Maintance

সারাদেশে ব্রাঞ্চ করছে দারাজ

প্রকাশঃ ১:৪৭ অপরাহ্ন, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:৫৭ অপরাহ্ন, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৭

ই-কমার্স ভেঞ্চার দারাজ-কেইমু এক হয়েছে সম্প্রতি। এরপর জার্মানভিত্তিক রকেট ইন্টারনেটের ভেঞ্চারটিতে প্রথম বাংলাদেশি এমডি হিসেবে নিয়োগ পান সৈয়দ মোস্তাহিদল হক। কোম্পানিটির বর্তমান-ভবিষ্যত নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরান হোসেন মিলন।

টেক শহর : ফেব্রুয়ারিতে একীভূত হিসেবে যাত্রা করেছে দারাজ ও কেইমু। একীভূতের প্রয়োজন পড়লো কেনো?

সৈয়দ মোস্তাহিদল হক : দারাজ ও কেইমু একই ধরণের ভেঞ্চার। প্রতিষ্ঠান দুটির বিনিয়োগকারীও এক। ফলে একই খাতে দুটি প্রতিষ্ঠান কাজ করায় কিছুটা ‘কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট’ হচ্ছিল। কমন সিনার্জি বেশি থাকার কারণে প্রতিষ্ঠান দুটিকে একীর্ভথ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং শেষব্দি একীভূত হয়। এই একীভূতের ফলে ফলে প্রোডাক্ট রেঞ্জ, সাপ্লায়ার বেইজ এবং কাস্টমার বেইজ অনেক গুণে বাড়ানো সম্ভব হয়েছে।

টেক শহর : একীভূত হয়ে কী সেবা আগের চেয়ে ভালো হয়েছে বলে মনে করছেন?

সৈয়দ মোস্তাহিদল হক : মার্জারের ফলে প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিধি যেমন বেড়েছে তেমনি সেরা দামে ভালো মানের পণ্যের বিশাল সম্ভার গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

টেক শহর : দেশে রকেট ইন্টারনেটের ভেঞ্চার হিসেবে কাজ শুরুর পর আপনিই প্রথম দেশিও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। কোন অবস্থানে নিয়ে যেতে চান দারাজকে?

সৈয়দ মোস্তাহিদল হক : দারাজকে দেশের মানুষের কাছে আরো রেলেভেন্ট করতে চাই। যাতে করে সাধারণ মানুষ চাহিদা অনুযায়ী সব ধরণের পণ্যই দারাজে পায়। এবং ই-কমার্স সেবাকে শহরের সীমানা পার করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যেতে চাই।

Daraz-New-MD-Techshohor

টেক শহর : দারাজ দেশের বেশ কয়েকটি বড় ব্র্যান্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। কতগুলো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই চুক্তি করেছে দারাজ?
সৈয়দ মোস্তাহিদল হক : ছোট-বড় সব ব্র্যান্ড মিলিয়ে দারাজের মোট সাপ্লায়ার বেইজ ১৫০০ এর অধিক। এর মধ্যে রয়েছে- মোবাইল ফোন ব্র্যান্ড অপো, সিম্ফনি, শাওমি, ইলেক্ট্রনিক ব্র্যান্ড- এলজি, ওয়ালটন, সিঙ্গার, র‍্যাংগস, এফএমসিজি ব্র্যান্ড-ইউনিলিভার, মেরিকো, রেকিট বেনকিজার, পিঅ্যান্ডজি, নেসলে, ফ্যাশন ব্র্যন্ড- ইয়েলো, এক্সটেসি, বাটা, অ্যাপেক্স ইত্যাদি।

টেক শহর : দারাজ পণ্যের মান যাচাই করে কিভাবে?

সৈয়দ মোস্তাহিদল হক : তিনটি ধাপে দারাজ পণ্যের মান যাচাই করে। প্রথম ধাপে প্রোডাক্ট এনলিস্টমেন্টের সময় সাপ্লায়ার ও প্রোডাক্টের অথেনটিসিটি যাচাই করা। একই সঙ্গে ওই পণ্যের গুণগত মান সাক্ষাতে গিয়ে পরীক্ষা করা।

দ্বিতীয় ধাপে অর্ডার প্রসেসিংয়ের সময় আমাদের ডেডিকেটেড কোয়ালিটি কন্ট্রোল টিমের মাধ্যমে নিজস্ব ওয়্যারহাউজে পণ্যের গুণগতমান পরীক্ষা করা।

তৃতীয় ধাপে পণ্য ডেলিভারির পরে ক্রেতাদের ফোন করে প্রোডাক্টের রিভিউ নেওয়া এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি যাচাই করা।

টেক শহর : গ্রাহকরা দারাজে পণ্য কিনে নানা ধরনের অভিযোগ করেন (পণ্যের মান ভালো না, ডেলিভারি সময়মত হয় না, অর্ডারের পর ফোন রিসিভ না করা)। আপনারা কতটা আমলে নেন সেগুলো?

সৈয়দ মোস্তাহিদল হক : গ্রাহকদের প্রতিটি অভিযোগ দেখার জন্য আমাদের একাধিক ডেডিকেটেড টিম রয়েছে। ছোট বড় সব ধরণের অভিযোগই গুরুত্ব পায় দারাজে। দারাজে গ্রাহকসন্তুষ্টিই মুখ্য।

গ্রাহকরা আমাদের সাথে ফোন কল ছাড়াও ইমেইল, চ্যাট ও ফেইসবুক ম্যাসেজের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারেন। গ্রাহকদের কাছে আরো দ্রুত পণ্য পৌঁছে দেওয়ার জন্য এ মাসের ভেতরেই বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ ২০ জেলায় নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হোম ডেলিভারির ব্যবস্থা করছে দারাজ।

Daraz-MD-BD- techshohor

টেক শহর : অভিযোগ রোধে কোনো ব্যবস্থা আপনারা নিয়েছেন কী?

সৈয়দ মোস্তাহিদল হক : পণ্যের গুণগত মান নিয়ে গ্রাহকের কোনো অভিযোগ থাকলে সহজ রিটার্ন ও রিফান্ডের ব্যবস্থা করা হয়। যদি কোনো পণ্য বা সাপ্লায়ারের বিরুদ্ধে একের অধিক অভিযোগ আসে তাহলে সেই পণ্য এবং ক্ষেত্র বিশেষে ওই সাপ্লায়ারকে দারাজ আর রাখে না।

টেক শহর : দারাজ ও কেইমুর একীভূত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠান দুটির বেশ কয়েকজন কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে বলে অভিযোগ আছে? কতটুকু সত্য?

সৈয়দ মোস্তাহিদল হক : এধরনের অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই। কেইমু ও দারাজের কোন কর্মীকে ছাঁটাই করাতো দূরে থাকুক বরং আরো শতাধিক কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে।

টেক শহর : ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শহরকেন্দ্রিক দেখা যায়? কথাটি কী দারাজের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য?

সৈয়দ মোস্তাহিদল হক : বর্তমানে আমাদের প্রায় ৫০ শতাংশ অর্ডার ঢাকার বাইরে থেকেই আসে। যে কারণে চট্টগ্রাম, খুলনা, সিলেটসহ সমগ্র বাংলাদেশে শাখা অফিস বসানো, নিজস্ব ডেলিভারি নেটওয়ার্ক তৈরি, লোকালয়ের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ এবং ই-কমার্স বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

টেক শহর : আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা একটি সাক্ষাতকারে দারাজকে কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। অদূর ভবিষ্যতে আলিবাবার সঙ্গে দারাজ একীভূত হবে কী?

সৈয়দ মোস্তাহিদল হক : দারাজ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশে ই-কমার্সে শীর্ষস্থানে রয়েছে। আর একারণেই বড় বড় বিনিয়োগকারীরা দারাজের ব্যাপারে বিভিন্ন সময় আগ্রহ প্রকাশ করে থাকে। কিন্তু আলিবাবার সাথে দারাজ একীভূত হবে কিনা তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে।

*

*

Related posts/