠিক করা এবং আমাদের অবারিত স্পেকট্রাম দেয়া।’

অপারেটরদের বেশি স্পেকট্রাম দিলে তাদের সক্ষমতা বাড়ে এরং তারা অনেক বেশি কোয়ালিটি অব সার্ভিস দিতে পারে উল্লেখ করে অ্যামটব মহাসচিব বলেন, ‘সরকারের রেভিনিউ বাড়ুক এটা আমরা চাই কিন্তু এর সঙ্গে অপারেটদের সক্ষমতা বাড়াতে অনেক বেশি স্পেকট্রাম দেয়া উচিত এবং তা অ্যাফোর্টেবল দামে।  গ্রাহক সেবাগুলো যেন ভালভাবে পেতে পারে, অর্থনৈতিক উন্নয়নে জন্য ডিজিটাল প্রযুক্তি আরও বেশি সাধারণ মানুষের কাছে দেয়ার জন্য রাস্তাটা প্রশস্ত করার দরকার ছিল। সে জায়গায় স্বল্প স্পেকট্রাম কিনে কি অনেক বড় স্বপ্ন পূরণ করতে পারবো ? পারবো না।’

নিলাম শেষে সেবার মান নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘কোয়ালিটি অব সার্ভিসের জন্য প্রতিটি অপারেটর কি পরিমান স্পেকট্রাম ব্যবহার করবে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি তুলনামূলকভাবে দেখিয়েছি মালয়েশিয়া এবং জার্মানিতে ১ লাখ লোকের জন্য কতটা স্পেকট্রাম ব্যবহার করে অপারেটররা এবং আমাদের দেশে কত করা হয়। এ হতে বিষয় বোঝা যায়।’

তিনি বলেন, ‘আজ যে স্পেকট্রাম বিক্রি হলো তাতে জনগণের সম্পূর্ণ না হলেও কিছুটা সুবিধা পাবে, কোয়ালিটি ইমপ্রুভ করবে। আমারা এখন হতে কোয়ালিটি অব সার্ভিসের ওপরে যথেষ্ট জোর দেবো।’

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

Related posts/