কল অফ ডিউটি ঘোস্টস : সাড়া ফেললেও চমক নেই

শাহরিয়ার হৃদয়, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গেইম দুনিয়ায় ব্যাপক সাড়ে ফেলে মুক্তি পেয়েছে কল অফ ডিউটি সিরিজের দশম পর্ব- ঘোস্টস। অত্যন্ত জনপ্রিয় এ সিরিজটিতে একঘেয়েমি চলে আসার যে অভিযোগ গত দুই পর্বে শোনা গিয়েছিল, তা থেকে বেরিয়ে আসবে ঘোস্টস-এমন প্রত্যাশা ছিল সবার। অ্যাডভেঞ্চার ও অ্যাকশনে ভরপুর চমৎকার একটি গেইম পেয়েছি আমরা, কিন্তু সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে কি?

সম্ভবত না। তবে সম্প্রতি বাজারে আসা এ গেইমে নতুনত্ব এবং কল অফ ডিউটি সিরিজের নিজস্ব মজা রয়েছে বটে; কিন্তু এ পর্বে নতুন কোনো চমক দেখাতে পারেনি নির্মাতা ইনফিনিটি ওয়ার্ড ও র‍্যাভেন সফটওয়্যার।

কল অফ ডিউটির গেইমগুলোয় সমান্তরাল কাহিনী থাকলেও ঘোস্টস ব্যতিক্রম। মডার্ন ওয়ারফেয়ারের কাহিনীর সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। এখানে বেশিরভাগ মিশনে আপনার চরিত্র হবে মার্কিন সেনাবাহিনীর এলিট টিম ‘ঘোস্টসের’ সদস্য লোগান ওয়াকার। ভাই হেশ আপনার সার্বক্ষণিক সঙ্গী।

call off duty_techshohor

যুদ্ধ মূলত দক্ষিণ আমেরিকার তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ‘ফেডারেশনের’ সঙ্গে। যারা এক সময়ের সুপারপাওয়ার যুক্তরাষ্ট্রকে ক্রমাগত আক্রমণের মাধ্যমে রীতিমতো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। মাতৃভূমিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসে ঘোস্টস টিম, একের পর এক আশ্চর্য তথ্য জানতে পারে লোগান ও হেশ।

গেইমটির কাহিনীর শুরুটা বেশ ব্যতিক্রম হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই কল অফ ডিউটি সিরিজের স্বকীয়তা হারিয়ে ফেলবে। অথচ এর আগের প্রত্যেকটি গেইমের অত্যন্ত শক্তিশালী দিক ছিল বৈচিত্র্যময় কাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রকে বাঁচানোর জন্য গতানুগতিক এই যুদ্ধ আমরা এর আগে অনেক গেইমে দেখেছি। দেশটিকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তবে গেইম প্লের নতুনত্বের প্রশংসা না করলেই নয়। নতুন গেইম ইঞ্জিনের ফলে উন্নত হয়েছে গ্রাফিক্স, আগের চেয়ে নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে যুদ্ধাহত একটি দেশের পরিস্থিতি। শত্রুর বুদ্ধিমত্তায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এলেও কিছু বাগ চোখ এড়ায়নি। এছাড়া গেইম প্লেতে দারুণ একটি সংযোজন রাইলি নামে একটি কুকুর। একটি বাটন চেপে নিঃশব্দে শত্রুর টুঁটি চেপে ধরার জন্য রাইলির বিকল্প নেই, যদিও অল্প কিছু মিশনে একে ব্যবহার করতে পারবেন। এ ছাড়া মহাকাশ স্টেশনে গোলাগুলি, হেলিকপ্টার মিশন, আকাশচুম্বী ভবন থেকে র‍্যাপেল করে নামতে নামতে গুলি করা, আন্ডারওয়াটার রাইফেল দিয়ে পানির নিচে গোলাগুলি নিঃসন্দেহে উপভোগ করবেন।

এতকিছুর পরও গেইমটি শেষ করার পর আপনার মনে হতে পারে- এ যেন নতুন মোড়কে পুরনো চকলেট! তবে মাল্টিপ্লেয়ার মোডে কিছু নতুনত্ব এসেছে- যা অনেকেরই ভালো লাগবে। বিশেষ প্রশংসা পেয়েছে ‘এক্সটিংশান’ মোড। তারপরও গত কয়েক বছরে কল অফ ডিউটির নিজস্ব যে ফর্মুলা তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে বের হতে পারে গেইমটি। আর এই ফাঁকে বেশ শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে ব্যাটলফিল্ড সিরিজ।

গেইমটির আরেক সমস্যা- এটি খেলার জন্য অত্যন্ত হাই কনফিগারেশনের কম্পিউটার প্রয়োজন। অনেক পিসি গেইমারই তাই খেলতে পারছেন না কিংবা খেললেও পুরো মজা পাচ্ছেন না। এ কারণে এটির বিক্রির পরিমাণ আগেরগুলোর মতো হয়নি বলে গণমাধ্যমের খবর। সম্প্রতি বাজারে গেইমটির আগের ভার্সনের তুলনায় কম বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেছেন নির্মাতারাও। ডেভেলপার ইনফিনিটি ওয়ার্ডের স্টুডিও প্রধান মার্ক রুবিন কিছু গেইমারদের নতুন ও উন্নত হার্ডওয়্যারের জন্য অপেক্ষাকে এর বিক্রি কমার জন্য দায়ী করেছেন।

এক নজরে ভালো

–     উন্নত গ্রাফিক্স
–     গেইমপ্লেতে নতুন সংযোজন

এক নজরে খারাপ

–     কাহিনী দুর্বল, কিছু বাগ রয়েছে
–     প্রত্যাশার তুলনায় কম আকর্ষণীয়

– গেইমভিত্তিক ওয়েবসাইট অনুসরণে

Related posts

*

*

Top