Maintance

পারফরমেন্সে কেমন কোয়াকলম স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫?

প্রকাশঃ ৭:৪৬ অপরাহ্ন, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৭:৪৬ অপরাহ্ন, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : প্রসেসিং ক্ষমতায় পিছিয়ে থাকলেও গ্রাফিক্সের জোরে আবারও এগিয়ে গেছে কোয়ালকম। তাদের সর্বশেষ প্রসেসর স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ এর প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রের পারফরমেন্স বেঞ্চমার্কে প্রকাশ হয়েছে।

এ বছর বাজারে আসা অধিকাংশ অ্যান্ড্রয়েড ফ্ল্যাগশিপেই নতুন প্রসেসরটির দেখা মিলবে। শুধু হুয়াওয়ে ও স্যামসাং তাদের ফ্ল্যাগশিপে যথারীতি নিজেদের প্রসেসর ব্যবহার করার কথা ভাবছে। এছাড়াও, স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ চালিত ল্যাপটপ ও উইন্ডোজ ট্যাবলেটও বাজারে আসতে যাচ্ছে।

যদিও স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ এর কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। যেমন সিঙ্গেলকোর পারফরমেন্সের ঘাটতি আজও মেটেনি।

পূ্র্বে প্রসেসরের পারফরমেন্সে কোয়ালকমের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল অ্যাপল। এখন কোয়ালকম প্রসেসর সমৃদ্ধ উইন্ডোজ ল্যাপটপও বাজারে রয়েছে। ফলে ইন্টেল ও এএমডির সঙ্গেও তাদের প্রতিযোগিতা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অ্যাপল, ইন্টেল ও এএমডি তিনটি কোম্পানির প্রসেসরই কোয়ালকমের চেয়ে দ্বিগুণ সিঙ্গেলকোর পারফরমেন্স দিতে সক্ষম।

অনেক অ্যাপ আজও একাধিক কোর সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত নয়। ফোনে ভারি অ্যাপ প্রতিদিন ব্যবহার করা হয় না। তবে ট্যাবলেট ও উইন্ডোজ মেশিনে ঘাটতি সহজেই দেখা যাবে।

মাল্টিকোর পারফরমেন্সেও অ্যাপল এ১১ এর চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫। তবে ইন্টেল কোর এম৩ বা এম৫ এর চেয়ে তেমন পিছিয়ে নেই। ফলে মাল্টিটাস্কিংয়ের ক্ষেত্রে পারফরমেন্স নিয়ে অ্যান্ড্রয়েড বা উইন্ডোজ কোনো সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে না।

গ্রাফিক্সের দিক থেকে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন অ্যাপল এ১১কে পেছনে ফেলে দিয়েছে। জিএফএক্সবেঞ্চের রিপোর্ট অনুযায়ী, একই গ্রাফিক্স এ১১ ও স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ এর রেন্ডার করা হলে ৮৪৫ প্রায় ৩০শতাংশ বেশি ফ্রেম একই সময় রেন্ডার করতে পেরেছে। ফলে ভারি গ্রাফিক্সের গেইম বা সিপিউর চেয়ে জিপিউর ওপর জোর দেয়া অগমেন্টেড রিয়েলিটি কনটেন্ট চালাতে স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ অ্যাপল এ১১ এর চেয়ে বেশি কার্যকর।

ইন্টেল এইচডি ৬২০ বা ৬৩০ গ্রাফিক্সের কাছাকাছি পারফরমেন্স হওয়ায় এই প্রসেসর সমৃদ্ধ উইন্ডোজ ল্যাপটপেও সাধারণ কাজে ইন্টারফেইসে ল্যাগ দেখা যাবে না। তবে পিসি গেইমিং করার মতো শক্তিশালী নয় স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫।

শুধু সিপিউ ও জিপিউ নয়, স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ প্রসেসরে থাকা অন্যান্য প্রসেসিং কোর, যেমন এআইয়ের জন্য বিশেষায়িত ডিএসপি, ইমেজ প্রসেসর ও অন্যান্য কন্ট্রোলারেও আনা হয়েছে বেশ কিছু পরিবর্তন। ফলে বাজারের অন্যান্য প্রসেসরের চাইতে একই কাজ স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ অনেক কম শক্তি ব্যবহার করে করতে সক্ষম। ফলে ব্যাটারি লাইফেও স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ এগিয়ে রয়েছে।

ফোনের পারফরমেন্স বিচারে অন্যতম সেরা বেঞ্চমার্ক আনটুটু অনুযায়ী, কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন ৮৪৫ পেয়েছে ২,৬৭,২৩৩ পয়েন্ট। আর কোনো মোবাইল প্রসেসর এ বিশাল স্কোরের কাছেও নেই।

এ পর্যন্ত শাওমি এমআই৭ ও এমআই মিক্স ২এস, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৯, ওয়ানপ্লাস ৬, সনি এক্সপেরিয়া এক্সজেড২ এই প্রসেসর ব্যবহার করবে বলে নিশ্চিত করেছে। এখন দেখার বিষয় এই ডিভাইসগুলো ব্যবহারকারীদের হাতে কেমন পারফরমেন্স দেয়।

ইউবারগিজমো অবলম্বনে এস এম তাহমিদ

*

*

Related posts/