জলদস্যূতার স্বর্ণযুগে নিয়ে যাবে অ্যাসাসিনস ক্রিড ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : দস্যুতা, দুঃসাহস আর প্রতিশোধের গেইম অ্যাসাসিনস ক্রিড ব্ল্যাক ফ্ল্যাগ। একদিকে জলদস্যুর জীবনের দুরন্ত গতি, অন্যদিকে উপভোগ্য প্রতিটি মুহূর্ত- সব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে অ্যাসাসিনস ক্রিড সিরিজের সেরা গেইম। মধ্যের কয়েকটি গেইম মনমতো না হওয়ার যে অভিযোগ তুলেছিলেন গেইমাররা, ব্ল্যাগ ফ্ল্যাগ দিয়ে তা ষোলআনা পুষিয়ে নিলো নির্মাতা ইউবিসফট।

গেইমের পটভূমি ১৭১৫ সাল, অর্থাৎ জলদস্যুতার স্বর্ণযুগ। এ ধরনের পটভূমির এটাই প্রথম অ্যাকশন-অ্যাডভেঞ্চার গেইম। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বিস্তৃত সমুদ্র আর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা দ্বীপ এবার আপনার বিচরণক্ষেত্র। জলদস্যুদের নিষ্ঠুর জগতকে উপস্থাপন করা হয়েছে নিখুঁতভাবে। তবে গেইমপ্লের প্রতি পদে এত বৈচিত্র্য আর মজা রয়েছে যে আপনার মনেই হবে না দুর্ধর্ষ দস্যুরা সারাক্ষণ ঘাড়ের কাছে ওঁত পেতে আছে।

Black Flag_techshohor

গেইমটির পরিবেশে একেবারে নতুন কিছু সংযোজন আছে, যা এর আগে অন্য কোনো গেইমে দেখা যায়নি! সমুদ্রের পরিধি এতো ব্যাপক ও বৈচিত্র্যময় যে মনে হবে সত্যিই বুঝি অথৈ সাগরে হারিয়ে গেছেন। পরিবেশের সঙ্গে মিল রেখেই যেন প্রতিটি চরিত্র ডিজাইন করা হয়েছে।

বিশেষ করে নায়ক এডওয়ার্ড কনওয়েকে দেখে মনে হবে, দীর্ঘদিন পর যেন সিরিজের শুরুর দিকের নায়ক এজিও ফিরে এসেছে। গেইমের নায়কদের মধ্যে বেশিরভাগ সময় সততা, মূল্যবোধ ইত্যাদি মানবীয় গুণাবলী যা দেখা যায়, তা এডওয়ার্ডের নেই বললেই চলে। সে আদপেই জলদস্যু। ভালোমন্দ বাছবিচারের সময় নেই। গুপ্তধন খুঁজে, জুয়া খেলে আর মদ খেয়ে তার দিন কাটে।

নায়কের এই বুনো ও উড়নচণ্ডী স্বভাব গেইমপ্লেকে অন্য এক গতি আর আকর্ষণ দিয়েছে। এডওয়ার্ডের জাহাজ জ্যাকডের কথাও না বললেই নয়; তার যাবতীয় অ্যাডভেঞ্চার আর দস্যিপনার সঙ্গী এই জাহাজ।

এডওয়ার্ডকে নিয়ে আপনার মূল লক্ষ্য দ্য অবজারভেটরি নামে এক রহস্যময় জায়গা খুঁজে বের করা। এর নেপথ্যে আছে অ্যাসাসিনদের সঙ্গে টেম্পলারদের চিরাচরিত বিরোধ। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই দেখা যাবে প্রধান মিশন বাদ দিয়ে জ্যাকডকে নিয়ে পাল তুলে এ-দ্বীপ সে-দ্বীপে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এডওয়ার্ডের এ চাঞ্চল্য যেন সবাইক ছুঁতে বাধ্য! এই উচ্ছৃঙ্খলতায় মধ্য দিয়েই পার করতে হবে প্রায় ৫০ ঘণ্টার গেইমপ্লে।

অ্যাসাসিনস ক্রিডের অন্যান্য পর্বগুলোর যারা শেষ করেছেন, তাদের কাছে এই ৫০ ঘণ্টা কাটবে অনেকটাই হালকা, ফুরফুরে মেজাজে। কেননা কাহিনীর সেই মারপ্যাঁচ আর রাজনীতির কচকচানি নেই এতে। রয়েছে শুধু কেবলই এগিয়ে যাওয়া।

এ ছাড়া ব্ল্যাক ফ্ল্যাগকে বর্তমানের অন্যতম সেরা গ্রাফিক্সের গেইম বলা যেতে পারে। ঝড়ো সমুদ্রে জাহাজের দুলুনি, বাতাসের ঘূর্ণি, গোধূলির রক্তিম সূর্য ইত্যাদি কেবল উন্নত গ্রাফিক্সের সাহায্যে ফুটিয়ে তোলা হয়নি, প্রয়োগ করা হয়েছে অসাধারণ ক্যামেরা মুভমেন্ট। বলা যায়, গ্রাফিক্সের কারণেই গেইমটির বিশাল জগত কখনও পুরনো হবে না।

গেইমটির কাহিনী সিরিজের শুরুর দিকের পর্বগুলোর কাহিনীর মতো আকর্ষণীয় নয়। কিন্তু সেই অভাব পূরণ করে দিয়েছে অন্যান্য ফিচার। অলসভাবে সমুদ্রে ঘুড়ে বেড়ানো কিংবা অন্য জাহাজ আক্রমণ করে লুটপাট করা-এই ব্ল্যাক ফ্ল্যাগের আনন্দ।

এক নজরে ভালো

–       গেমপ্লেতে নতুনত্ব

–       পরিবেশ ও চরিত্রায়ন খুবই উপভোগ্য

–       অতুলনীয় গ্রাফিক্স

এক নজরে খারাপ

–       কাহিনী সাধারণ প্রকৃতির

–       কিছু বাগ ও গ্লিচ রয়েছে

Related posts

*

*

Top