Maintance

টেশিসে কোনো ডিভাইস নাই, বিনা কাজে বেতন নিচ্ছেন ইঞ্জিনিয়াররা

প্রকাশঃ ৩:৫০ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ১৮, ২০১৮ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১১:২৫ পূর্বাহ্ন, জানুয়ারি ২০, ২০১৮

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সরকারের ল্যাপটপ উৎপাদনকারী টেলিফোন শিল্প সংস্থা বা টেশিসের স্টকে গত আট মাস ধরে কোনো ধরনের ডিভাইস নাই। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইঞ্জিনিয়াররা ঘুরে বেড়িয়ে বেতন নিচ্ছেন।

সংস্থাটির এমন কর্মকাণ্ডে বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।

বৃহস্পতিবার গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটনের কম্পিউটার তৈরির কারখানা উদ্বোধনের পর এক সংবাদিকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকও উপস্থিত ছিলেন।

মোস্তাফা জব্বার বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ল্যাপটপ উৎপাদনকারী একটি সংস্থার কাছে কোনো ল্যাপটপ নাই, নাই কোনো ডিভাইস। সংস্থাটির ৩৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আরামে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, ইঞ্জিনিয়াররা বিনা কাজে বেতন নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছুটিতে ছিলেন। আগামী রোববার তিনি আমার কাছে আসবেন কথা বলতে।

চীন থেকে পণ্য তৈরি করে এনে টেশিসের সিল দিয়ে বিক্রির অভিযোগ শোনা যায়; টেকশহর ডটকমের এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার বলেন, টেশিসের প্রোডাকশন লাইনআপ আছে, অ্যাসেম্বল লাইনআপ রয়েছে, নিজস্ব পণ্য উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে, অথচ তারা বিল্ট-ইন পণ্য বিক্রি করে।

টেশিসের এমন কর্মকাণ্ডে মন্ত্রী বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এমন চলতে দেওয়া যাবে না বলেও জানান।

বৃহস্পতিবার ওয়ালটনের ওই কম্পিউটার তৈরির কারখানা উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বড় বড় কম্পিউটার তৈরির ব্র্যান্ডের সঙ্গে নিজেদের নাম লেখালো।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাইটেক ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এসএম শামসুল আলম, ওয়ালটন ডিজিটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এসএম রেজাউল আলম এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম মঞ্জুরুল আলম।

৩ লাখ বর্গফুটের বিশাল এই কারখানায় আয়োজন করা হয়েছে কম্পিউটার সংযোজন-উৎপাদনের এক মহাযজ্ঞ। ল্যাপটপ ও ডেস্কটপের ডিজাইন ডেভেলপ, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ, মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও টেস্টিং ল্যাব নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ এই কারখানা।ওয়ালটন কর্মকর্তারা জানান, কারখানার জন্য যে যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে জার্মান ও জাপান প্রযুক্তির। দেশী-বিদেশী প্রকৌশলীসহ কারখানায় সব মিলিয়ে এখন প্রায় কর্মী এক হাজার।

প্রাথমিকভাবে প্রতি মাসে ৬০ হাজার ল্যাপটপ, ৩০ হাজার ডেস্কটপ এবং ৩০ হাজার মনিটর উৎপাদনের লক্ষ্য তাদের। শুরুতে বিনিয়োগ প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।

শিগগির রপ্তানিও শুরু করবেন তারা। মার্চে নেপালের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি চুক্তিও হওয়ার কথা রয়েছে।

আল-আমীন দেওয়ান

*

*

Related posts/