Maintance

বাংলাদেশে এখন আইসিটি বাজ দেখছি

প্রকাশঃ ৬:৫০ অপরাহ্ন, জুলাই ১১, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৪:৫৯ অপরাহ্ন, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৭

তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষতার মাধ্যমে আর্থসামাজিক উন্নয়নে কাজ করে জাতিসংঘের ইউএন-এপিসিআইসিটি। বাংলাদেশে এই কার্যক্রম, দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো , আন্তর্জাতিক অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হুয়েন সুক-রি। সাক্ষাতকার নিয়েছেন ইমরান হোসেন মিলন।

জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশনের (এসক্যাপ) আঞ্চলিক ইন্সটিটিউট দ্যা ইউনাইটেড ন্যাশন এশিয়ান অ্যান্ড প্যাসিফিক ট্রেনিং সেন্টার ফর ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি ফর ডেভেলপমেন্ট (ইউএন-এপিসিআইসিটি) এর অন্যতম মিশন হচ্ছে এসক্যাপ সদস্য দেশগুলোতে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি দক্ষতা তৈরি করে সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানো। আর এই দক্ষতা বাড়ানোর জন্য এপিআইসিটি তিনটি বিষয়ের উপর ফোকাস করে, যা একটি অপরটির সঙ্গে রিলেটেড বলা হয়। সেগুলো হলো- প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং উপদেষ্টামূলক সেবা প্রদান। এগুলো সব মিলেই তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে মানব উন্নয়নে কাজ করে।

এসক্যাপ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলের জন্য জাতিসংঘের আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং জাতিসংঘের সচিবালয়ের একটি অংশ। এটি থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ভিত্তিক এসক্যাপের রয়েছে একটি ডিভিশন ও ডিপার্টমেন্ট। এছাড়াও  রয়েছে চারটি সাব-আঞ্চলিক অফিস এবং পাঁচটি আঞ্চলিক ইনস্টিটিউট যার মধ্যে এপিসিআইসিটি একটি।

এসক্যাপের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি এবং ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন বিভাগ (আইডিডি) এপিআইসিটির মাধ্যমে সক্ষমতা উন্নয়নে কাজটি করে থাকে।

huyeun-suk-rhee-interview-techshohor

সম্প্রতি উদ্যোগটি বাংলাদেশেও চালু হয়েছে। সেই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে এসেছিলেন ইউএন-এপিসিআইসিটি পরিচালক হুয়েন সুক-রি। আর সেখানেই টেকশহরডটকমের সঙ্গে তাঁর এই আলাপ।

টেক শহর :  তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের সহযোগিতায় জাতিসংঘ-এপিসিআইসিটির ওয়াইফাই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে। বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি কিভাবে কার্যকর হবে এবং জাতিসংঘের এপিসিআইসিটির ভূমিকা কীভাবে সফল হবে?

হুয়েন সুক-রি : এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নারী উদ্যোক্তাদের তথ্যপ্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দিয়ে বিভিন্নভাবে সক্ষম করে তোলে জাতিসংঘের ‘উইমেন আইসিটি ফ্রন্টিয়ার ইনিশিয়েটিভ’ বা ওয়াইফাই প্রোগ্রাম। নারীদের মাধ্যমে এই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদান, বিভিন্ন পলিসিগত জায়গায় নারীদের ভূমিকা আরও বাড়ানোর কাজ করা হচ্ছে।

২০১৬ সালের জুনে প্রোগ্রামটির যাত্রা হয় কোরিয়াতে। যা এখন এই অঞ্চলে চলমান। এটি অব্যাহত থাকবে। যেখানে ২০৩০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদী উন্নয়নে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

এই প্রশিক্ষণে যেন তারা ব্যবসা আরও ভালো করে পরিচালনা করতে পারেন। এক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো অংশীদারিত্ব। যেটা জাতিসংঘের এপিসিআইসিটি করতে পেরেছে বাংলাদেশের সঙ্গে।

এখানকার সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি), বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজি (বিডব্লিউআইটি) এবং বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব আইসিটি ডেভেলপমেন্ট’র (বিআইআইডি) সঙ্গে করা হয়েছে।

আমি জানি বাংলাদেশে প্রায় ১৬ কোটি জনসংখ্যা। যার প্রায় অর্ধেক নারী। যে কারণে অংশীদারিত্ব খুবই দরকার। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, নারীদের অংশগ্রহণ। আর সেই অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা তোলা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই স্বাবলম্বী করে তোলার ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি খুবই অপরিহার্য ভূমিকা পালন করতে পারে। আর এ কারণেই আমরা একত্রে কাজ করতে চাই।

এই ওয়াইফাই উদ্যোগে শুধু শহরাঞ্চলে নয়, বরং প্রত্যন্ত ও দূরবর্তী এলাকাতেও কাজ করতে চাই।

টেক শহর :  ৫ জুলাই হতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা করা ওয়াইফাই প্রোগ্রামের ব্যাপ্তি কত? এখানে কতজন নারী উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ পাবেন?

হুয়েন সুক-রি : ওয়াইফাই প্রোগ্রাম আজ (৫ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। তবে এটা কিন্তু অচিরেই শেষ হয়ে যাবে এমন কিছু নয়। এটা চলমান থাকবে। এটাকে আপনি সবে শুরু হিসেবে বলতে পারেন।

আমরা অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশে এটি শুরু করলাম। বাংলাদেশ একটি লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে, সেটা ভিশন ২০২১। ওয়াইফাই দেশের এই ভিশনে নারীদের উদ্যোক্তা হিসেবে ক্ষমতায়িত করে অর্থনৈতিক উন্নতিতে অবদান রাখতে সহায়তা করবে।

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ইতোমধ্যে তারা নারীদের এই খাতে সম্পৃক্ত করতে নানান উদ্যোগ নিয়েছেন। আর ভিশন ২০২১ অর্জন সহজ করতে ওই সময়ের মধ্যে ৩০ হাজার নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আমরা ওয়াইফাই প্রোগ্রামে তাদের সঙ্গে যে অংশীদারিত্ব করলাম তাতে এই পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

টেক শহর : বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো নিয়ে কি ইউএন-এপিসিআইসিটি কোনো গবেষণা বা কাজ করেছে ? যদি করে থাকে তাহলে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো জানতে চাই?

হুয়েন সুক-রি : গবেষণা আছে। এটা জাতিসংঘের পক্ষ থেকে করেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম। এটা অবশ্যই গ্লোবাল স্ট্যাডার্ডে করা হয়েছে। আর এই ইস্যুতে আমি বলবো যে, হ্যাঁ।

ওই রিপোর্ট অনুযায়ী দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ নারীদের কর্মসংস্থানে দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে। যা আমরা অন্যান্য দেশ বা অঞ্চলে দেখতে পাইনি। এখানে নারীদের বিভিন্ন খাতে, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নানামুখী কাজ করার সুযোগ রয়েছে। এখানে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতেও কাজ হচ্ছে।

এখন আমরা বাংলাদেশে একটি ‘আইসিটি বাজ’ দেখতে পাচ্ছি। যেখানে অনেক নারী ইতোমধ্যেই বিশ্বে তাদের তথ্যপ্রযুক্তির দক্ষতা দিয়ে জায়গা করে নিয়েছে। কারণ এখানে নারীদের তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন বিয়ষ শেখার সুযোগ রয়েছে। আর এ ধরনের উদ্যোগ সেই সুযোগকে আরও বেশি নারীর কাছে পৌঁছে দেবে।

তবে আরও একটা বিষয় কিন্তু আমাদের নজরে এসেছে। সেটা হচ্ছে এখানেও নারীদের কাজ করার ক্ষেত্রে কিছুটা বাধা কাজ করছে। যেটাকে অতিক্রম করতে সরকারের সঙ্গে আমরাও কাজ করতে আগ্রহী।

টেক শহর : আর্থসামাজিক উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা কেমন বা কোন পর্যায়ের?

হুয়েন সুক-রি : এটা নির্ভর করবে শিক্ষার ক্ষেত্রে ওই নারী কোন ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে এসেছে। তবে ওয়াইফাই বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা নারীদের প্রশিক্ষণ দেয়। তবে আমরা কিছু উচ্চশিক্ষিত নারীদের জন্যও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করে থাকি। এমন কি আমরা ওয়াইফাই প্রোগ্রামের আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি নিয়ে তেমন কিছু জানেন না এমন নারীদেরও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করি। এটা নারীদের খুবই প্রয়োজন।

আমরা মনে করি, আরও বেশি নারীর কাছে পৌঁছাতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। তাইতো আমরা দেশের এই কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তভাবে কাজ করবো।

তাই আমি যদি অন্য অনেক দেশের সঙ্গে তুলনা করি, তাহলে এটা নির্দিধায় বলতে পারি বাংলাদেশ খুবই ভালো কাজ করছে। এবং নারীদের উন্নয়নে আমরা ২০০৮ সাল থেকেই বাংলাদেশে ব্যাপক আকারে কাজ শুরু করেছি।

এসব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের নেতৃত্ব দান, নীতি নির্ধারণ, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করতে গুরুত্বারোপ করা হয়।

টেক শহর : ডিজিটাল বাংলাদেশ ও এসডিজিএর ৫ নম্বর গোল এর সাথে ওয়াইফাই এর লক্ষ্য কিভাবে সম্বনয় করা সম্ভব বলে মনে করেন?

হুয়েন সুক-রি : জাতিসংঘের দীর্ঘ মেয়াদী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র অর্জনে আমরা কাজ করছি। বাংলাদেশও নারীদের তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করার দিকে মনোযোগ দিয়েছে। আর ওয়াইফাই প্রোগ্রামের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে সেটির মাধ্যমে তারা সক্ষমতা অর্জন করে এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে পারবেন।

বাংলাদেশে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে তথ্যপ্রযুক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর। এর মাধ্যমে আমরাও সরকারের যে ভিশন ২০২১ তাতে ওয়াইফাই প্রোগ্রামের মাধ্যমে অবদান রাখতে চাই।

*

*

Related posts/