কনটেন্ট নয়, প্রতিহিংসা তৈরির পেছনে গেইম প্লে

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্মিলর : গেইম খেলার ফলে আক্রমণাত্মক ও প্রতিহিংসার মনোভাব তৈরি হয়, এ ধারণা নতুন নয়। বিভিন্ন গেইমের নিষ্ঠুর ও সহিংসতামূলক দৃশ্যকে এজন্য দায়ী করা হতো এতদিন। কিন্তু নতুন এক গবেষণায় জানা গেছে, গেইমের কনটেন্ট নয়, বরং গেইমপ্লের ওপর গেইমারদের মানসিকতা নির্ভর করে।

বেশ কয়েকরকম গবেষণার পর গবেষকরা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর মধ্যে ছিল বিখ্যাত শুটিং গেইম হাফ লাইফের সহিংসতামুক্ত একটি ভার্সন তৈরি করা।

এই ভার্সন খেলার পরও গেইমারদের মনস্তত্ত্বে তার প্রভাব পড়তে দেখা গেছে। গেইমটির গেইম প্লেকে বা খেলার ধরণকেই এজন্য দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

game_Violence_gameplay_techshohor

গবেষক দলের সদস্য অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইন্সটিটিউটের অ্যান্ড্রু প্রেজিলিস্কি বলেন, এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন। দুয়েকটা গেইমের বিশ্লেষণ থেকে এ জটিল মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টি পূর্ণভাবে বোঝা যাবে না।

সহিংসতার সঙ্গে ভিডিও গেইমের সম্পর্ক মনোবিজ্ঞানের বহুল বিতর্কিত একটি বিষয়। সাম্প্রতিক আরেক গবেষণায় এমনও দেখা গেছে, সহিংসতাপূর্ণ গেইম খেলার ফলে টিনেজারদের নীতিবোধ অনেক কমে যেতে পারে।

বিশেষ করে যারা দিনে তিন ঘণ্টার বেশি সময় এ ধরনের গেইম খেলেন, তাদের জন্য ব্যাপারটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ।

ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড জানিয়েছে, এর পেছনে যে গেইম প্লের ভূমিকা রয়েছে তা এই গবেষণাতেই প্রথম জানা গেল। জার্নাল অফ পার্সোনালিটি অ্যান্ড সোশ্যাল সাইকোলজিতে তারা এ সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।

সহিংস কনটেন্টই গেইমারদের আক্রমাণাত্মক মানসিকতার কারণ কিনা তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য গবেষণা শুরু করা হয়েছিল।

Walking_Dead_Game_Season_2_techshohor

হাফ লাইফ গেইমের উপর ভিত্তি করে ছয়টি পৃথক পরীক্ষায় গবেষকরা নিশ্চিত হন, একে অন্যকে হারানো হিংসামূলক মনোভাবই গেইমারদের মানসিকতা আক্রমণাত্মক দিকে নিয়ে আচ্ছে।

এ সমস্যার সমাধানে বিশেষজ্ঞরা জানান, গেইমের কনটেন্টে সহিংসতা কমানোর পাশাপাশি গেইম প্লে থেকে প্রতিশোধ ও হিংসাত্মক ধারণা দূর করা জরুরি। সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের গেইম এ ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

– বিবিসি প্রতিবেদন অবলম্বনে

ট্যাগ

Related posts

*

*

Top