স্প্লিন্টার সেল সিরিজের সেরা গেইম ব্ল্যাকলিস্ট

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গেল বছরের শেষ দিকে ফ্রান্সের নির্মাতা ইউবিসফট বাজারে আনে স্টেল্থ গোত্রের অন্যতম আইকন সিরিজ স্প্লিন্টার সেলের ষষ্ঠ গেম, স্প্লিন্টার সেল : ব্ল্যাকলিস্ট। এর আগের পর্ব কনভিকশন তুমুল সফল হওয়ায় বিবেচিত হওয়াতে সেটির সিক্যুয়েল হিসাবে এবারের গেইমের দিকে চোখ ছিল অনেক গেইমার ও সমালোচকদের।

কনভিকশনের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের টপ সিক্রেট সংগঠন ‘থার্ড এসেলোনকে’ সম্পুর্ণ ভেঙে যেতে দেখা যায়। ব্ল্যাকলিস্টের শুরুতে এ থেকে ‘ফোর্থ এসেলোন’ নামে আরেকটি সংগঠন পুনর্গঠিত হয়, যার কমান্ডার গেইমের নায়ক স্যাম ফিশার নিজেই। তার দৃষ্টি এবার ‘ব্ল্যাকলিস্ট থ্রেট’ নামে এক জরুরি অবস্থার দিকে। এ হুমকির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বেশ কিছু হামলার হুমকি দিয়েছে শত্রুরা। পরিবেশ বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত স্যাম ফিসারের কাছের বন্ধু অ্যানাকে নিয়ে আবারও শুরু হয় এ নায়কের অ্যাডভেঞ্চারের গল্প।

Splinter_Cell_Blacklist_Game_techshohor

সিরিজটির ভক্তরা প্রথমেই হোঁচট খাবেন এবারের স্যাম ফিশারকে দেখে। সেই দৃঢ় ব্যক্তিত্ব, কঠোর চেহারা ও রক্তজল করা কন্ঠস্বরের স্যাম ফিশারের জায়গায় এবার হাজির হয়েছে অনেকটা ‘ভদ্রলোক’ স্যাম ফিসার! ব্যাপারটা অনেকটা জেমস বন্ড বুড়িয়ে যাওয়ার মতোই!

অবশ্য তাই  বলে এর গেইমপ্লেকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। এটি এ সিরিজের সেরা গেইমপ্লে। প্রতিবারের মত এবারও ফিশারের সবচেয়ে বড় আশ্রয় হলো শ্যাডো বা ছায়া। ছায়া ও নানা জিনিসপত্রের আড়ালে লুকিয়ে থেকে সে শত্রুদের ঘায়েল করতে পারে বিভিন্নভাবে। বিদ্যুৎগতিতে হত্যা, ধীরে-সুস্থে হত্যা, পেছনে দৌড়ে গিয়ে হত্যা, বিল্ডিংয়ের উপর থেকে লাফ দিয়ে হত্যা, শিস দিয়ে কাছে ডেকে এনে হত্যা—এসব ছাড়াও খুন করার নতুন অনেক উপায় যোগ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে আর তার সাথে বিখ্যাত ‘এক্সিকিউট’ ফিচার আছে, যা কনভিকশনে খুবই জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। এর ফলে তিন শত্রুকে মার্ক করে চোখের পলকে একই সময়ে হত্যা করা যাবে। কিন্তু সবসময় সময় ব্যবহার করা যাবে না এটি। প্রতি তিনটি সাইলেন্ট টেইকডাউনের পর একবার করে কাজে লাগানো যাবে।

সবসময় যে লুকিয়ে লুকিয়ে খেলতে হবে তা না। তিন রকম ভাবে খেলা যাবে- গোস্ট, প্যান্থার ও অ্যাসল্ট। কিন্তু যেভাবেই খেলুন না কেন এবার স্যাম ফিশারের কাছে থাকছে গ্যাজেটের ছড়াছড়ি। এই প্রথমবারের মত প্রত্যেকটি মিশনের আগে ঠিক করা যাবে অস্ত্রসস্ত্র ও গ্যাজেট।

সুবিশাল মার্কেটে পাওয়া যাবে দেয়ালের ভেতর দিয়ে দেখার সনার গোগলস, নাইট ভিশন, শক্তিশালী আগ্নেয়াস্ত্র, ভিন্ন পরিস্থির জন্যে ভিন্ন রকমের গ্রেনেড, নিজেকে রক্ষার জন্যে আরমোর, পদধ্বনি মিলানোর বুটজুতো, ইত্যাদি। টিমমেটদের দেওয়া ছোট ছোট মিশন খেলে পয়েন্ট বাড়ানো যাবে- যা দিয়ে কেনার সুযোগ হবে আরও বেশি প্রয়োজনীয় গ্যাজেট ও অস্ত্র।

ব্ল্যাকলিস্টের গ্রাফিক্স বা সাউন্ডওয়ার্কসের জন্য একে ফুল মার্ক দেয়া যেতে পারে। রহস্যময় আলো-আঁধারের পরিবেশ আর লুকিয়ে মিশনে আসার মজা পাওয়া যেত না এ দুটি ছাড়া।

গেইমটিকে সব মিলিয়ে স্টেলথ ও অ্যাডভেঞ্চারের একটি দারুণ মিশ্রন বলা যায়। অনেকটা স্ট্র্যাটেজির ধাঁচও আছে, কারণ প্রত্যেকটি পদক্ষেপই সেরকম চিন্তাভাবনা ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিতে হবে। কেবল চোখ বন্ধ করে গুলি চালিয়ে যেতে চান যারা, তাদের পছন্দ না-ও হতে পারে।

Related posts

*

*

Top