Maintance

দেশীয় স্টার্টআপে বিনিয়োগে ভবিষ্যত দেখছে আমরা

প্রকাশঃ ৯:১৪ অপরাহ্ন, নভেম্বর ১১, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৯:১৪ অপরাহ্ন, নভেম্বর ১১, ২০১৭

ব্যবসার ক্ষেত্রে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতেই এখন আদর্শ ভবিষ্যত দেখছে আমরা কোম্পানিজ। ভবিষ্যতের এই বাজার দখলের অন্যরকম পরিকল্পনাও নিয়েছে ১১ টি কোম্পানি নিয়ে দেশের অন্যতম এই কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানটি। এসব নিয়েই টেকশহরের মুখোমুখি হয়েছেন আমরা কোম্পানিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ ফারহাদ আহমেদ। সাক্ষাতকারে আল-আমীন দেওয়ান।

তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, পোশাক শিল্প, প্রফেশনাল স্কিল ডেভেলমেন্ট, ফিটনেস, লাইফস্টাইল, রিসোর্স সরবরাহসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা রয়েছে আমরা কোম্পানিজের।

১৯৮৫ সালে যাত্রা শুরু হওয়া গ্রুপটির দুটি কোম্পানি আমরা নেটওয়ার্কস ও আমরা টেকনোলজিস এখন শেয়ার বাজারে রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ইন্টারনেট ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক এবং স্মার্টফোন ব্যবসায় সম্ভাবনা নিয়ে এগিয়ে চলেছে গ্রুপটি। কাজ করছে বাংলাদেশের ই-ব্যাংকিংয়েও।

টেক শহর : তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কি করতে চলেছে আমরা কোম্পানিজ ?

সৈয়দ ফারহাদ আহমেদ : বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায় এক্সাইটিং ফিউচার দেখছি আমরা। এখন ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে দেশীয় স্টার্টআপগুলো। আমরা কোম্পানিজ দেশের স্টার্টআপগুলোর সঙ্গে কোলাবোরেট করে ভবিষ্যত ব্যবসা গন্তব্যের নতুন নতুন পথ তৈরি করে নিচ্ছে।

টেক শহর : এই কোলাবোরেশন কীভাবে হচ্ছে?

সৈয়দ ফারহাদ আহমেদ : বিনিয়োগের মাধ্যমে। নতুন স্টার্টআপে তরুণ প্রজন্ম হতে নতুন নতুন আইডিয়া পাচ্ছি আমরা। আসলে তরুণ প্রজন্ম কি চায় তা তারাই ভাল জানবে, বুঝবে। আমরা বিনিয়োগের মাধ্যমে এই কোলাবোরেশনে শেয়ার করছি আমাদের ফান্ডিং ক্যাপাসিটি, কাস্টমার বেইজড, স্কিল ও এক্সপেরিয়েন্স। আর তারা শেয়ার করছে তাদের নতুন নতুন আইডিয়া। আসলে তরুণদের মধ্যে ফায়ার পাওয়ার আছে ভাল কিছু করার, অসাধারণ কিছু করার।

টেক শহর : কোনো স্টার্টআপে বিনিয়োগ করেছেন কি?

সৈয়দ ফারহাদ আহমেদ : হ্যা, সম্প্রতি কিছু স্টার্টআপে বিনিয়োগ করা হয়েছে। একটি হলো অনলাইন ট্রাভেল পোর্টাল গো জায়ান ডটকম। এছাড়া সফটওয়্যার খাতে দুটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে, একটি আমরা ইনফোটেইনমেন্ট, আরেকটা ব্যাকঅফিস অপারেশনের কন্ট্রোলএন।

টেক শহর : এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ পরবর্তী কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ?

সৈয়দ ফারহাদ আহমেদ : একটি নতুন স্টার্টআপের জন্য কিন্তু কাস্টমারের বিশ্বাস অর্জন করা খুব কঠিন। বিনিয়োগের ফলে স্বাভাবিকভাবেই এই তিনটি স্টার্টআপেই আমরা শেয়ার হোল্ডার। এগুলোকে আমরা কোম্পানিজের এক্সটেনশন হিসেবে ট্রিট করছি।

এখানে আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় পেশাদার সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে এবং আমাদের বর্তমান কাস্টমার বেইজও তাদের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হচ্ছে। আমরা কোম্পানিজের দীর্ঘ সময়ের যে গ্রাহকগণ রয়েছে তাদের কাছে এই স্টার্টআপদের সহজে এক্সেস করিয়ে দেয়া হচ্ছে। এটা কিন্তু স্টার্টআপগুলোর ক্ষেত্রে অনেক বড় এডভান্টেজ।

আর এই বিনিয়োগগুলো করেছে আমরা হোল্ডিংস লিমিটেড। নি:সন্দেহে আমরা কোম্পানিজের কোনো বিনিয়োগে অন্যান্য কনসার্নগুলোও কোনো না কোনো ভাবে বেনিফিটেড হয় ।

টেক শহর : উই কেমন চলছে ?

সৈয়দ ফারহাদ আহমেদ : আমরা হ্যান্ডসেট ব্যবসায় এসেছি এক বছর হলো। শুরু থেকেই স্মার্টফোন তৈরি করছি। গত ছয় মাসে গড়ে ৩৫ হতে ৪০ হাজার ডিভাইস বিক্রি হয়েছে। যেটা নতুন ব্র্যান্ড হিসেবে খারাপ নয়।

টেক শহর : স্মার্টফোন বাজারে দেশী-বিদেশী জায়ান্টরা ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে। উই সেখানে কতখানি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে চলছে?

সৈয়দ ফারহাদ আহমেদ : আসলে বাজারে যদি শুধু ডিভাইস নিয়ে আসতাম তাহলে তা হতো সুইসাইডাল। মার্কেটে ইতোমধ্যে দেশি-বিদেশী জায়ান্ট ও ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠিত হয়ে আছেন। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করাটা কঠিন হতো। আমরা যদি নতুন কিছু ভ্যালু এডিশন না নিয়ে আসতে পারতাম তাহলে শুধু ডিভাইস নিয়ে বাজারে আসতাম না। তাই আমরা এটাকে বলছি উই স্মার্ট সল্যুশন।

আর এই সলুশ্যনে ডিভাইস একটি পার্ট। একটি স্মার্ট ডিভাইস যত স্মার্টই হোক না কেন তাতে যদি ভাল কানেক্টিভিটি না থাকে সে ডিভাইস ডাম্প ডিভাইস। কানেক্টিভিটি একটি মেজর অংশ। আর এই কানেক্টিভিটিতে আমরা দেশে চ্যাম্পিয়ন। স্মার্ট ডিভাইসে অ্যাপ্লিকেশনও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে ক্লাউড ইউজার ইন্টারফেসে আমারা আউটস্ট্যান্ডিং।

টেক শহর : ঠিক কোথায় কোথায় উই স্বতন্ত্র তা ব্যাখ্যা করবেন কি?

সৈয়দ ফারহাদ আহমেদ : আমরা ডিভাসেইর সঙ্গে সঙ্গে ইউজার এক্সপেরিয়েন্সটাকে চেইঞ্জ করে দিচ্ছি। সারা বাংলাদেশে ওয়াইফাই হটস্পটের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের কানেক্টিভিটিতে রাখছি। গ্রাহদের জন্য স্টোরেজ একটি চ্যালেঞ্জ, দু’ হাজার টাকা দিয়ে এসডি কার্ড ক’জনে কিনতে পারে। এসডি কার্ড নষ্ট হলে কি হবে? আবার ড্রপবক্স গুগল ক্লাউড ব্যবহার করতে চাইলে ডেটা কিনতে হবে।

আমরা এখানে উই ক্লাউড দিচ্ছি আমাদের ফ্রি ইন্টারনেট ডেটায়। আমরা এই বিষয়গুলো অ্যানালাইসিস করে দেশের সব মানুষের জন্য ওয়ার্কেবল ডিভাইস এনেছি যা একইসঙ্গে অ্যাফোর্টেবলও। আমরা চাই মানুষ আমাদের ডিভাইসটি হাতে নিলে যেন প্রাউড ফিল করে যে বাংলাদেশের এমন একটি ব্র্যান্ড। এখানে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ঐতিহ্যের অনুভব রাখছি।

আমাদের সেবা ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহকের সুবিধা-সমস্যার বিষয়গুলো নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করা হয়ে থাকে। অ্যাফোর্টেবিলিটির বিষয়টি তো রয়েছেই অনেক সময় দেখা যায় গ্রামাঞ্চলে সিগন্যাল উইক। আর এটি হলে যত ভাল ডিভাইস হোক না কেনো ডেটা ব্যবহারে সেই একই সমস্যা, ইন্টারনেট ধীর, ব্র্যাউজিং করা যাচ্ছে না।

হয়ত কোনো এলাকায় বেইজ স্টেশেনে থ্রিজি ডেলিভার হচ্ছে না সেখানে টুজি আছে। কোনো এলাকায় বেশি আরপু নেই বলে টেলকোরা বেইজ স্টেশন আপগ্রেড করছে না। তাহলে ওইসব এলাকায় ওই গ্রাহকরা কী করবে? আমরা কিন্তু আমাদের গ্রাহকদের জন্য ওইসব এলাকাতেও ওয়াইফাই হটস্পট বাড়িয়ে দিচ্ছি। টেলকো থেকে না পেলেও উই গ্রাহকরা দ্রুত গতির ইন্টারনেট হতে বঞ্চিত হচ্ছেন না।

এছাড়া দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে আমাদের দেশের প্রতি দায়িত্বের জায়গাটাও বেশি। একটি বিদেশি ব্র্যান্ড এদেশে ব্যবসা করে তার প্রফিটের অংশ বাইরে নিয়ে যায়। আর আমরা প্রফিটের অংশ দেশেই নতুন করে বিনিয়োগ করি।

টেক শহর : আপনি টেকশহর ডটকমকে আগেই জানিয়েছিলেন যে দেশে উইয়ের হ্যান্ডসেট কারখানা হচ্ছে। কবে নাগাদ চালু হচ্ছে এই কারখানা?

সৈয়দ ফারহাদ আহমেদ : মোবাইল ফোন কারখানা স্থাপনের কাজ গুছিয়ে আনা হয়েছে। মেশিনারিজ আসছে একে একে। নভেম্বরেরই পরীক্ষামূলক উৎপাদনের যেতে চেয়েছিলাম তবে যন্ত্রপাতি আমাদানিসহ ইত্যাদি বিষয় আরেকটু গুছিয়ে তা ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে হবে।

শুরুতে বছরে দেড় লাখ ইউনিট হ্যান্ডসেট উৎপাদন লক্ষ্য। চারটি প্রোডাকশন লাইনের প্রতিটিতে প্রতিদিন এক হতে দেড় হাজার মোবাইল উৎপাদন করা হবে। রাজধানীর মিরপুরে স্থাপিত এই কারখানার প্রাইমারি বিনিয়োগ ১৫ কোটি টাকা।

টেক শহর : সংযোজন ছাড়া স্থানীয়ভাবে কোনো কিছু তৈরি হবে কি এই কারখানায়?

সৈয়দ ফারহাদ আহমেদ : কিছু এক্সেসরিজ হবে। হ্যান্ডসেটের ব্যাক কাভার প্রিন্টিং আমরা এখানেই করবো। এজন্য স্পেশালাইজড কিছু যন্ত্রপাতি আনা হচ্ছে। এতে একটা ভ্যালু এডিশন যোগ হচ্ছে। যেমন উই হতে যে কেউ চাইলে তার নিজের নামে, নিজের কোম্পানির নামে হ্যান্ডসেট ব্র্যান্ডিংয়ে করে নিতে পারবে। সেটা ৫০০ ইউনিট হলেও আমরা করে দেবো।

*

*

Related posts/