Maintance

তারকারাই সোশ্যাল মিডিয়ার কালোবাজারের ক্রেতা

প্রকাশঃ ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, জানুয়ারি ২৯, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৪:১৪ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ২৯, ২০১৮

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সোশ্যাল মিডিয়ায় কালোবাজারি বেড়েই চলছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কিভাবে পশ্চিমা সেলিব্রেটিদের প্রায় সবাই বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে ফেইক ফলোয়ার কিনে নিচ্ছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশাল এই কালোবাজারটি বিশেষত টুইটার ফলোয়ার কেন্দ্রিক। ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বের মোট টুইটার অ্যাকাউন্টের ১৫ শতাংশই ভুয়া। যদিও টুইটারের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, বাস্তবে সংখ্যাটি এর চেয়ে অনেক কম।

এই ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো বট দ্বারা সৃষ্টি করা হয়। বাস্তব কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে তথ্যকে একটু এদিক সেদিক করে ভুয়া অ্যাকাউন্ট বানানো হয়। যেমন বড় হাতের আইয়ের জায়গায় ব্যবহার করা হয় ছোট হাতের এল। আরও অন্যান্য পরিবর্তন যা মানুষের অমনোযোগী চোখকে ফাঁকি দিতে পারে।

এমনই একটি ফেইক ফলোয়ার বিক্রি করা কোম্পানির নাম ডিভুমি। বটের মাধ্যমে তাদের সৃষ্ট ৩ দশমিক ৫ মিলিয়ন অ্যাকাউন্ট দিয়ে দুইশ’ মিলিয়ন ফলোয়ার বিক্রি করেছে কোম্পানিটি। দুই লাখ মানুষ কোম্পানিটির কাছ থেকে ফলোয়ার কিনেছেন। ক্রেতাদের তালিকায় আছেন অভিনেতা, পেশাদার খেলোয়াড়, মোটিভেশনাল স্পিকারসহ আরও অনেকে।

Celebrity-Social-techshohor

ফলোয়ার বাড়ানোর দৌঁড়ে শামিল হওয়ার পেছনে আছে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য। যে সেলিব্রেটির যতো বেশি ফলোয়ার তার প্রমোশনাল টুইট ও প্রচারণা থেকে ততো বেশি টাকা আসে। অনেক সেলিব্রেটি ভার্চুয়াল ফলোয়ারদেরকে টাকার সঙ্গে তুলনা করেছেন।

Symphony 2018

আসলেই ফলোয়ার কেনা যায় কিনা তা দেখার জন্য নিউইয়র্ক টাইমস নিজেই ডিভুমির কাছে ক্রেতা সেজে ফলোয়ার কেনার অনুরোধ করে। ২২৫ মার্কিন ডলারের বিনিময়ে তাদেরকে ২৫ হাজার ফলোয়ার দেওয়া হয়। যার মধ্যে ১০ হাজার আইডি দেখতে হুবহু বাস্তবের মতো। বাকি থাকা ১৫ হাজার দেখে অবশ্য সহজেই বোঝা যায় আইডিগুলো ফেইক।

অভিনেতা ডিড্রে লাভজয় নিজেও একজন ফেইক ফলোয়ার ক্রেতা। তিনি বলেন, সবাই এটা করছে।

এদিকে, কোম্পানিগুলো কিভাবে এতো টুইটার অ্যাকাউন্ট সৃষ্টি করে তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে ধরা পরে, বটের দ্বারা বাস্তব টুইটার আইডিকে হুবহু কপি করে মাঝখান থেকে কিছু ছোট পরিবর্তন আনা হয়।

নিজের আইডির মতো ফেইক আইডি অনলাইনে দেখেছেন টুইটার ব্যবহারকারী জেসিকা রিকলি। ১৯ বছর বয়সী এই মার্কিন তরুণী বলেন, আমি আমার ছবি ও নাম অন্য কোনো আইডিতে দেখতে চাই না। এটা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে, এসব সব অভিযোগকে অস্বীকার করেছে ডিভুমি। তারা মনে করেন, টুইটার আইনত যেসব বিষয়কে বৈধ করে রেখেছে তার সুবিধাই তারা নিচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এমন অনেক কোম্পানি আছে যারা এমন সোশ্যাল ফলোয়ার বিক্রয় করছে। এসবকে কেন্দ্রকে গড়ে উঠেছে সোশ্যাল কালো বাজার। যেখানে ভার্চুয়াল প্রোফাইল বিক্রয় করে অনেকেই টাকা আয় করে থাকেন।

নিউইয়র্ক টাইমস অবলম্বনে এম. রহমান

*

*

Related posts/