Maintance

ইন্টারনেটের দাম কমানোর সুফল গ্রাহক কেন পায় না?

প্রকাশঃ ৬:২২ অপরাহ্ন, ফেব্রুয়ারি ৭, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১০:০১ পূর্বাহ্ন, ফেব্রুয়ারি ৮, ২০১৮

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সরকার ধারাবাহিকভাবে ইন্টারনেটের দাম কমিয়েই চলেছে, কিন্তু এর সুফল সাধারণ গ্রাহক কেন পাচ্ছে না?

বুুধবার সকালে এলিফ্যান্ট রোডের কম্পিউটার সিটি সেন্টারে (মাল্টিপ্ল্যান) পাঁচ দিনব্যাপী ডিজিটাল আইসিটি ফেয়ার ২০১৮ এর উদ্বোধনকালে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এর কারণ ব্যাখা করেন।

বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে বাংলাদেশে ইংন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১২ লাখ। কিন্তু এখন সেই সংখ্যা এসে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটিতে। আর ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হচ্ছে ৫০০ জিবিপিএসের বেশি। ২০০৮ সালে ১ এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম ছিল ২৭ হাজার টাকা। আমি শেষ যে ফাইলে সই করেছি তাতে ১ এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম ছিল ৩১০ টাকা।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এর থেকে বড় ছাড় দেয়া কঠিন। সমস্যাটা যেখানে রয়েছে সে জায়গাটা হলো, সরকারের পক্ষ থেকে ইন্টারনেটের দাম কমানোর সুফলটা এখনো জনগণের কাছে পৌঁছায়নি।’

ইন্টারনেটের দাম নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি ইন্টারনেটের দাম কামানোর মূল দুইটি কারণ রয়েছে। এগুলোকে আমরা শনাক্ত করেছি। এরমধ্যে অন্যতম হলো আমরা ব্যান্ডউইথ প্রদান করি সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম এবং ঢাকায় ক্যাবলের মাধ্যমে ইন্টারনেটে পৌঁছানো হয়। কিন্তু ঢাকা শহরের ভেতরে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন অথবা ঢাকার বাইরে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তখন কোনো না কোনো প্রতিষ্ঠানের ক্যাবল লাইন ব্যবহার করতে হয়।

মন্ত্রী বলেন, আমরা এই যে ক্যাবল লাইন ব্যবহার করি, সেজন্য ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডেরদেরকে একটা দাম দিতে হয়। সেই মূল্যটার কারণে ইন্টারনেটের গ্রাহক পর্যায়ের দাম বেড়ে যায়। আমরা চেষ্টা করছি, গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়ার এই ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলকে সহজ করতে। এতে করে ইন্টারনেটের দাম অনেকাংশে কমে যাবে।

সবার কাছে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়া এবং ইন্টারনেটের দাম কমানোর জন্য সরকার তিনটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে ইনফো সরকার ১ এবং ২ বাস্তবায়িত হয়েছে। এখন ইনফো সরকার ৩ এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়া হবে। ২০১৮ সালের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হবে। এই প্লাটফর্মটি তৈরি হলে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম আরো কমবে।

পাঁচ দিনব্যাপী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন শিক্ষাবিদ ও ইউনিভার্সিটি এশিয়া প্যাসিফিক এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, এফবিসিসিআই এর সভাপতি মো. শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন), ঢাকা মহানগর দক্ষিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব শাহে আলম মুরাদ, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি আলী আশফাক, বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জসীম উদ্দিন আহমেদসহ বিশিষ্টজনেরা।

ইমরান হোসেন মিলন

*

*

Related posts/