Maintance

অ্যাপসে স্মরণীয় কিছুর চেষ্টায় অ্যাডভান্সড অ্যাপস বাংলাদেশ

প্রকাশঃ ৩:১২ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ১৭, ২০১৫ - সর্বশেষ সম্পাদনাঃ ৩:২১ অপরাহ্ন, জানুয়ারি ১৭, ২০১৫

পরিবারের ইচ্ছে ছেলে চিকিৎসক হবে। কিন্তু তার নেশা কম্পিউটারে। তীব্র ইচ্ছাশক্তিই তাকে নিয়ে যায় স্বপ্নের উদ্যোগ ‘অ্যাডভান্সড অ্যাপস বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার পথে। তরুন এক উদ্যোক্তার চড়াই-উৎরাইয়ের গল্প শোনাচ্ছেন ফখরুদ্দিন মেহেদী

নিজের স্বপ্ন পূরণে অনেকটা জোর করেই ময়মনসিংহের ছেলে শফিউল আলম বিপ্লব ভর্তি হলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগে। সেই থেকে শুরু হলো এক তরুনের স্বপ্ন যাত্রার গল্প।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই রঙিন দিনগুলোতে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষায় নিজেকে যেমন গড়ে তুলেছেন, তেমনি কাজের অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ও করেছেন। দ্বিতীয় বর্ষ থেকে কাজে নেমে পড়েন জাভা নিয়ে। পড়াশোনার পাশাপাশি চালিয়ে যেতে থাকেন টুকটাক কাজকর্মও। এ অভিজ্ঞতাই তাকে চাকরির জন্য অপরের মুখাপেক্ষী না করে নিজের উদ্যোগে নিয়ে নামতে অনুপ্রেরণা যোগায়।

প্রথমবারে যথারীতি সফলতা আসেনি। তাই বলে থেমে থাকেননি। মাঝে কিছুটা বিরতি দিয়ে আবার নেমে পড়েন নতুন উদ্যোমে। কোনো বাধাই তাকে দমাতে পারেনি। অবশেষে সব চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ঠিকই নিজের জায়গা করে নিয়েছেন এ তরুণ।

advance-apps-bangladesh-techshohor

উদ্যোক্তা জীবনের শুরুর গল্প
বিশ্ববিদ্যালয় শেষে চাকরি খোঁজার পাশাপাশি গ্রামের বন্ধুদের নিয়ে মাছের চাষ শুরু করেন। প্রচুর শ্রম দেওয়ার পরও অনভিজ্ঞতার কারণে সফলতা আসেনি। একদিকে নিজেদের অর্থ উপার্জনের উদ্যোগে ব্যর্থতা, অন্যদিকে পছন্দমত চাকরির অপেক্ষায় সময় কাটছিল বিপ্লবের। এক পর্যায়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও একটি কল সেন্টারে চাকরি নিলেন।

দু’মাস পরে প্রোলগ নামের একটি সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানে অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপার হিসাবে কাজ শুরু করলেন। নিজের পরিচিত জগতে কাজ শুরু করলেন মনের আনন্দে। ওই সময়ই অ্যান্ড্রয়েডে হাতেখড়ি হয় তার। এ প্রতিষ্ঠানে থাকতেই অ্যাপসের প্রতি আলাদা টান তৈরি হয়।

২০১০ সালের শেষের দিকে চাকরি ছেড়ে নিজের এলাকা ময়মনসিংহে গিয়ে ‘ড্রয়েড বিডি’ নামে একটি কোম্পানি শুরু করেন। বন্ধু আশীষকে নিয়ে শুরু করেন অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ ডেভেলপমেন্টের কাজ।

একই সঙ্গে কয়েকজন পরিচিতকে শেখানো শুরু করেন জাভা বেসিক এবং গ্রাফিক ডিজাইনের কাজ। সেই থেকে অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে শুরু হয় তার উদ্যোক্তা জীবনের। আস্তে আস্তে এর পরিসর বাড়তে থাকে। এভাবেই অনেক পথ পেরিয়ে উদ্যোক্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন বিপ্লব। নিজের প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্সড অ্যাপস বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন নতুন উচ্চতায়।

advance-apps-bangladesh-techshohor

যেভাবে হলো নিজের কিছু
২০১১ সালে ফ্রিল্যান্সিং কাজ পেতে প্রথম ওডেস্কে বিড করেন। ব্যাটে বলে মিলে যাওয়ায় প্রথম দিনেই কাজ পেয়ে যান। এরপর আর কাজের অভাব হয়নি।

ওই বছরই ওডেস্কের পাশাপাশি ইলান্স এবং ফ্রিলান্সার ডটকমে প্রোফাইল তৈরি করেন। কয়েকজন বিনিয়োগকারীকে নিয়ে ড্রয়িড বিডিকে লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত করেন।

২০১২ সালে শেষের দিকে এটির কর্মীর সংখ্যা বেড়ে যেমন ২০ জনে দাঁড়ায়, তেমনি বিভিন্ন দেশের ক্লায়েন্টের জন্য তৈরি অ্যাপের সংখ্যা দাঁড়ায় ২০০টি।

এ প্রতিষ্ঠান চালানোর এক পর্যায়ে আবার নতুন উদ্যোগ নিয়ে নেমে পড়েন বিপ্লব। ড্রয়েড বিডি থেকে সরে এসে শুরু করেন নিজের প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্সড অ্যাপস বাংলাদেশ।

advance-apps-bangladesh-techshohor

বর্তমান অবস্থা
২০১২ সালে অ্যাডভান্সড অ্যাপস বাংলাদেশ ৫ জন কর্মী নিয়ে কাজ শুরু করে। বর্তমানে এখানে কাজ করছে ১৯ জন। প্রতিষ্ঠানটির বাৎসরিক লেনদেন দেড় কোটি টাকা ছাড়িয়েছে বলে জানান বিপ্লব। এ ছাড়া শুরুতে এটি মার্কেটপ্লেসভিত্তিক থাকলেও বর্তমানে এটি ক্লায়েন্টভিত্তিক কাজই বেশি করছে।

স্বীকৃতি
স্বল্পতম সময়ে কাজের গুণমানের কারণে স্বীকৃতিও জুটেছে বেশ। প্রোফাইল ফ্রিলান্সার ডটকমের মোবাইল ফোন সেকশনে এক নম্বর এবং বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারদের মাঝে সব সেকশনে দ্বিতীয় স্থান দখল করেছে অ্যাডভান্সড অ্যাপস বাংলাদেশ। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে বেসিসের ফ্রিলান্সার অ্যাওয়ার্ডও পান বিপ্লব।

একই বছর ফেইসবুক ভিত্তিক গ্রুপ ‘চাকরি খুজবো না চাকরি দেব’ থেকে পান উদ্যোক্তা সম্মাননা। এ ছাড়া ফ্রিলান্সার ডটকম তাদের ব্লগে অ্যাডভান্সড অ্যাপস বাংলাদেশকে ফিচার্ড হিসেবে অর্ন্তভূক্ত করে।

প্রচারণা
তাদের প্রতিষ্ঠান শুধু বিদেশি ক্লায়েন্টদের নিয়ে কাজ করে বলে দেশে তেমন প্রচারণার দরকার পড়েনি। তবে প্রচারণার ক্ষেত্রে বিপ্লব সোস্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে থাকেন।

আগামীর পরিকল্পনা
দেশে বর্তমানে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে । তাই অ্যাডভান্সড অ্যাপস বাংলাদেশ এসব ব্যবহারকারীদের কাছে বাংলাদেশের উপযোগী অ্যাপ পৌঁছে দিতে চায়।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে লোকাল অ্যান্ড্রয়েড ডেভেলপারদের আয়ের সুযোগ তৈরির জন্যও কাজ চলছে বলে জানান বিপ্লব। যেহেতু আগামীতে সবকিছুই স্মার্টফোন নির্ভর হয়ে যাবে তাই এ খাতে দেশেও স্মরণীয় কিছু করতে চান তরুন এ উদ্যোক্তা।

নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য পরামর্শ
বিপ্লবের মতে, ব্যবসা শুরুর জন্য পূর্ব পরিকল্পনা থাকা অপরিহার্য। আর এ ক্ষেত্রে মূলধন থাকলে আরও ভালো। ব্যবসা প্রসারের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তার মতে, উদ্যোক্তাদের অবশ্যই নতুন প্রযুক্তি এবং গ্লোবাল রিসোর্স সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে। ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে টিমকে ছোট ছোট ভাগে আলাদা করে নেওয়া ভালো। তাছাড়া টিমের সঙ্গে প্রতিদিন যোগাযোগ খুবই জরুরি বলে জানান তরুন এ উদ্যোক্তা।

যোগাযোগ
Advanced Apps Bangladesh
House-103, Road -1, Mirpur DOHS, Dhaka
ই-মেইল : aapbdltd@gmail.com
www.aapbd.com

১ টি মতামত

*

*