গেম রিভিউ : প্লেস্টেশন ভিটা ২০১৩

টেক শহর ডেস্ক : যেখানেই যান না কেন, হাতের কাছে কিছু গেইম না থাকলে যাদের চলে না- তাদের দীর্ঘদিনের বন্ধু সনি প্লেস্টেশন পোর্টেবল (পিএসপি)। অবশ্য ফোনে টুকটাক যারা গেইম খেলেন তারা নয়, পিএসপির মূল ব্যবহারকারী হার্ডকোর গেইমাররা। ২০০৪ সাল থেকে তাদের চাহিদা মিটিয়ে আসছে পিএসপি।

সম্প্রতি বাজারে এসেছে পিএসপির পরবর্তী প্রজন্মের কনসোল পিএসভিটার সর্বশেষ সংস্করণ পিসিএইচ-২০০০। ২০১১ সালে প্রথম পিএসভিটা মুক্তি পেয়েছিল, যা এ পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ২২ লাখ ইউনিট। দুই বছরের মাথায় সনি একে আরও যুগোপযোগী করে বাজারে এনেছে।

হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইসের জন্য হাতের স্বস্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন পিএসভিটা আগেরটির তুলনায় ২০ ভাগ পাতলা। ওজনও ১৫ ভাগ কমিয়ে মাত্র ২১৯ গ্রাম করা হয়েছে। আগের পিএসপি বা পিএসভিটা সাধারণত প্যান্ট বা জিন্সের পকেটে ঢোকানো যেত না; কিন্তু একটু বড় পকেট হলে নতুন ভিটা তাতে ঢুকে যেতে পারে।

psv_con_2000_Tech Shohor

এছাড়া স্ক্রিনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন করা হয়েছে। আগের ভিটায় ওএলইডি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছিল, যা ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছিল। এবারে এক্সপেরিয়া সিরিজের স্মার্টফোনগুলোর মতো সনি এলসিডি স্ক্রিন ব্যবহার করেছে। ওএলইডির ইমেজ কোয়ালিটি সবদিক দিয়ে এলসিডির চেয়ে ভালো হওয়ার পরও কেন সনি তা এলসিডি বেছে নিল, তা নিয়ে বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে তাদের।

প্রথমবারের মতো ভিটা পাওয়া যাচ্ছে চারটি রঙে- গোলাপী, কালো, সাদা ও লাইম গ্রিন। মূল ওভাল আকৃতিটি ঠিক করে ছোটখাটো পরিবর্তন আনা হয়েছে আউটলুকে। বাটনগুলোকে আগের চেয়ে স্টাইলিশ ও রঙ্গিন করা হয়েছে। ফলে আনকোরা ডিজাইনের পিএসভিটা হয়তো পাবেন না, কিন্তু আজকের অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইসগুলোর মতো ‘স্মার্টনেস’এর ছোঁয়া পাবেন এতে।

নতুন ভিটার আরেক গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য বিল্ট-ইন স্টোরেজ। ১ গিগাবাইট স্টোরেজ থাকার ফলে আলাদা টাকা দিয়ে সনির নিজস্ব মেমোরি কার্ড কেনা আবশ্যক নয়। অবশ্য যারা একসঙ্গে বেশ কিছু গেইম রাখতে চান, তাদের মেমোরি কার্ড কিনতেই হবে।

গেইমাররা অনেকসময়ই গেইমিং ডিভাইসের সৌন্দর্য কিংবা বাড়তি সুবিধাগুলো পাত্তা দেন না; তারা চান পূর্ণাঙ্গ গেইমিং এক্সপেরিয়েন্স। এক্ষেত্রে বলতে হবে, আগের পিএসভিটার চেয়ে গেইমিং এক্সপেরিয়েন্স এতে খুব ভিন্ন হবে না। ডিভাইসটির আকার ও বাটন পুনর্বিন্যাসের কারণে আগের চেয়ে আরামে খেলতে পারবেন, গ্রাফিক্স আগের চেয়ে কিছুটা উন্নত পাবেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুটিয়ে গেইম খেলতে পারেন, পারফরম্যান্সে কোনো এদিক-সেদিক হবে না। আর অতিরিক্ত বিভিন্ন ফিচার ও অ্যাপ্লিকেশন, যেমন- ব্রাউজিং, স্কাইপ, টুইটার, ফেইসবুক, মিউজিক প্লেয়ার রয়েছে আগের মতোই। টাচস্ক্রিনটি পুরোপুরি স্মুথ হলেও টাইপ করা স্মার্টফোনের চেয়ে কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে।

এ ধরনের যেকোনো ডিভাইসের ক্ষেত্রেই ব্যাটারি লাইফ অপরিহার্য বিষয়। আর এখানেই নতুন পিএসভিটা ছাড়িয়ে গেছে অন্যসব পোর্টেবল কনসোলকে। আগের ভিটার সাড়ে চার ঘণ্টার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও প্রায় চার ঘণ্টা। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টা একটানা গেইম খেলতে পারবেন এতে।

সামনের মাসেই বাজারে আসছে সনির নতুন প্লেস্টেশন ফোর। ধারণা করা হচ্ছে, রিমোট প্লে’র মাধ্যমে প্লেস্টেশন ফোর ও পিএসভিটাকে যুক্ত করার সুবিধা থাকবে। আরও আসছে প্লেস্টেশন ভিটা টিভি নামে একটি ডিভাইস, যার সাহায্যে আপনি ভিটার গেইমগুলো টিভিতে খেলতে পারবেন। অর্থাৎ সব মিলিয়ে দেখা যায়, একটি স্মার্ট ডিভাইস থেকে ব্যবহারকারী যা যা আশা করেন, তার সবকিছুই প্লেস্টেশন সিরিজে দেওয়ার চেষ্টা করছে সনি। ফলে গেইমারদের শুধু গেইম খেলাই আগের চেয়ে সহজ হবে না, একইসঙ্গে প্লেস্টেশন ডিভাইসগুলোও তাদের ডিজিটাল লাইফস্টাইলের অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়াবে।

তবে বাংলাদেশি গেইমারদের ডিভাইসটি হাতে পাওয়া পর্যন্ত আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে, কারণ এটি আপাতত কেবল জাপানে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাজারে আসার জন্য অপেক্ষা করতে হবে এই বছরের শেষ পর্যন্ত।

হাসান শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর প্রতিবেদক

Related posts

*

*

Top