Maintance

ই-শিক্ষায় দূরত্ব ঘোচাতে চায় ব্রেইন স্টাডি

প্রকাশঃ ৩:৪২ অপরাহ্ন, নভেম্বর ২৯, ২০১৫ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৮:২২ অপরাহ্ন, নভেম্বর ৩০, ২০১৫

চলতি হাওয়ায় গা না ভাসিয়ে তরুন এক কম্পিউটার প্রকৌশলী কাজ করছেন ই-শিক্ষার প্রসারে। প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষাকে ছড়িয়ে দিতে ব্রেইন স্টাডি নামের প্রতিষ্ঠান গড়তে মনোনিবেশ করেছেন। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ইমরান হোসেন মিলন।

প্রচলিত ধারার বিপরীতে চ্যালেঞ্জ গ্রহণকারী তরুন এ উদ্যোক্তা আবু সাঈদ। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে পড়ালেখার পাঠ চুকিয়ে এখন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন। আর নিজের উদ্যোগ বাস্তবায়নে নিবিড়ভাবে কাজে করে চলেছেন।

বাণিজ্য নির্ভর কাজের পরিবর্তে ভিন্নধর্মী উদ্যোগে নেমে পড়ার কাজটি অবশ্য একদিনে হয়নি বলে জানান সাঈদ। তিনি বলেন, কম্পিউটার বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগের ইচ্ছে থাকে প্রোগ্রামার হওয়ার। শুরুতে এমন ইচ্ছে তার থাকলেও পরে সে ঝোঁক থেমে যায়। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘সব সবসময় রিয়েল লাইফ কাজ করতে চেয়েছি, যেখানে থাকবে জীবনের স্পন্দন ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও গ্যাজেটের ব্যবহার।’

briansty

সেই আগ্রহকে বাস্তবে রূপ দিতে গড়ে তুলেছেন ব্রেইন স্টাডি। চেষ্টা করছেন প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে খুব সহজে শিক্ষাকে সবার কাছে ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দেওয়ার।

শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম নিয়ে কাজ করেও যে একজন উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা যায় তা অনেকেই জানেন না। এ বিষয়টি নিজে জেনেছেন আবু সাঈদ, এরপর তার প্রয়োগ করে উদাহরণও তৈরি করেছেন।

তরুন এ উদ্যোক্তার মধ্যেও ভিন্ন কিছু করার পাশাপাশি দেশের জন্য ‘কিছু একটা’ করার বাসনা কাজ করেছে। তার ভাষায়, ‘একটি স্বপ্নকে সফল করতে চেয়েছি আমি। মনে হয়েছে অনেক কিছুর মধ্যে শিক্ষাই হতে পারে সে মাধ্যম, যা বলদে দিতে পারে ভবিষ্যত সমাজকাঠামো-অর্থনীতি। তবে সেটা সনাতনী নয়, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর। চারপাশে অসংখ্য মানুষ উৎসাহ দিয়েছে। তাই কাজে নেমে পড়েছি পুরো উদ্যোমে।

যেভাবে কাজ করে ব্রেইন স্টাডি
ব্রেইন স্টাডি শিক্ষার্থীদের ২৪ ঘণ্টা শিক্ষা বিষয়ক সেবা দিয়ে থাকে। এজন্য শিক্ষার্থীদের প্রথমে একটি মোবাইল অ্যাপ ‘টিউটর ৭১’ ডাউনলোড করতে হয়। অ্যাপটির সাহায্যে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে পড়ানো বিষয় নিয়ে টিউটর ৭১-এর শিক্ষক অথবা বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন করতে পারেন।

ব্রেইন স্টাডি থেকে তাৎক্ষণিক প্রশ্নের উত্তর জানিয়ে দেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষক অথবা বিশেষজ্ঞ কেউ।

শিক্ষা বিষয়ক যে কোনো তথ্য ফোনেও জানতে পারেন যে কেউ। ওয়েবসাইটে দেওয়া ফোন নম্বরে কল করেও প্রশ্ন করতে পারেন শিক্ষার্থীরা।

2

যেভাবে শুরু
সময়টা ২০০১ থেকে ২০০৫। আবু সাঈদ তখন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর ভিন্ন ধরনের গবেষণাধর্মী কাজও করেন তিনি। ২০০৫ সালে স্নাতক শেষে স্কলারশিপ নিয়ে যান সুইডেন। মাস্টার্স শেষে দেশে ফিরে ই-গভর্নমেন্ট বিষয়ে থিসিস শুরু করেন।

সাঈদ জানান, ই-গভর্নমেন্টের কাজের অংশ হিসেবে ই-টেন্ডারিং নিয়ে কাজের পাশাপাশি শিক্ষা নিয়েও কাজ করতে থাকেন। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রজেক্টে ই-লার্নি নিয়েও কাজ করেন।

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসগুলো শুধু টিভিতে দেখা যায়। কিন্তু ফিডব্যাক দেওয়া যায় না। তখন সাঈদ এসএমএসের মাধ্যমে ফিডব্যাক দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করেন। ই-লার্নিংকে ইন্টার অ্যাক্টিভ করতে কাজ করেন তিনি।

২০১৪ সালে নিজে থেকে পরিকল্পনা দাঁড় করানোর চেষ্টা শুরু করেন তরুন এ উদ্যোক্তা। এটি গতি পায় ফাউন্ডার ইন্সটিটিউটের যাত্রা শুরু হলে। সেখানে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রশিক্ষণ শেষে নিজের পরিকল্পনাকে ঘষে-মেজে প্রস্তুত করে নেন।

1

কাজ চলছে পাইলট প্রকল্প হিসেবে
পাইলট প্রকল্প হিসেবে ঢাকার ডেমরার সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক হাজার ও ডা. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের তিন হাজার একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে নিয়ে শুরু করেছে ব্রেইনস্টাডি।
দুটি কলেজেরই আইসিটি ও পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সহায়তায় প্রকল্পটি চালু হয়েছে।

যাদের পরামর্শে এতদূর এসেছেন
শিক্ষা নিয়ে কাজ করার তা স্বপ্ন বাস্তবায়নে পাশে পেয়েছেন অনেককেই। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন শিক্ষক ড. ইউসুফ মাহবুবুল ইসলাম,মো. জিল্লুর রহমান, ব্রেইন স্টাডির উপদেষ্টা ও সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা, ব্রেইন স্টাডির সহ-প্রতিষ্ঠাতা এমদাদুল হক ও সাইদুর রহমানের সহায়তা, পরামর্শ ও অনুপ্রেরণায় তারা এগিয়ে চলছেন বলে জানান সাঈদ।

প্রচারণা
পাইলট প্রকল্প হিসেবে কাজ চলছে বলে ব্রেইন স্টাডি এখনও প্রচারণায় নামেনি। খুব শিগগির এ উদ্যোগের পরীক্ষামূলক কাজ শেষ হবে। তখন দেশজুড়ে সেবা দিতে কাজে নামবেন। তখন জোর প্রচারণায় যাবেন বলে জানান এ উদ্যোক্তা।

পরামর্শ
প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা হতে গেলে অবশ্যই তাকে সমসাময়িক এবং ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নিয়ে জানতে ও ভাবতে হবে। এ ছাড়া তাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। সফল হতে অবশ্যই সময় প্রয়োজন বলে মনে করেন সাঈদ।

যোগাযোগ:
২৯, সেগুনবাগিচা, নীচতলা, ঢাকা-১০০০

*

*

Related posts/