আকাশপথে ওয়াই-ফাই দখলের লড়াই

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আকাশপথের ওয়াই-ফাইয়ের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। উড়োজাহাজে যাত্রীরা সর্বক্ষণ এখন দ্রুতগতির ইন্টারনেটের আওতায় থাকছেন। নতুন এ ব্যবসা খাতে প্রবেশের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে অনেক প্রতিষ্ঠান।

স্যাটেলাইটের সুবাদে উড়োজাহাজের ইন্টারনেট স্পিড অত্যন্ত দ্রুতগতির হয়ে থাকে। এমনকি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কম দামে স্থলভাগের চেয়ে বেশি দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যাচ্ছে উড়োজাহাজে।

কিন্তু বর্তমানে উড়োজাহাজের ওয়াই-ফাইয়ের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ স্ট্যান্ডার্ড সিস্টেম অনুসরণ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, কু ব্যান্ড ও কা ব্যান্ডের মধ্যে কোনটিকে আদর্শ হিসেবে ধরা হবে?

airplane_wi-fi_techshohor

উড়োজাহাজ কোম্পানিগুলো বলছে, লাখ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে কোনো সিস্টেম স্থাপন হওয়ার পর তা পুরনো হয়ে যাবে- এমনটা তারা চান না। যেটা হয়েছিল বেটাম্যাক্সের ক্ষেত্রে। এই ভিডিও ক্যাসেট স্ট্যান্ডার্ডটি একসময় সব উড়োজাহাজে স্থাপন করার কিছুদিনের মধ্যে সিডি এসে ভিডিও ক্যাসেটের বাজারকে বিলুপ্ত করে দেয়।

প্রসঙ্গত, গত নভেম্বরে মার্কিন এভিয়েশন প্রশাসন আকাশপথে যাত্রীদের স্মার্টফোন, ট্যাব, ই-রিডার ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এরপরই মূলত চাঙ্গা হয়ে ওঠে এ সংক্রান্ত সম্ভাব্য বাণিজ্য ক্ষেত্র। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ ভাগ বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে ওয়াই-ফাই রয়েছে। আগামী দশ বছরে বিশ্বব্যাপী উড়োজাহাজে ইন্টারনেট সংযোগের হার তিনগুণ বাড়তে পারে।

তবে এজন্য উড়োজাহাজগুলোর ট্রান্সমিশন পদ্ধতিতে কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। এখনও বেশিরভাগ প্লেন স্থল যোগাযোগ ব্যবহার করে। একে সম্পূর্ণ স্যাটেলাইটভিত্তিক করা হবে।

এয়ারবাস কোম্পানির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস এমারসন এ ব্যাপারে বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাত্রীরা যাত্রাপথেও সারাক্ষণ ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকতে চাইবেন। এটি দামেও স্থলের ইন্টারনেটের মতো হতে হবে।’

এ ছাড়া স্যাটেলাইট ব্যবহারের ফলে উড়োজাহাজে ইন্টারনেট গতি যথেষ্ট উন্নত হবে জানা গেছে। আগামী বছর নাগাদ এ স্পিড সেকেন্ডে ৭০ মেগাবিট হবে, যা দিয়ে দুটি হাই রেজুল্যুশন মুভি ৪০ মিনিটে ডাউনলোড করা যাবে। এই গতি অবশ্য সব যাত্রীদের মধ্যে শেয়ার করা হবে।

এ খাতের বিনিয়োগকারীরা আশা করছে, বিশ্বব্যাপী এ ইন্টারনেট ছড়িয়ে পড়ার পর প্লেন কোম্পানি ও ইন্টারনেট সেবাদাতা—দুই পক্ষই লাভবান হবে। নতুন অ্যান্টেনা, রেডিও, রাউটার ইত্যাদির জন্য হার্ডওয়্যার খাতেও নতুন ব্যবসা ক্ষেত্র যোগ হবে।

তবে বড় বিনিয়োগ করে উড়োজাহাজগুলোতে ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার পর এ পদ্ধতি ‘ব্যাকডেটেড’ হওয়ার হুমকি আছে কিনা, তা নিয়েই এখন আলোচনায় বসেছে বিশ্বের শীর্ষ এয়ারলাইন্সগুলো।

হাওয়াইয়ান এয়ারলাইন্সের পক্ষে থেকে জানানো হয়েছে, আকাশপথে ওয়াইফাই প্রযুক্তি এখনও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর্যায়ে আছে। তাই এখনও তারা চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

জার্মান এয়ারলাইন ডয়েচ লুফথানসা অবশ্য ইতোমধ্যে তাদের ৯০ ভাগ বিমানে স্যাটেলাইট সংযোগের কাজ শুরু করেছে। তাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিস্টোফ ফ্রাঞ্জ এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমরা কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছি। এর মধ্যে প্লেনগুলোতে ইন্টারনেট সংযোগের জন্য কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে।’

এ সংক্রান্ত প্রতিটি ক্ষেত্র ‘স্ট্যান্ডার্ড’ হওয়ার আগ পর্যন্ত অনিশ্চয়তা চলতে থাকবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। যে কোনো কোম্পানির এ ব্যবসার শীর্ষস্থান দখল করে ব্যাপক মুনাফা লাভের সুযোগ রয়েছে, তাই এ নিয়ে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হবে বলেও তারা মন্তব্য করেছেন।

রয়টার্স অবলম্বনে শাহরিয়ার হৃদয়

Related posts

*

*

Top