Maintance

বিবিসি, সিএনএন, জাজিরা চলে ভিজার্টির সফটওয়্যারে

প্রকাশঃ ২:৫৩ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৫ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ২:৫৩ অপরাহ্ন, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৫

বিবিসি, সিএনএন, আল জাজিরা, ফক্স, স্কাই নিউজে ব্যবহার হয় এ কোম্পানির সফটওয়্যার। এনটিভি, একাত্তর, ইন্ডিপেনডেন্টসহ দেশি চ্যানেলও চলে এতে। ভিজার্টি নামের সফল এক উদ্যোগের কারিগরের গল্প জানাচ্ছেন ইমরান হোসেন মিলন।

সফটওয়্যার দিয়ে বিশ্বমাত করেছে ভিজার্টি বাংলাদেশ। দেশের আঙ্গিনা ছাড়িয়েতো তো বটেই, বিশ্বের বেশিরভাগ বিখ্যাত ও জনপ্রিয় প্রচার মাধ্যমে (ব্রডকাস্ট মিডিয়া) ব্যবহার করা হয় এ কোম্পানির সফটওয়্যার।

বিশ্বে ব্রডকাস্ট মিডিয়ায় ভিজার্টির তৈরি সফটওয়্যারের অবস্থান এখন শীর্ষে। সেই সাফল্য ধরে রাখায় দ্বিতীয়বারের মতো এ উদ্যোগের কারিগরকে সম্মানিত করেছে বেসিস। ২০১৫ সালেও অসামান্য অবদান রাখায় তাকে দেওয়া হয়েছে বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়ার্ড।

সফটওয়্যার তৈরিতে দেশে বিদেশে আলোচিত এ উদ্যোক্তার নাম মাহমুদুল হক আজাদ। ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভিজার্টি বাংলাদেশের। দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছেন সফলতার শীর্ষে।

বাংলাদেশে ভিজার্টির পথচলা, সমস্যা আর সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন টেকশহর ডটকমের সঙ্গে।

With BASIS President

দেশে একটি বিদেশি কোম্পানির শাখা হিসেবে ভিজার্টির কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৭ সালে। তবে ভিজার্টি নাম নিয়ে নয়। তখন নরওয়ের কোম্পানি এসপেনিক এশিয়ার আউটসোর্সিং শাখা হিসেবে দেশে কাজ শুরু করেন মাহমুদুল হক আজাদের দল।

একটি সহযোগী কোম্পানি হিসেবে কাজ শুরু হলেও ধীরে ধীরে ভিজার্টি নিজের পথ খুঁজে নেয়। ২০১০ সালে ভিজার্টি বাংলাদেশ নামে আলাদা কোম্পানি গড়ে তোলা হয়। ব্যবসায়িক চুক্তির কারণে আরও কয়েক বছর এসেনিক এশিয়ার সঙ্গে যৌথবাবে কাজ করেন সফল উদ্যোক্তাদের এ দলটি।

২০১৩ সালে এসেনিক এশিয়াকে ডেনমার্কের একটি কোম্পানির কাছে বিক্রি করার মাধ্যমে একক পথচলা শুরু হয় ভিজার্টির।

মাহমুদুল হক বলেন, একক কোম্পানি হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলেও সমস্যা দেখা দেয় এসেনিক এশিয়াতে কর্মরত ৪০ দেশি প্রকৌশলী নিয়ে। তারা ওই কোম্পানির কর্মী হলেও ভিজার্টির প্রোডাক্ট আউটলাইন নিয়ে কাজ করছিলেন।

পরে সিদ্ধান্ত সেই ৪০ প্রকৌশলীকে ভিজার্টিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। শুরু হয় নতুন এ কর্মযজ্ঞ। নিজেদের স্বপ্ন পূরণের পথে নেমে পড়েন তারা। পুরোদমে কাজ শুরু হয় ২০১৪ সালে।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে স্নাতক মাহমুদুল হক যখন সফটওয়্যার প্রকেৌশলী হিসেবে কাজ শুরু করেন, তখন এসেনিক এশিয়া ও ভিজার্টি একসঙ্গেই ছিল। পরে তার হাত ধরেই বাংলাদেশে ভিজার্টি নিজের পায়ে দাঁড়ায়।

ভিজার্টি কাজ করে মূলত ব্রডকাস্ট সফটওয়্যার নিয়ে। বিবিসি, সিএনএন, আল জাজিরা, ফক্স, স্কাই নিউজ এবং ইউরোপের বেশ কিছু টেলিভিশন চ্যানেল এই সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করে সম্প্রচার কাজ করে।

FullSizeRender2

দেশে এনটিভি, সময় টেলিভিশন, চ্যানেল ৯, চ্যানেল ২৪, চ্যানেল ২১, একাত্তর, ইন্ডিপেনডেন্টসহ আরও বেশ কয়েকটি চ্যানেল ভিজার্টির তৈরি সফটওয়্যার ব্যবহার করে।

এ ছাড়াও নতুন যেসব টেলিভিশন চ্যানেল আসছে, সেগুলোর বেশিরভাগই ভিজার্টির সফটওয়্যার ব্যবহার করে বলে জানান মাহমুদুল হক।

ব্রডকাস্ট ছাড়াও স্পোর্টস সল্যুশন সফটওয়্যার তৈরি করে ভিজার্টি। এ সফটওয়্যার দিয়ে খেলা বিশ্লেষণ করে থাকে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব অ্যাসোসিয়েশন ফুটবল (ফিফা)।

২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ফিফার অফিসিয়াল অ্যানালিসিস পার্টনার ছিল ভিজার্টি। যেখানে গোল হয়েছে কী না, অফসাইড দেখা ও অন্যান্য কিছু বিশ্লেষণ করা হয় এ কোম্পানির তৈরি সফটওয়্যার দিয়ে।

ভিজার্টিতে এখন কর্মরত ৪৮ জনের মধ্যে প্রকৌশলী ৪৫ জন। এরা সবাই বাংলাদেশী।

virst_techshohor

মাহমুদুল হক বলেন, তাদের দলটি সফটওয়্যার ডেভেলপ ও গবেষণার কাজ করে। বিক্রির বিষয়টি দেখে থাইল্যান্ডের অফিস।

সফটওয়্যারের মান সম্পর্কে জানতে চাইলে আজাদ বলেন, তাদের তৈরি সফটওয়্যার মানের কারণেই বিখ্যাত সব টিভি চ্যানেলগুলোতে ব্যবহার করা হয়। সবসময় গুণমান নিয়ন্ত্রণে কাজ করে একটি টিম। যেখানে প্রায় ১৫ জন প্রকৌশলী কাজ করেন। তারা নিজেদের ল্যাবে সফটও্যারের মানও যাচাই করেন।

সফটওয়্যারগুলোর দাম জানতে চাইলে মাহমুদুল হক বলেন, সফটওয়্যারের ফিচার ও রিজিয়নের উপর এর দাম নির্ভর করে। ৩৫ হাজার ডলার থেকে দুই তিন লাখ ডলার পর্যন্ত দাম হয়।

Vizrt NAB 2013 booth

২০১৫ সালে কোম্পানি ক্যাটাগরিতে বেসিস আউটসোর্সিং অ্যাওয়াড পেয়েছে ভিজার্টি বাংলাদেশ। এসেনিক এশিয়ার সঙ্গে কাজ করার সময় ২০১৩ সালেও এ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিল কোম্পানিটি।

এবার দ্বিতীয়বারের মতো কোম্পানি ক্যাটাগরিতে সেরা পুরস্কার পাওয়ায় কাজের প্রতি স্পৃহা   আরও বেড়েছে বলে জানান মাহমুদুল হক। তিনি বলেন, পুরস্কার আসলে সবার মধ্যে একটা আলাদা শক্তি সঞ্চার করে। যে শক্তি নিজের জন্য এমনকি দেশের জন্য অনেককিছু করতে উৎসাহিত করে।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ভবিষ্যৎ বিষয়ে মাহমুদুল হক বলেন, দেশে অনেক মেধাবী জনশক্তি আছে। তাদের কাজে লাগিয়ে এ খাতকে অনেক এগিয়ে নেওয়া সম্ভব, যা অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও গতি দেবে। আউটসোর্সিং দিয়েই সব কিছু বদলে দেওয়া সম্ভব বলে তার বিশ্বাস।

যোগাযোগ
ভিজার্টি বাংলাদেশ লিমিটেড
কাদিরিয়া টাওয়ার
১৪ তলা
জ২৮/৮বি
মহাখালী সি/এ
ঢাকা-১২১২।

*

*

Related posts/