Maintance

এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের কাজে পথ দেখাচ্ছে নাটালস্মার্ট বাংলাদেশ

প্রকাশঃ ১:৫৬ অপরাহ্ন, জুন ৫, ২০১৬ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ১:৫৬ অপরাহ্ন, জুন ৫, ২০১৬

শুরুতে ছিলেন ফ্রিল্যান্সার। সেখানেই থেমে থাকতে চাননি। নিজেই কিছু করতে হবে এমন উদ্যোমে গড়ে তুলেছেন নাটালস্মার্ট বাংলাদেশ নামে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার। তরুন উদ্যোক্তা শরিফুল ইসলামের কথা জানাচ্ছেন ইমরান হোসেন মিলন।

পুরস্কারপ্রাপ্ত এ উদ্যোক্তার কম্পিউটার প্রযুক্তির সঙ্গে নিবিড় পরিচয় শিক্ষাজীবন থেকেই। পড়ালেখা করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে। সেই থেকে প্রযুক্তিকে ঘিরে কিছু করার স্বপ্ন দেখেছেন।

পড়াশোনা শেষে বেশ কিছু দিন কাজ করেছেন ফ্রিল্যান্সার হিসেবে। এ কাজে ধারাবাহিকতা তাকে এনে দিয়েছে পুরস্কারও। আউটসোর্সিংয়ের কাজে অবদান রাখায় ২০১৫ সালে পেয়েছেন বেসিস আউটসোর্সিং পুরস্কার।

natalsmart-techshohor

ফ্রিল্যান্সারদের মার্কেটপ্লেস ফ্রিল্যান্সার ডটকম, ওডেস্ক ও ইল্যান্সের পরে কাজ করেছেন আপওয়ার্কে। এসব কাজ করতে গিয়ে পরিচয় হয় যুক্তরাষ্ট্রের একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। পরে ওই কোম্পানির শাখা হিসেবে দেশে ‘নাটালস্মার্ট বাংলাদেশ’ নামে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার চালু করেন।

সেই নাটালস্মার্ট বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী হিসেবে এখন দায়িত্ব পালন করেছেন শরিফুল ইসলাম। সেখানে কাজের সুযোগ পেয়েছেন আরও পাঁচ জন।

শুরুর কথা
শরিফুল ইসলাম ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করলেও কখনো কাজে স্বস্তি পাননি। কম্পিউটার বিজ্ঞানে পড়ালেখা শেষে শুধু ফ্রিল্যান্সার হিসেবে পেশা গড়তে চাননি। চেয়েছেন নিজের একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতে।

র্দীর্ঘদিন থেকে এমন ভাবনা পুষে রাখলেও শুরুতে খুব একটা সাহস করতে পারেননি। তার ভাষায়, প্রতিষ্ঠান করতে চাইলেই পারা যায়। তবে সেটা যেন দীর্ঘস্থায়ী হয়, ভালো কিছু সেখান থেকে আসে এমন কিছুর চেষ্টা ছিল সব সময়।

২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে শরিফুল কাজ শুরু করেন নাটালস্মার্ট বাহরাইন শাখায়। একই সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের মূল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। পরে প্রতিষ্ঠানটির শাখা হিসেবে দেশে ‘নাটালস্মার্ট বাংলাদেশ’ চালুর উদ্যোগ নেন। এর মূল দায়িত্ব নেন তিনি।

সেই থেকে আলাদা কিছুর পথচলা শুরু বলা যায়। শাখার কার্যক্রম চালুর এক বছর পর দেশে অফিস নিয়ে এসে নিয়েছেন তিনি।

একটি সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে কর্মীর সংখ্যা অনেক কম নাটালস্মার্টে। বাংলাদেশে রয়েছে মাত্র পাঁচ জন কর্মী। এ ছাড়া কয়েকজন কর্মী বাহরাইনে বসে নাটালস্মার্ট বাংলাদেশের হয়ে কাজ করছেন।

natalsmart-techshohor

কাজের ধরন
নাটালস্মার্ট বাংলাদেশ কাজ করে এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার নিয়ে। তার দাবি, একমাত্র তাদের প্রতিষ্ঠানই দেশে এখন এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার নিয়ে কাজ করেন।

প্রযুক্তি জায়ান্ট মাইক্রোসফটের সঙ্গে নাটালস্মার্টের চুক্তি থাকায় তাদের তৈরি সফটওয়্যার কেনে মাইক্রোসফট।

এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের বাজার
তরুন এ উদ্যোক্তা বলেন, এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের একেকটি কাজ মিলিয়ন ডলারের। যেসব কাজ পাই সেগুলো সর্বনিম্ন আড়াই মিলিয়ন ডলারের। এ সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট করে শুধু মিলিয়ন নয়, বিলিয়ন ডলারের বাজার ধরা যায়।

মূলত তিন ধরনের সফটওয়্যার ডেভেলপের কাজ করে নাটালস্মার্ট বাংলাদেশের কর্মীরা। মাইক্রোসফট ডাইনামিক, এন্টারপ্রাইজ রিসোর্স প্লানিং বা ইআরপি ও সিআরএম। এসব কাজের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতিও রয়েছে এ সেন্টারের।

যেসব দেশে গ্রাহক আছে
এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের গ্রাহক অনেক বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানি। মাইক্রোসফট, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এমনকি পেন্টাগনও এ এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যার ব্যবহার করে।

সমস্যা-সম্ভাবনা
তাদের প্রতিষ্ঠান আসলে অন্য কোম্পানির হয়ে পণ্য তৈরি করে। এটাই কাজের ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা। নিজেরা সেগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে তৈরি করা যায় না। বিশেষ করে এন্টারপ্রাইজ সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে যেটা হয়। তবে সম্ভাবনার দিক হচ্ছে এ সফটওয়্যার ডেভেলপের কাজ করে অল্প সময়ে বেশি আয় করা যায়।

নতুনদের জন্য
তরুন এ উদ্যোক্তার মতে, তথ্যপ্রযুক্তিতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের পর ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে নেওয়া উচিত নয়।  তিনি বলেন, ‘ভাবতে অবাক লাগে যখন দেখি  দেশে অনেক শিক্ষার্থী কম্পিউটার বিজ্ঞানে গ্র্যাজুয়েশন শেষে ফ্রিল্যান্সার হতে প্রশিক্ষণ নেয়। এর বদলে নিজেদের উদ্যোগ থাকা দরকার।’

তার মতে, অনেক ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে অন্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেন না এখানকার কর্মীরা। তাই তাদের ফ্রিল্যান্সিং-আউটসোর্সিংয়ে আবদ্ধ থাকা উচিত হবে না।

যোগাযোগ
বাসা-৩২
রোড-০৪
ব্লক-ই
বনশ্রী হাউজিং প্রজেক্ট
রামপুরা, ঢাকা।

*

*

Related posts/