Maintance

ভুয়া নিউজ দমনে বাংলাদেশে কার্যকর উপায় কোনটি?

প্রকাশঃ ৬:৫৬ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ২৮, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:০৫ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ২৯, ২০১৮

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ভুয়া নিউজ দমনে সেল্ফ সেন্সরশিপ না আইনের প্রয়োগ, বাংলাদেশের জন্য কার্যকর উপায় কোনটি ?

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এ  ‘ফেইক নিউজ ভার্সেস রিয়েল পলিটিকস’  শীর্ষক সেমিনারে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের এমন প্রশ্নে আলোচকরা গণমাধ্যমকেই ভুয়া সংবাদ প্রতিরোধে মূল দায়িত্ব নেয়ার কথা বলেন ।

পলক প্রশ্ন করেন, আমরা জানি ভুয়া খবর দমনের দুটি উপায় রয়েছে, যার একটি শক্ত আইনের প্রয়োগ ও অন্যটি সেলফ সেন্সরশিপ। বাংলাদেশের জন্য কোন পন্থাটি অধিক কার্যকর? অধিক আইনের প্রয়োগের ফলে বাকস্বাধীনতায় বাধা পড়তে পারে। অতএব কোনটির দিকে জোর দেয়া উচিত- সেলফ সেন্সরশিপ নাকি আইনের প্রয়োগ?

পলকের প্রশ্নে আলোচনায় অংশ নেন নিউইয়র্ক টাইমসের ম্যানেজিং এডিটর জোসেফ কান, রয়টার্সের ডেপুটি এডিটর ইন চিফ অ্যানা বেলিকনা, উইকিপিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েলস, বিবিসির জয়নব বাডাউইসহ আরও অনেকে।

অ্যানা বেলিকনা বলেন, প্রেস, টিভি ও মূলধারার গণমাধ্যমের প্রায় পুরোটাই সেন্সরকৃত। গণমাধ্যমের অংশ হিসেবে আমি বলতে চাই ভুয়া সংবাদ প্রতিরোধের মূল দায়িত্ব গণমাধ্যমের। একে অপরকে পরীক্ষা করার মাধ্যমে আমরা ভুয়া সংবাদ দেয়া থেকে সবাইকে দূরে রাখতে পারব। ভুল থাকলে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকেই তার জবাব দিতে হবে, দুটি একটি নয়।

জিমি ওয়েলস বলেন, যে সকল দেশে গণতন্ত্র দুর্বল, সরকারের তরফ থেকে গণমাধ্যমকে চাপে রাখা হয়, সেসব দেশে শক্ত সরকারি নিয়ন্ত্রণ। আবার আমি সেলফ সেন্সরশিপেও বিশ্বাস করি না। আমি মনে করি, গণমাধ্যমকে আরও ক্ষমতাধর করার মাধ্যমে যখন আরও বেশি সংবাদ সামনে আসতে শুরু করবে তখনই ভুয়া সংবাদ নিজ থেকেই হারিয়ে যাবে।

জোসেফ কান বলেন, আমেরিকা ও রাশিয়া দুটি দেশেই ভুয়া সংবাদ ঠেকানোর নামে বাক স্বাধীনতা কেড়ে নিতে তৈরি হচ্ছে। রাশিয়ার ফরেন মিনিস্ট্রি বিশাল একটি সিলের মাধ্যমে গোটা সংবাদকেই মন মত না হলে ভুয়া বলে সাব্যস্ত করে থাকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এমন ভুয়া সংবাদ পুরস্কার দেয়া শুরু করেছেন। এদেরকে খবর নিয়ন্ত্রয়ণের অধিকার দেয়ার অর্থ অথরিটারিয়ানিজমের শুরু।

Symphony 2018

আমি মনে করি, আরও বেশি খবরের মাধ্যমেই ভুয়া সংবাদ বন্ধ করা সম্ভব। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে শক্তিশালী রিপোর্টিং আমি খুবই জরুরি মনে করি। আর এর মাধ্যমেই একদিন ভুয়া সংবাদ প্রতিহত করা সম্ভব-বলেন জোসেফ কান।

জয়নব বাডাউই বলেন, যুক্তরাজ্য একটি সংস্থা তৈরি করছে সেন্সরশিপের জন্য।  ফ্রান্স ও জার্মানি ইতোমধ্যেই সেদিকে হাত দিয়েছে।  বিশেষত জার্মানিতে ভুয়া সংবাদ ছড়ালে বিশাল অংকের জরিমানার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

ফোরামের আরেক সেমিনারে ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দেন পলক।

শেয়ার্ড ফিউচার্স’ শীর্ষক সেমিনারে নিউজিল্যান্ডের ট্রেড অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজের দক্ষিণ এশিয়া শাখার প্রধান অ্যান লকফ পলককে প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশকে কিভাবে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন?

উত্তরে পলক বলেন, আমরা চেষ্টা করছি দক্ষতা অর্জনের, যার মাধ্যমে গ্লোবাল ডিজিটাল ইকোনমির সঙ্গে যুক্ত হওয়া যাবে। আমরা এর সঙ্গে তরুণ ডিজিটাল উদ্যোক্তাদেরকে প্রণোদনা দেয়ার জন্য স্টার্টআপ বাংলাদেশ প্ল্যাটফর্ম চালু করেছি। হাইটেক পার্ক তৈরি করছি। বিভিন্ন ডিজিটাল সেবার মাধ্যমে নাগরিকদের যুক্ত করছি- যার ফল আমরা এর মাঝেই পেতে শুরু করেছি।

‘বিশ্বের সর্বাধিক অনলাইন কর্মী আমরাই দিচ্ছি। এর মাধ্যমে একটি বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতি তৈরিতে বাংলাদেশ থেকে সাহায্য করছি’-বলছিলেন পলক।

এস এম তাহমিদ

 

*

*

Related posts/