Maintance

বাংলাদেশে অনেক মানসম্পন্ন স্টার্টআপ উঠে আসছে : আদ্রিয়ানা

প্রকাশঃ ৩:০৩ অপরাহ্ন, অক্টোবর ১২, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৩:০৩ অপরাহ্ন, অক্টোবর ১২, ২০১৭

আদ্রিয়ানা কলিনি, কাজ করছেন তরুণ উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক পরিসরে তুলে আনার কার্যক্রম সিডস্টারস এশিয়ার সহযোগী হিসেবে। সম্প্রতি এ সংগঠনের ঢাকা পর্ব দেখভালে বাংলাদেশে এসেছিলেন। সিডস্টারস ও দেশের স্টার্টআপ নিয়ে কথা বলেছেন টেকশহরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ইমরান হোসেন মিলন

টেক শহর : সিডস্টারস প্রোগ্রামের উদ্দেশ্য কী?

আদ্রিয়ানা : আমরা উদীয়মান বাজারে মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করতে চাই। বিভিন্ন ইকোসিস্টেমকে আরও ভালোভাবে বোঝানোর জন্য, উদ্যোক্তাদের চাহিদা মেটাতে এবং সর্বাপেক্ষা উত্সাহ ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ খুঁজতে কাজ করছি। আমরা চলতি বছরেও ৭৫ এর বেশি দেশে নতুন উদ্যোগ তুলে আনতে প্রতিযোগিতা ও বুটক্যাম্প শুরু করেছি।

টেক শহর : এশিয়ার উঠতি বাজারে উদ্যোক্তা তৈরিতে বাংলাদেশ কতোটা কাজ করছে বলে মনে করেন?

আদ্রিয়ানা : স্টার্টআপের বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবে এ মুহূর্তে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে নিতে তাদের পাশে থেকে পথ দেখানোর বিষয়টি জরুরি। যাই হোক, বাংলাদেশ থেকে আমরা খুবই উদ্ভাবনী ও শক্তিশালী উদ্যোগ খুঁজে পাচ্ছি। একই সঙ্গে এসব স্টার্টআপ মানের দিক থেকে খুবই অনুপ্রেরণামূলক। এখানে কিছু প্রতিষ্ঠানের স্টার্টআপ সম্প্রসারণ ও তাদের জন্য একটি ইকোসিস্টেম দাঁড় করাতে কাজ করছি।

জিপি অ্যাক্সেলারেটর তার মধ্যে অন্যতম। এর মাধ্যমে যারা বেরিয়ে আসছে তারাও খুব ভালো করছে। তবে স্টার্টআপকে এগিয়ে নিতে একটি প্লাটফর্মের উন্নয়ন করে তাদের দক্ষ উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে আরও প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে।

Adrianan-colini-Techshohor2

টেক শহর : যেসব দেশে টেলিনর কাজ করে তার অন্যতম বাংলাদেশ। আপনার দেখায় উদ্যোক্তা তৈরিতে গ্রামীণেফোন কি ধরনের কাজ করছে?

আদ্রিয়ানা : গ্রামীণফোন বাংলাদেশে উদ্যোক্তাদের ইকোসিস্টেম তৈরির জন্য খুবই ভালো কাজ করছে। এখন পর্যন্ত এই প্রোগ্রামে চারটি ব্যাচ বের করেছে। মোবাইল অপারেটরটি যেসব উদ্যোক্তা খুঁজে বের করছেন তাদের সুযোগ সৃষ্টির চেষ্টা করছি আমরা। আর এসব উদ্যোগ খুবই উচ্চমানের।

টেক শহর : সিডস্টারস প্রোগ্রাম নিয়ে এটা বাংলাদেশে আপনার তৃতীয় সফর। গত বছরগুলোতে বাংলাদেশের উদ্যোগগুলো কেমন দেখেছেন। আর এবার?

আদ্রিয়ানা : আমরা গত কয়েক বছর থেকেই বাংলাদেশে যেসব স্টার্টআপ দেখেছি সেগুলো অত্যন্ত মানসম্পন্ন। আমাদের দেখা থেকে এ বছর এটা লক্ষ করেছি যে, উদ্যোক্তা হিসেবে তরুণদের ক্যারিয়ার গড়তে ইকোসিস্টিমের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। সেজন্য এটিকে পেশা হিসেবে নিতেও অনেকেই আগ্রহী।

আমরা এবারের সিডস্টারস ঢাকা অংশের প্রতিযোগিতায় খুব শক্তিশালী বেশকিছু স্টার্টআপের আবেদন পেয়েছি। সেখান থেকে সেরা ৮ বাছাই করাটাও ছিলো আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।

এসব আবেদনের মধ্যে আমরা এমন কিছু পেয়েছি যাদের উদ্ভাবনী ধারণা ভালো; কিন্তু তারা এখনো বুঝে উঠতে পারেনি কিভাবে কী করবে। কারো কারো স্টার্টআপ সম্পর্কে এখনো পরিষ্কার ধারণা গড়ে ওঠেনি। তাদের আরও পড়াশোনা করা দরকার।

তবে আমি যে খবরটি দেখে আশ্বস্ত তা হচ্ছে, বাংলাদেশ সরকার এখন উদ্যোক্তা তৈরিতে বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এ থেকে অচিরেই খুব ভালো ফলাফল আসবে।

টেক শহর : বাংলাদেশে উদ্যোক্তাদের সিডস্টারস কিভাবে সহায়তা করতে পারে? কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে?

আদ্রিয়ানা : উদ্যোক্তাদের জন্য আমরা বিভিন্ন কর্মকাণ্ড অব্যহত রেখেছি। এমন নবীন স্টার্টআপদের আমাদের নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে এসে এবং তাদের সঙ্গে বড় উদ্যোক্তা, পরামর্শদাতা, বিনিয়োগকারী, কর্পোরেট, মিডিয়ার একটা সংযোগ করে দিই। এটা করা হয় বিশ্বব্যাপী।

দৃশ্যমান এমন অনেক কিছুই করি আমরা। উদাহরণস্বরূপ বলতে হয়, গত বছর ফিল্ড বাজ সিডস্টারসে সেরা হয়েছিল। তারা এখন অনেক দক্ষ জনবল নিতে পারে। কারণ অনেকেই জেনে গেছে, তারা সিডস্টারসে অংশ নিয়ে ভালো উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে। আমরা তাদের বিনিয়োগ সুবিধা দিই। তাদের নিয়ে একটি অ্যাক্সেলারেটর প্রোগ্রাম করি। উদ্যোক্তাদের স্পটলাইটে নিয়ে এসে এর মাধ্যমে তাদের ভিত করার কাজটি করছি।

যদিও বাংলাদেশে আমরা এসবের কিছু কাজ এখনও শুরু করিনি। কিন্তু আমরা ইতোমধ্যে সিডস্টারস একাডেমি প্রতিষ্ঠার জন্য অফার করেছি। সেখানে স্থানীয় মেধাবীদের নিয়ে তাদের নিজেদের কোম্পানি প্রতিষ্ঠায় সহায়তার কাজ করবো।

এটা ছয় মাসের একটি প্রোগ্রাম। অবশ্য এ জন্য অংশগ্রহণকারীদের একটা ফি দিতে হবে। অংশগ্রহণকারীরা এ থেকে কিভাবে একটি স্টার্টআপ থেকে পরিপূর্ণ উদ্যোক্তা তৈরি হয় তার জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা লাভ করবে।

তারা যখন নিজেদের স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করবে, তখন নানা কিছু শিখতে পারবে। আর সেটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক যেহেতু সে নিজেই হবে, তখন দায়বদ্ধতা এবং দায়িত্বশীলতাও বেড়ে যাবে।

এটি এমন একটি প্রোগ্রাম যার মাধ্যমে বাংলাদেশে স্টার্টআপদের আরও যোগ্য করে তুলবে।

এছাড়াও আমরা বাংলাদেশে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম তৈরি করতে সহায়তা করবে। কারণ এটি আজকের বাজারে স্টার্টআপ গড়ে তুলতে একেবারেই বেসিক কিছু বিষয় ‘কিভাবে একটি স্টার্টআপ গড়ে তুলবেন’-এর মতো কাজ করে।

টেক শহর : আপনারা বিজয়ীদের জন্য কী করছেন?

আদ্রিয়ানা : প্রতিযোগিতায় আমাদের সঙ্গে দেশের বেশকিছু প্রতিষ্ঠান সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। তাদের কাছ থেকে বিজয়ীরা আর্থিক, কারিগরিসহ নানা সুবিধা পাবে।

তারা সিডস্টারস এশিয়া অঞ্চলের প্রতিযোগিতার জন্য ব্যাংকক যাবে। সেখানেই এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিজয়ী, মেন্টর, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাবে।

আমাদের অ্যাক্সেলারেটর প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবে। তারা আমাদের মাধ্যমে বিনিয়োগ পাবে।

এ ছাড়াও আমরা পুরো ব্যয়ভারসহ চ্যাম্পিয়ন দলকে বাংলাদেশ থেকে ব্যাংকক ও সুইজারল্যান্ডে সিডস্টারস ওয়ার্ল্ডে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিচ্ছি।

সুইজারল্যান্ডে শতাধিক বিনিযোগকারীর সামনে নিজেদের ধারণা তুলে ধরার পাশাপাশি ১০ লাখ ডলারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে।

তারা বিভিন্ন প্রশিক্ষণ পাবে এবং পরে ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিতে মেন্টরদের সহায়তা, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নেটওয়ার্ক তৈরিরও সুযোগ পাবে চ্যাম্পিয়ন দল সিমেড হেলথ।

এ ছাড়াও তারা আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা পাবে। স্টার্টআপটি এগিয়ে নিতে যেখানে তাদের প্রয়োজন মনে করবে, সেখানেই আমরা সহায়তা প্রদান করবো।

টেক শহর : টেক শহরকে সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আদ্রিয়ানা : আপনাকে ও টেকশহরকেও ধন্যবাদ।

*

*

Related posts/