Maintance

শ্রম অধিদপ্তরের সামনে জিপিইইউয়ের মানববন্ধন, ডিজির বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশঃ ৭:৫৬ অপরাহ্ন, ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:৩৬ পূর্বাহ্ন, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০১৮

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সংগঠনের নিবন্ধন সার্টিফিকেট না পেয়ে শ্রম অধিদপ্তরের সামনে মানববন্ধন করেছে গ্রামীণফোন অ্যামপ্লয়িজ ইউনিয়ন (জিপিইইউ)। সেই সঙ্গে মামলাও ঠুকেছে অধিদপ্তরের ডিজির বিরুদ্ধে।

৭ দিনের মধ্যে নিবন্ধন সার্টিফিকেট দিতে আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও শ্রম অধিদপ্তর ২৬ দিনেও তা দেয়নি বলে ক্ষুব্ধ সংগঠনটির সদস্য গ্রামীণফোন কর্মীরা।

সোমবার রাজধানীর দৈনিক বাংলার মোড়ে এই মানববন্ধনে গ্রামীণফোনের শতাধিক কর্মী অংশ নেন।

গ্রামীনফোন পিপলস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও অ্যাপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. শফিকুর রহমান মাসুদ টেকশহরডটকমকে বলেন, আমরা রোববার এসেছিলাম। বলা হলো, মন্ত্রী নেই, সোমবার আসেন। সোমবার এসে দেখি মহাপরিচালকই নেই।

‘গত ২৭ জানুয়ারি ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়গুলো আমরা তুলে ধরেছিলাম।  প্রেসক্লাবের সামনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন হয়েছে। কিন্তু কোনো কিছুতেই কোনো গা করছেন না সংশ্লিষ্টরা।’

‘তাই আজও যখন আমাদের ঘোরানো হলো তখন শ্রম অধিদপ্তরের সামনে আবারও মানববন্ধন করেছি। এরপর মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে শ্রম আপিল ট্রাইবুনালে আদালত অবমাননার মামলা করা হয়েছে। মামলা নং-১/২০১৮। শুনানিতে আদালত ৭ দিনের মধ্যে মহাপরিচালক বা ডিজিকে কারণ দর্শাতে বলেছেন।’

‘তবে এর মধ্যে যদি আমাদের নিবন্ধন সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়া হয় তাহলে আমরা মামলা তুলে নেবো’-বলছিলেন মিয়া মো. শফিকুর রহমান মাসুদ।

সংগঠনের নেতারা জানান, ২০১৬ সালের জুনে গ্রামীণফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের(জিপিইইউ) নিবন্ধনের আপিল মঞ্জুর করেন শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল।

শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের দ্বৈত বেঞ্চের চেয়ারম্যান বিচারপতি শামসুল হুদা এবং সদস্য বিচারক গোলাম রব্বানি জিপিইইউ এর পক্ষে রায় দেন। আদালত ইউনিয়নের নিবন্ধন চাওয়ার আবেদন গ্রহণ করে শ্রম পরিচালককে নিবন্ধন দিতে নির্দেশ দেন।

কিন্তু এই রায়ের নকল পেতে তাদের প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় লেগে যায়।  রায়ের সার্টিফাইড কপি পেতে জিপিইইউয়ের পক্ষে ৬ বারের বেশি আবেদন করলেও তারা কোনো কপি পাননি।

শেষে জিপিইইউয়ের পক্ষে হাইকোর্টে একটি রিট মামলা দায়ের করা হয় (১৭১৯৭/২০১৭)।  রিটের শুনানি শেষে আদালত এক মাসের মধ্যে রায়ের কপি প্রদানের জন্য শ্রম আপিল ট্রাইবুনালকে নির্দেশ দেন। অবশেষে দীর্ঘ ৬ বছর পর ৯ জানুয়রি রায়ের কপি মেলে।

এরপর ১০ জানুয়ারি রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়নের কাছে রেজিস্ট্রেশন প্রদানের জন্য আবেদন করে সংগঠনটি। শ্রম আইনের ১৮২ নং ধারা অনুয়ায়ী ৭ দিনের মধ্যে এই রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট প্রদান করার কথা কিন্তু আজ ২৬ দিনেও তা মেলেনি তাদের।

২০১২ সালে গ্রামীণফোন অ্যাপ্লয়িজ ইউনিয়ন নামে ট্রেড ইউনয়ন গঠন করা হয়।

জিপিইইউ গঠন হয় ২০১২ সালের ১৪ জুন। ২৩ জুন নিবন্ধনের জন্য শ্রম পরিচালকের কাছে আবেদন করে সংগঠনটি। শ্রম পরিচালক আবেদন বাতিল করে দেন ২৯ জুলাই। এর বিরুদ্ধে একই বছরের ২৬ আগস্ট  ২ নং  শ্রম আদালতে আপিল করে ইউনিয়ন।

এর পর আপিলের শুনানিতে বিব্রত বোধ করায় ২০১৪ সালের শেষে নাগাদ বিচারক মামলাটি শ্রম আপিল ট্রাইবুনালের পঠিয়ে দেন। সেখানে আবেদন করা হয় শুনানির জন্য।  ২০১৫ সালের শুরুরে দিকে ইউনিয়ন নিজেদের পক্ষে রায় পায়।

এতে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ ১৫ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে রিট করে। হাইকোর্ট তা আবার ট্রাইবুনালে অন্য বিচারকের আদালতে ফেরত পাঠায়। ট্রাইবুনাল হতে এটি যায় ১ নং শ্রম আদালতে। সেখানে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষের পক্ষে রায় দেন শ্রম আদালত।

এই রায় নিয়ে ইউনিয়ন আপিল ট্রাইবুনালে আবেদন করে। মামলাটিতে জিপিইইউ এর পক্ষে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এবং বিপক্ষ শ্রম পরিচালক। গ্রামীনফোন আপিল মামলা নং- ৪৩/২০১৫।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

Related posts/