হেলিও এস২ : দারুণ ফিচারে দুর্বলতা শুধু ফিঙ্গারপ্রিন্টে

রিয়াদ আরেফিন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সম্প্রতি বাজারে এসেছে এডিসন গ্রুপের হেলিও ব্র্যান্ড সিরিজের নতুন স্মার্টফোন এস২। এর আগে এই সিরিজের দুটি স্মার্টফোন এনেছে গ্রুপটি। তবে সেগুলোর চেয়ে আরও অত্যাধুনিক ফিচার আর উন্নত কনফিগারেশন দিয়ে নতুন মডেলের ফোনটি বাজারে ছেড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন স্মার্টফোনটিতে রয়েছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার প্রযুক্তি। যা খুব সহজেই ব্যবহারকারীকে লক-আনলকসহ বিভিন্ন সুবিধা দেবে।

ক্রেতাদের আগ্রহ বিবেচনার স্মার্টফোনটির ভালো-মন্দ জানতে টেকশহর রিভিউ টিম বেশ কিছুদিন হ্যান্ডসেটটি ব্যবহার করেন। সেই ব্যবহারে হ্যান্ডসেটটির মূল্যায়ণ করা হয়।  সেই মূল্যায়   হ্যান্ডস-অন রিভিউ।

একনজরে হেলিও এস-২ 

Specs

  • ১০৮০*১৯২০ পিক্সেল রেজুলেশনের ৫.৫ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে।
  • ফোরজি নেটওয়ার্কের সুবিধা।
  • মিডিয়াটেক এমটি-৬৭৫৩ চিপসেট।
  • মাল্টি-৭২০ এমপি-৩ জিপিইউ।
  • ৩ গিগাবাইট র‍্যাম।
  • ৩২ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ।
  • ১২৮ জিবি পর্যন্ত এসডি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা।
  • সনি আইএমএক্স সেন্সরযুক্ত ১৩ মেগাপিক্সেলের রিয়ার ক্যামেরা ও ৮ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা ।
  • ৩১৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের নন-রিমুভেবল ব্যাটারি।
  • ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর।

মোড়ক খুললে যা মিলবে

Helio S2 Unbox

  • একটি হ্যান্ডসেট।
  • একটি ইয়ারফোন।
  • একটি চার্জিং এডাপ্টর।
  • একটি ইউএসবি ডেটা ক্যাবল।
  • একটি প্লাস্টিক ব্যাক কাভার ।
  • ইউজার ম্যানুয়াল এবং
  • ওয়ারেন্টি কার্ড ।

ডিজাইন নজরকাড়া 

নজরকাড়া ডিজাইন  ও আউটলুক দিতে হ্যান্ডসেটিতে ব্যবহার করা হয়েছে মেটাল বডি।  ডিভাইসটির ফ্রন্ট প্যানেলের উপরের দিকে রয়েছে স্পিকার, ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা, প্রক্সিমিটি সেন্সর ও লাইট সেন্সর।

একদম নিচের দিকে রয়েছে চার্জিং পোর্ট ও ৩.৫ মিমি অডিও জ্যাক। পাওয়ার/লক বাটন ও ভলিউম রকারস রয়েছে ডিভাইসটির ডান দিকে । একেবারে পিছনে থাকছে রিয়ার ক্যামেরা ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার সেন্সর।

ডিসপ্লে ও টাচ 

এডিসন গ্রুপের হেলিও ব্র্যান্ড সিরিজের তৃতীয় এই ফোনটিতে ৫.২ ইঞ্চির ১০৮০ পিক্সেল ফুল এইচডি আইপিএস ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। যার পিপিআই ৪০০। এ কারণে ডিভাইসটিতে ভিডিও প্লেব্যাক কিংবা হাই-গ্রাফিক্স গেইমিং এক্সপেরিয়েন্স এক কথায় অসাধারণ। আমাদের দেখায় (ব্যবহার করে) ডিভাইসয়াটির ডিসপ্লেটিতে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।

অপারেটিং সিস্টেম

অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ মার্শম্যালো অপারেটিং সিস্টেমে চলবে হ্যান্ডসেটটি।  হ্যান্ডসেটের ইউজার ইন্টারফেস এ বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেমন : নোটিফিকেশন সেন্টার উপরের পরিবর্তে নিচে ব্যবহার করা হয়েছে, থাকছে না কোনো অ্যাপ ড্রয়ার, রয়েছে থিম ব্যবহার ও অন্যান্য কাস্টমাইজেশনের সুবিধা ।

Helio-S2-Website-Slider-techshohor

ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর

এই ফোনে যে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। তবে ব্যবহার করতে গিয়ে দেখা গেছে বিভিন্ন সময় এটি খুব ভালো কাজ করেনি। তাই সেদিক বিবেচনায় ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরকে খুব ভালো বলা যায় না।  তারপ্রও এটির সাহায্যে আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে ডিভাইস লক-আনলকের পাশাপাশি ছবি তোলা, ইনকামিং কল রিসিভ করা ইত্যাদি কাজ করা যাবে।

ক্যামেরায় চমক

 
এই ফোনটির সবচেয়ে ভালো দিক মনে হয়েছে এর ক্যামেরা। এতে সনির সেন্সরযুক্ত ১৩ মেগাপিক্সেলের রিয়াল ক্যামেরা ও ৮ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়েছে।  রাতের আলোতে এর ক্যামেরার পারফরমেন্স মধ্যম মানের হলেও দিনের আলোতে এই ফোনে চমৎকার ছবি তোলা সক্ষম। এই ফোনের আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে রিয়ার ক্যামেরার পাশাপাশি এর সেলফি ক্যামেরাতেও ফ্ল্যাশ রয়েছে ।

পারফরমেন্স

এই হ্যান্ডসেট মিডিয়াটেকের এমটি-৬৭৫৩ চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে। ৬৪ বিট প্রযুক্তির ১.৩ গিগাহার্জ গতির অক্টাকোর বিশিষ্ট শক্তিশালী এই প্রসেসরের পাশাপাশি গ্রাফিক্স প্রসেসিং এর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে মালি টি-৭২০ এমপি-৩ জিপিইউ।

আর পুরো সিস্টেমকে চালনার জন্য থাকছে ৩ গিগাবাইট র‍্যাম। সবমিলিয়ে ডিভাইসটি চমৎকার পারফরমেন্স দিতে সক্ষম। তবে মেটাল বডি হওয়ার কারণে দীর্ঘক্ষণ চালনায় কিছুটা গরম হয়ে উঠতে পারে হ্যান্ডসেটটি।

ডিভাইসটিতে ডাটা স্টোরেজ হিসেবে থাকছে ৩২ গিগাবাইটের ইন্টারনাল মেমোরি যা মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহার করে ১২৮জিবি পর্যন্ত বাড়িয়ে নেওয়া যাবে ।

বেঞ্চমার্ক

স্মার্টফোনের পারফরমেন্স যাচাইয়ের জনপ্রিয় অ্যাপ আন্টুটু বেঞ্চমার্কে এর স্কোর এসেছে ৩৮৮৮৩ , যা এই বাজেটের ফোন হিসেবে সচরাচর পাওয়া যায় না। যা সেই হিসাবে খুব ভালো।
Antutu
পাশাপাশি গ্রাফিক্স পারফরমেন্স যাচাইয়ের অ্যাপ নেনামার্ক-২ তে এর স্কোর এসেছে ঃ ৫৯।

Nenamark 2

মাল্টিমিডিয়া

এই ফোনটির মিউজিক এক্সপেরিয়েন্স বেশ ভালো মানের। এই ফোন কোনো ধরনের ল্যাগ ছাড়াই ফুল এইচডি ভিডিও প্লেব্যাক হয়। আর ফোনের সাথে থাকা হেডফোনটির কোয়ালিতি বেশ ভালো মনে হয়েছে আমাদের কাছে।

কানেক্টিভিটি

ফোরজি সুবিধাযুক্ত হাইব্রিড ডুয়াল সিম প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারী একই সঙ্গে দুটি সিম কিংবা একটি সিম ও একটি মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন।

এছাড়াও ওয়াই-ফাই, ওয়াই-ফাই ডিরেক্ট, জিপিএস, এফএম রেডিও প্রভৃতি কানেক্টিভিটি সুবিধা রয়েছে।

ব্যাটারি

এই ফোনে তিন হাজার ১৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের নন-রিমুভাবল  ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদের ব্যবহারে ডিভাইসটির ব্যাটারি ব্যাক-আপ বেশ ভালো মনে হয়েছে। একবার ফুল চার্জে টানা এক বা দুই দিন চলবে।

মূল্য

এক বছরের বিক্রয়োত্তর সুবিধাসহ দেশের বাজারে স্মার্টফোনটি ১৫ হাজার ৯৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভালো

  • অসাধারন ডিজাইন
  • ভালো মানের ডিসপ্লে
  • ডুয়াল ফ্ল্যাশ বিশিষ্ট ক্যামেরা

এক নজরে খারাপ

  • একই সাথে ডুয়াল সিম ও মেমরি কার্ড ব্যবহার না করতে পারা।
  • ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের মান দুর্বল

হুয়াওয়ে পি৯ : ডুয়েল ক্যামেরা কিন্তু নেই ৪কে ভিডিও রেকর্ডিং

রিয়াদ আরিফিন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : হুয়াওয়ের নতুন ফ্লাগশিপ স্মার্টফোন পি-৯ দেশের বাজারে বিক্রি শুরু হয়েছে। উন্নত কনফিগারেশনের ডিভাইসটি নিয়ে অনেকের মাঝে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

হাইএন্ডের ফোন যাদের প্রথম পছন্দ তারা এটি নিয়ে কথা বলছেন। এ ডিভাইসের বাড়তি চমক ডুয়েল লেন্সের ক্যামেরা। চীনা কোম্পানিটি এ ফোন নিয়ে অপর দুই মার্কেট লিডার অ্যাপল ও স্যামসাংয়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে চায়।

একনজরে হুয়াওয়ে পি৯ 

  • ১০৮০*১৯২০ পি রেজুলেশনের ৫.২ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে
  • ফোরজি নেটওয়ার্কের সুবিধা
  • কাইরিন ৯৫৫ চিপসেট
  • মালি টি-৮৮০ এমপি-৪ জিপিইউ
  • ৩ ও ৪ গিগাবাইট র‍্যাম
  • ৩২ ও ৬৪ বি ইন্টারনাল স্টোরেজ
  • ১২৮ জিবি পর্যন্ত এসডি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা
  • ডুয়াল লেন্স প্রযুক্তির ১২ এমপি রিয়ার ক্যামেরা ও ৮ এমপি সেলফি ক্যামেরা
  • ৩,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের নন-রিমুভেবল ব্যাটারি
  • ফিঙ্গার প্রিন্ট সেন্সর

মোড়ক খুললে যা মিলবে

  • একটি হ্যান্ডসেট
  • একটি ইয়ারফোন
  • একটি চার্জিং এডাপটর
  • একটি ইউএসবি ডেটা ক্যাবল
  • ইউজার ম্যানুয়াল ও
  • ওয়ারেন্টি কার্ড

নজরকাড়া ডিজাইন
মাত্র ৬.৯৫ মিলিমিটার পুরত্বের এ হ্যান্ডসেট ডিজাইনের দিক দিয়ে বেশ চমৎকার। ফ্রন্ট প্যানেলের উপরের দিকে রয়েছে স্পিকার, ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা, প্রক্সিমিটি সেন্সর ও লাইট সেন্সর।

একদম নিচের দিকে আছে চার্জিং পোর্ট ও লাউড স্পিকার। লাউড স্পিকার নিচে থাকার ফলে ডিভাসটিকে টেবিল বা অন্য কিছুর উপর রাখলেও সাউন্ডে ব্যাঘাত ঘটে না।

techshohor-huawei-p9

পাওয়ার/লক বাটন ও ভলিউম রকারস রয়েছে ডান দিকে। একেবারে পিছনে রয়েছে ডুয়াল লেন্সের রিয়ার ক্যামেরা ও ফিংগারপ্রিন্ট রিডার সেন্সর।

নেভিগেশনের জন্য হার্ডওয়্যার বাটনের পরিবর্তে থাকছে অন-স্ক্রিন সফট নেভিগেশন বাটন।

ডিসপ্লে ও টাচে স্বস্তি
ফোনটিতে ৫.২ ইঞ্চির ১০৮০ পিক্সেল ফুল এইচডি আইপিএস ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে, যার পিপিআই ৪৪১। ডিসপ্লের রেজুলেশন হলো ১০৮০*১৯২০ পিক্সেল। এ কারণে ভিডিও প্লেব্যাক কিংবা হাই-গ্রাফিক্স গেইমিং এক্সপেরিয়েন্স এক কথায় অসাধারন।

ত্রুটিপূর্ণ ইউজার ইন্টারফেস
হুয়াওয়ের নিজস্ব কাস্টমাইজড অপারেটিং সিস্টেম ইএম ইউআইয়ে চলবে এ ফোন। এটি মূলত অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ মার্শম্যালোর একটি কাস্টমাইজড ভার্সন, যা খানিকটা ধীরগতির। স্টক অ্যান্ড্রোয়েডপ্রেমীদের কাছে এটি বেশ ঝামেলার মনে হতে পারে।

TechShohor_Huawei_P9 (5)

ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সর
এতে যে ফিংগারপ্রিন্ট রিডার সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে সেটির পারফরমেন্স এক কথায় অসাধারন। আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার করে ডিভাইস লক-আনলকের পাশাপাশি ছবি তোলা, ইনকামিং কল রিসিভ ইত্যাদি কাজেও সেন্সরটিকে ব্যবহার করা যাবে ।

techshohor-huawei-p9

চমৎকার ক্যামেরা
স্মার্টফোনটির প্রধান আকর্ষন ডুয়াল লেন্স বিশিষ্ট ক্যামেরা । জার্মান অপটিক্স কোম্পানি লাইকার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে হুয়াওয়ে ১২ মেগাপিক্সেল রেজুলেশনের ডুয়াল লেন্সের ক্যামেরা ব্যবহার করেছে।

এ প্রযুক্তি স্মার্টফোনের ফটোগ্রাফিতে নতুন এক মাত্রা যোগ করেছে। পাশাপাশি সেলফি তোলার জন্য থাকছে ৮ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা। ছবির মান নিয়ে দুঃশ্চিন্তার কোন কারন নেই।

পারফরমেন্স
হুয়াওয়ের নিজস্ব চিপসেট কাইরিন ৯৫৫ ব্যবহার করা হয়েছে এতে। অক্টাকোরের শক্তিশালী এ প্রসেসরের পাশাপাশি গ্রাফিক্স প্রসেসিংয়ের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে মালি টি-৮৮০ এমপি-৪ জিপিইউ।

ফোনটির ৩ ও ৪ গিগাবাইট র‍্যামের দুই সংস্করণ রয়েছে।  তবে মেটাল বডির কারণে দীর্ঘক্ষণ চালালে কিছুটা গরম হয়ে উঠতে পারে হ্যান্ডসেটটি।

techshohor-huawei-p9

ডিভাইসটিতে ডাটা স্টোরেজ হিসেবে থাকছে ৩২ গিগাবাইটের ইন্টারনাল মেমরি, যা মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহার করে ১২৮জিবি পর্যন্ত বাড়িয়ে নেয়া যাবে । ৪ গিগাবাইট র‍্যামের সংস্করণে রয়েছে ৬৪ গিগাবাইট ইন্টারনাল মেমোরি।

মাল্টিমিডিয়া
ফোনটির মিউজিক এক্সপেরিয়েন্স বেশ ভাল। কোনো ধরনের ল্যাগ ছাড়াই ফুল এইচডি ভিডিও প্লেব্যাক হয়।

কানেক্টিভিটি
ফোরজি সুবিধাযুক্ত হাইব্রিড ডুয়াল সিমের মধ্যে একই সঙ্গে দুটি সিম কিংবা একটি সিম ও একটি মাইক্রো এসডি কার্ড ব্যবহার করা যাবে। এতে ইউএসবি টাইপ-সি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে ।

এ ছাড়া ওয়াই-ফাই, ওয়াই-ফাই ডিরেক্ট, জিপিএস, এফএম রেডিও প্রভৃতি কানেক্টিভিটি সুবিধা রয়েছে।

ব্যাটারি
৩,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের নন-রিমুভএবল ব্যাটারির এ ফোনে ইএম-ইউআই অনেকটা ব্যাটারি সাশ্রয়ী।

একবার ফুল চার্জে টানা এক বা দু’দিন চলবে। ফোনটিতে রয়েছে ফাস্ট ব্যাটারি চার্জিং  সুবিধা। ফলে মাত্র ৩০ মিনিটে ৪৪ শতাংশ চার্জ হবে ডিভাইসটি।

মূল্য
এক বছরের বিক্রয়োত্তর সুবিধাসহ দেশের বাজারে ৪৭,৯৯০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া ২৪ মাসের ইএমআই সুবিধাও মিলবে।

এক নজরে ভালো

  • অসাধারন ডিজাইন
  • ভাল মানের ডিসপ্লে
  • ডুয়াল লেন্স ক্যামেরা
  • ওজনে হালকা

এক নজরে খারাপ

  • ৪কে ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধা নেই
  • ডুয়েল সিম সংস্করণে এনএফসি সুবিধা নেই
  • এফএম রেডিও সুবিধা নেই

১৩৪ স্থাপনার ছবি তুলবে উইকিপিডিয়া রাজশাহী

রিয়াদ আরিফিন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর  :  নানা উদ্যোগ ও কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ও আলোচনা-আড্ডায় অনুষ্ঠিত হয়েছে উইকিপিডিয়া রাজশাহী কমিটির মিটআপ।

বুধবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মিটআপে অংশ নেয় উইকিপিডিয়া কমিউনিটির অর্ধশতাধিক সদস্য।

মিটআপে বিশ্বব্যাপী চলা উইকিপিডিয়ার ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা নিয়ে নিজেদের করণীয় ঠিক করা হয়। এতে রাজশাহীর উইকিপিডিয়া কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা বিভাগের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের নিবন্ধিত ১৩৪টি  ঐতিহাসিক স্থাপনার ছবি তোলার সিদ্ধান্ত নেয়।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় অর্ধশতাধিক দেশে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে উইকি লাভ মনুমেন্টস নামের এই প্রতিযোগিতা চলবে।

wiki

এছাড়া চলতি বছরের নভেম্বরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিতব্য উইকিপিডিয়ার প্রথম সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয় । আন্তর্জাতিক ওই সম্মেলনে উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশননের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা  অংশগ্রহণ করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত নতুন সদস্যদের জন্য উইকিপিডিয়া বিষয়ক প্রাথমিক আলোচনাও হয়েছে।

মিটআপে উপস্থিত ছিলেন উইকিমিডিয়া বাংলাদেশের নির্বাহী মাসুম আল হাসান রকি, পরিচালনা কমিটির সদস্য নাহিদ হোসেন ও মুশফিক মুন্না, সদস্য এম.এন নাহিদ, ওমর ফারুকসহ অনেকে ।

মিটআপে  কমিউনিটির সদস্যদের ছবি তোলা বিষয়ক পরামর্শ দিয়েছেন রাজশাহী ফটোগ্রাফিক সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ফরিদ আক্তার পরাগ ।

স্মার্ট ডিভাইসের সাউন্ড বাড়াবেন যেভাবে

রিয়াদ আরিফিন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : স্মার্টফোন বা ট্যাবের মতো মোবাইল ডিভাইসের বহুবিধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাউন্ড কোয়ালিটির দিকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শব্দ ঠিকভাবে শোনা না গেলে অনেক রকম বিপত্তি হতে পারে। শুধু এ কারণেই অনেকে ফোন বদলানোর উদ্যোগ নিয়ে থাকেন। তবে কিছু টিপস জানা থাকলে বাড়তি পয়সা খরচ না করলেও চলবে।

সব হ্যান্ডসেটের সাউন্ড কোয়ালিটি যদিও এক নয়- তবুও কিছু পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনার ডিভাইস থেকে সর্বোচ্চ মানের সাউন্ড আউটপুট পেতে পারেন।

অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের সাউন্ড কোয়ালিটি বৃদ্ধি করার কিছু টিপস নিয়ে এ টিউটোরিয়াল।

music-techshohor

ভাল মানের কাভার ব্যবহার
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাভারের কারণে স্মার্টফোনের স্পিকার ঢাকা পড়ে যায়। এতে সাউন্ড আউটপুট বিঘ্নিত হয়। তাই কাভার কেনার সময় সেটি যাতে হ্যান্ডসেটের সঙ্গে খাপ খায় অর্থ্যাৎ স্পিকার উন্মুক্ত থাকে তা খেয়াল রাখতে হবে।

ভালো মানের ইয়ারফোন ব্যবহার
স্মার্টফোনে যারা গান শুনতে ভালবাসেন তাদের জন্য প্রয়োজন ভালো মানের একটি ইয়ারফোন। ইয়ারফোন যুতসাই না হলে আপনার মিউজিক অভিজ্ঞতা খুব একটা আনন্দদায়ক হওয়ার কথা নয়।

সেটিংস চেক করা
মোটামুটি সব অ্যান্ডয়েড ডিভাইসে বিল্ট-ইন হিসেবে কিছু অডিও সেটিংস অপশন থাকে। সেটিংস অপশনে এটির বিস্তারিত রয়েছে। তবে বিভিন্ন ব্রান্ডের ক্ষেত্রে হ্যান্ডসেটে কিছুটা তারতম্য দেখা যায়।

স্যামসাং : এ ব্র্যান্ডের মোবাইলে সেটিংস অপশনে সাউন্ড>অডিও সেটিংসে গেলে আপনি সাউন্ড কাস্টমাইজেশন কিছু অপশন পাবেন । এ ছাড়া প্রিসেট কিছু সাউন্ড মোডও পাবেন।

চাইলে সেগুলো ব্যবহার করতে পারেন অথবা নিজের পছন্দ অনুযায়ী কাস্টমাইজ করে নিতে পারেন।

শাওমি : এ ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেটগুলোতে সেটিংসে ‘হেডফোন অ্যান্ড অডিও ইফেক্টস’ নামে বিশেষ এক অপশন আছে। আপনি সেখান থেকে সাউন্ড কাস্টমাইজেশন করে নিতে পারেন।

এ ছাড়া আপনি কি ধরনের ইয়ারপিচ কিংবা হেডফোন ব্যবহার করছেন তাও নির্বাচন করে দিতে পারবেন, যা সর্বোচ্চ মানের সাউন্ডের অভিজ্ঞতা দেবে আপনাকে ।

sound-tips-techshohor

এর পাশাপাশি সনির সকল ফোন, এলজি, লেনোভো, মেইজু, অপ্পো, সিম্ফনি, ওয়ালটনে এ সুবিধা পাওয়া যাবে।

স্টক অ্যান্ড্রয়েডবিশিষ্ট হ্যান্ডসেটগুলোতে সুবিধাটি অনুপস্থিত। তবে প্লেস্টোরে এ সংক্রান্ত কিছু অ্যাপ পাওয়া যাবে, যা দিয়ে স্টক অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা এ ঘাটিতি পুষিয়ে নিতে পারবেন।

ভালো মানের মিউজিক প্লেয়ার ব্যবহার
অনেক ক্ষেত্রেই অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে বিল্ট ইন হিসেবে থাকা মিডিয়া প্লেয়ারগুলোর মান কিছুটা খারাপ হয়ে থাকে। এ জন্য প্রয়োজন ভালো মানের একটি থার্ড পার্টি মিডিয়া প্লেয়ার অ্যাপ। গুগল প্লে স্টোরে বেশ কিছু ভালো মানের অ্যাপ্লিকেশন পেতে পারেন আপনি । যেমন-

  • ফনোগ্রাফ
  • পালসার অডিও প্লেয়ার
  • মিউজিকম্যাচ
  • এমএক্স প্লেয়ার
  • জেট অডিও প্লেয়ার

এগুলোর যে কোনো একটি অ্যাপ ব্যবহারে আপনি সেরা সাউন্ড আউটপুট পেতে পারেন ।

এ ছাড়া প্রতিটি অ্যাপের নিজস্ব কিছু সাউন্ড কাস্টমাইজেশন অপশন আছে, চাইলে সেগুলো চালু করে নিতে পারেন ।

সাউন্ড বুস্টার ব্যবহার
অ্যান্ড্রয়েডের সাউন্ড সর্বোচ্চ পরিমান পর্যন্ত বাড়িয়ে নিতে পারেন কিছু অ্যাপ কিংবা কাস্টম মোড ব্যবহার করে । এগুলোর মধ্যে ভাইপার ফর অ্যান্ড্রয়েড, ডলবি এটমস, ই-কিউ প্লাস অন্যতম ।

তবে এগুলো ব্যবহারের জন্য অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস রুট করা থাকতে হবে।

সস্তায় চলনসই শাওমির ১০,০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার পাওয়ার ব্যাংক

রিয়াদ আরিফিন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : স্মার্টফোন নির্ভরতার এ যুগে পাওয়ার ব্যাংক যেন অত্যাবশ্যকীয় এক গ্যাজেটে পরিণত হয়েছে। স্মার্টফোনের বহুমুখী ব্যবহারের সঙ্গে এটির ব্যবহারও বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বাজারে ১০ হাজার মিলিঅ্যাম্পিয়ার সক্ষমতার যতগুলো পাওয়ার ব্যাংক পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর মধ্যে বেশ জনপ্রিয় শাওমির ১০০০০ মিলি অ্যাম্পিয়ারের পাওয়ার ব্যাংকটি।

তুলনামূলক সস্তা দামের সঙ্গে পারফরমেন্স ভালো হওয়ায় অনেকের পছন্দ এটি। যদিও এর ব্যাকআপ ক্ষমতার পুরোটা পাওয়া যায় না।

xaimi-powerbank-techshohor (2)

ডিজাইন
২০৭ গ্রাম ওজনের পাওয়ার ব্যাংকটির ডিজাইনে অ্যালুমিনিয়াম মেটাল ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে এটি পেয়েছে প্রিমিয়াম লুক। পাওয়ার ব্যাংকটি লাল, সোনালী ও সিলভার রঙে পাওয়া যাচ্ছে ।

আয়তকার গ্যাজেটটি প্রস্থে কিছুটা বাঁকানো। এতে একটি চার্জিং ইনপুট মাইক্রো-ইউএসবি ২.০ পোর্ট, একটি চার্জিং আউটপুট পোর্ট ও চারটি এলইডি ইনডিকেটর লাইট রয়েছে।

চার্জিং
পাওয়ার ব্যংকটি তৈরিতে প্যানাসনিক ও এলজির ৭৩৫ ডব্লিউএইচ/এল পলিমার ব্যাটারি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ব্যবহৃত চার্জিং ইনপুট পোর্টটির সক্ষমতা ১০ ওয়াট বা ৫ ভোল্ট-২ অ্যাম্পিয়ায়ের সমান।

ফলে ২.০ অ্যাম্পিয়ারের চার্জার ব্যবহার করে চার্জ দিলে এটিকে পূর্ণ চার্জ করতে ৫-৬ ঘন্টা সময় লাগে ।

xaimi-powerbank-techshohor (3)

সুরক্ষা ব্যবস্থা
এতে রয়েছে নিজস্ব কিছু  সুরক্ষা ব্যবস্থা। ফলে ব্যবহারকারীরা অনেক বিষয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন। যেমন-

  • ডিভাইসটি অধিক ব্যবহারেও অত্যাধিক গরম হয় না
  • মাত্রাতিরিক্ত ভোল্টেজের প্রবাহ প্রতিহত করে
  • অনাকাংখিত শর্ট সার্কিট থেকে রক্ষা করবে
  • ভুল সংযোগ বুঝতে পারবে ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জিং বন্ধ হয়ে যাবে ।

পারফরমেন্স
পাওয়ার ব্যাংক কিংবা এ জাতীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলোর কর্মদক্ষতা সাধারন ৭০-৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ক্ষতিজনিত কারণে প্রায় ২৫-৩০ শতাংশ শক্তি নষ্ট হয়। এটিও তার ব্যতিক্রম নয়।

তুলনামূলক সস্তা এ পাওয়ার ব্যাংক থেকে ৬,২৫০ মিলিঅ্যাম্পিয়ের ব্যবহারযোগ্য শক্তি পাওয়া যাবে, যা মানের বিচারে বেশ সন্তোষজনক। অর্থাৎ এটি একবার ফুল চার্জ হলে তা দিয়ে ২০০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ার ব্যাটারির স্মার্টফোন তিনবারেরও বেশি ফুল চার্জ করা যাবে।

যেসব ডিভাইসে ব্যবহারযোগ্য
মাইক্রো ইউএসবি পোর্ট বিশিষ্ট যে কোনো ডিভাইসে এটি ব্যবহার করা যাবে। স্মার্টফোন ছাড়াও ট্যাব, স্মার্টওয়াচ, স্মার্ট ফিটনেস ব্যান্ড প্রভৃতি চার্জ করা যাবে এটি দিয়ে।

মূল্য
দেশের বাজারে পাওয়ার ব্যাংকটি ১৫০০-১৬০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভাল
– আকারে হালকা
– সহজে বহনযোগ্য
– দামে সস্তা

এক নজরে খারাপ
– মাত্র একটি চার্জিং আউটপুট পোর্ট

আসুস জিএল৫৫২ : গেইমারদের সন্তুষ্টির সব আয়োজন

রিয়াদ আরিফিন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : আরওজি (রিপাবলিক অব গেমার) সিরিজের ল্যাপটপ দিয়ে কম্পিউটার গেইমিংয়ে আলোড়ন ফেলেছিল আসুস। ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এ সিরিজে নতুন ডিভাইস সংযোজন করেছে তাইওয়ানভিত্তিক কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি। এবার এনেছে আরওজি জিএল-৫৫২ ভি ডব্লিউ ল্যাপটপ।

বহুজাতিক কোম্পানিটি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলভিত্তিক বিভিন্ন সংস্করণে ল্যাপটপটি বাজারজাত করছে। উচ্চ কনফিগারেশনের দামি এ ল্যাপটপ দেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ৯৭,৭০০ টাকায়।

ASUS-GL552VW-Laptop-techshohor

এক নজরে আরওজি জিএল-৫৫২ ভি ডব্লিউ  

  • ১৯২০*১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনে ১৫.৬ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে
  • ইন্টেলের ৬ষ্ঠ প্রজন্মের কোর আই-৭ প্রসেসর
  • এনভিডিয়া জিটিএক্স-৯৬০এম ৪ জিবি গ্রাফিক্স
  • ১৬ জিবি ডিডিআর-৪ র‍্যাম
  • ২ টেরাবাইট হার্ডডিস্ক
  • ব্লুটুথ ৪.০

চমৎকার ডিজাইন
২.৬ কেজির ল্যাপটপটি ওজনে কিছুটা ভারী হলেও দেখতে বেশ প্রিমিয়াম। গ্লোসি প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়াম মেটালের দুটি সংস্করণ আছে । তবে দেশে অ্যালুমিনিয়াম মেটালটি পাওয়া যাচ্ছে।

৩৪ মিলিমিটার পুরত্বের ডিভাইসটির বামে চারটি ইউএসবি-৩ পোর্ট, একটি ৩.১ ইউএসবি টাইপ-সি পোর্ট ও একটি এইডিএমআই পোর্ট এবং ডানে ডিভিডি বার্নার, কার্ড রিডার ও ল্যান পোর্ট রয়েছে।

সবকিছু মিলিয়ে ডিজাইন অনেকের কাছে অসাধারণ বলেই মনে হবে।

ASUS-GL552VW-Laptop-techshohor

ডিসপ্লেতে সেরা
১৫.৬ ইঞ্চির আইপিএস প্রযুক্তির ডিসপ্লের রেজুলেশন ১৯২০*১০৮০ পিক্সেল। কালার কম্বিনেশন ও ভিউ অ্যাঙ্গেল বেশ ভাল। পাশাপাশি এনভিডিয়ার ৪ জিবি গ্রাফিক্স থাকায় ডিসপ্লে চমৎকার অভিজ্ঞতা দেবে ব্যবহারকারীদের ।

কী বোর্ড ও টাচ প্যাডে কিছুটা অস্বস্তি
কী বোর্ডটি লাল রঙের ব্যাকলিট বিশিষ্ট। অন্য কোনো সমস্যা না পাওয়া গেলেও কী বোর্ডটির নম্বার প্যাড ও নেভিকেশন কী’র অসামঞ্জ্যসের কারণে ব্যবহারকারীদের অভ্যস্ত হতে কিছুটা সময় লাগবে। এ ছাড়া টাচ প্যাডটি ঠিক যুতসই না হওয়ায় কিছুটা অস্বস্তি রয়েছে।

ASUS-GL552VW-Laptop-techshohor

কানেক্টিভিটি ও নেটওয়ার্কিং
চারটি ইউএসবি থ্রি পোর্ট ও একটি ৩.১ ইউএসবি টাইপ-সি কানেকটর থাকায় পোর্ট স্বল্পতায় ভোগান্তিতে পড়তে হবে না। ডিসপ্লে আউটপুটের জন্য থাকছে এইচডিএমআই পোর্ট ।

পাশাপাশি নেটওয়ার্কিং সুবিধা হিসেবে থাকছে ল্যান ও ব্লুটুথ প্রযুক্তি। অপটিক্যাল ড্রাইভের কারণে ডিভিডি রিড কিংবা রাইটে ঝামেলা নেই ।

প্রসেসর ও গ্রাফিক্সে এগিয়ে
ইন্টেলের ৬ষ্ঠ প্রজন্মের কোর-আই৭ ৬৭০০ এইচকিউ  প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে এতে। ৬৪ বিট আর্কিটেক্সারের কোয়াড কোর এ প্রসেসরের গতি ২.৬ গিগাহার্জ পর্যন্ত। এর ক্যাশিং ক্ষমতা ৬ এমবি।

একই সঙ্গে গ্রাফিক্স চিপসেট হিসেবে এনভিডিয়া জিটিএক্স-৯৬০এম গ্রাফিক্স ব্যবহার করা হয়েছে, যার মেমরি ৪ গিগাবাইট । গ্রাফিক্স কার্যকারিতা বেশ ভালো।

asus-laptop-techshohor

পর্যাপ্ত র‍্যাম ও স্টোরেজ 
১৬ গিগাবাইটের ডিডিআর-৪ র‍্যামের সঙ্গে ২ টেরাবাইট হার্ডডিস্ক থাকায় গতি ও স্টোরেজ নিয়ে সমস্যা হবে না। তবে হতাশার বিষয় হলো ল্যাপটপটির যে মডেল দেশে পাওয়া যাচ্ছে, সেটিতে এসএসডি স্টোরেজ সুবিধা নেই।

পারফরমেন্সে সন্তুষ্টি
অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে থাকছে উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেম। বিল্ট ইন হিসাবে মিলবে এমএস অফিসসহ প্রয়োজনীয় সব অ্যাপ।

সর্বশেষ প্রযুক্তির প্রসেসর ও র‍্যামের কারণে পারফরমেন্স নিয়ে নিশ্চিন্তে থাকা যাবে। হাই গ্রাফিক্স গেইমিংয়ের বিশেষভাবে তৈরি করায় পিসি গেইমাররা নির্দ্বিধায় নিতে পারেন ।

বিভিন্ন হাই গ্রাফিক্স গেইম চালাতে দৃশ্যমান ফ্রেম ড্রপ হয়নি। দীর্ঘক্ষণ হাই গ্রাফিক্স গেইমেও খুব বেশি গরম হয় না।

বিল্ট-ইন ওয়েবক্যামের পারফরমেন্সও বেশ ভালো। নেটওয়ার্কিংয়ে দৃশ্যমান সমস্যা নেই ।

ব্যাটারি
চার সেলের লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি প্রায় পাঁচ ঘন্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে পারবে।

মূল্য
দেশে মূল্য ৯৭,৭০০ টাকা। সঙ্গে থাকছে দুই বছরের বিক্রয়ত্তোর সেবা।

এক নজরে ভালো
– ডিজাইনে দারুন
– উন্নতমানের প্রসেসর
– উন্নতমানের ডিসপ্লে
– পারফরমেন্সে এগিয়ে ।

এক নজরে খারাপ
– এসএসডি নেই
– লাউড স্পিকারের ভলিউম কিছুটা কম

আরও পড়ুন:

 

শাওমি রেডমি৩ প্রো : ডিসপ্লের ঘাটতি পোষাবে পারফরমেন্স ও ব্যাটারিতে

রিয়াদ আরিফিন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অপেক্ষাকৃত কম দামে উন্নত কনফিগারেশনের স্মার্টফোন বাজারজাতকরণে শাওমির জুড়ি মেলা ভার। চীনা এ কোম্পানি এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বাজারে এনেছে শাওমি রেডমি ৩ প্রো। এটি মূলত রেডমি৩-এর বর্ধিত সংস্করণ।

ফিংগারপ্রিন্ট সেন্সরের এ ফোনের ডিসপ্লে ও ডিজাইনের তেমন নতুনত্ব না থাকলেও পারফরমেন্সে বেশ ভালো। ব্যাটারি সেবাও অতুলনীয় বলে ব্যবহারকারীদের মন্তব্য। এই ১৪ হাজার থেকে সাড়ে ১৪ হাজার টাকায় মাঝারি বাজেটের ফোনটি দেশের বাজারেও বিক্রি শুরু হয়েছে।

একনজরে রেডমি৩ প্রো
পাঁচ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে
ফোরজিসহ হাইব্রিড ডুয়াল সিম
স্নাপড্রাগন ৬১৬ চিপসেট
অ্যান্ড্রিনো ৩০৬ জিপিইউ
৩ গিগাবাইট র‍্যাম
৩২ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ
পেছনে ১৩ মেগাপিক্সেল ও সামনে ৫ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা
৪,১০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের নন-রিমুভেবল ব্যাটারি
ফিংগারপ্রিন্ট রিডার সেন্সর

xiami-redmi-3-techshohor-1

মোড়ক খুললে যা মিলবে
হ্যান্ডসেট
চার্জিং এডাপটর।
একটি ইউএসবি ডেটা ক্যাবল
ইউজার ম্যানুয়াল ও
ওয়ারেন্টি কার্ড

ডিজাইনে নেই নতুনত্ব
রেডমি সিরিজের আগের ফোন রেডমি৩-এ চেয়ে এটির ডিজাইনে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। অ্যালুমিনিয়াম মেটাল ডিজাইনের ফোনটি দেখতে অবশ্য প্রিমিয়াম লাগবে। তবে মেটালিক ডিজাইনের কারণে দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে কিছুটা গরম হয়ে যায়। মেটালিক বডির কারণে কিছুটা অস্বস্তিও হতে পারে।

পাঁচ ইঞ্চির এ ডিভাইস হালকা গড়নের হওয়ায় অনায়সে এক হাতে ব্যবহার করা যায়। এটির ফ্রন্ট প্যানেলের উপরের দিকে রয়েছে স্পিকার, ফ্রন্ট ফেসিং ক্যামেরা ও প্রক্সিমিটি সেন্সর।

ডিসপ্লের একেবারে নিচে রয়েছে তিনটি টাচ ক্যাপাসিটিভ বাটন। এতে কোনো হার্ডওয়্যার বাটন ব্যবহার করা হয় নি।

ফোনের ডান পাশে রিমুভএবল সিম ট্রেতে একই সঙ্গে মাইক্রো ও ন্যানো সিম অথবা মাইক্রো সিম ও এসডি কার্ড ব্যবহার করা যাবে। অর্থাৎ একই সাথে ডুয়াল সিম ও এক্সটার্নাল মেমরি কার্ড ব্যবহার করা যাবে না ।

একেবারে ব্যাক প্যানেলে থাকছে ফিংগারপ্রিন্ট রিডার সেন্সর।

xiami-redmi-3-techshohor (3)

ডিসপ্লে আহামরি নয়
৫ ইঞ্চির ৭২০ পিক্সেল আইপিএস ডিসপ্লের পিপিআই মাত্র ২৯৪। তবে দামের বিবেচনায় ডিসপ্লে কোয়ালিটি মোটামুটি মানের।

কাস্টমাইজড ইউজার ইন্টারফেস
শাওমির নিজস্ব কাস্টমাইজড অপারেটিং সিস্টেম মিইউআই সেভেনে চলবে এ ফোন। এটি মূলত অ্যান্ড্রয়েড ৫.১ ললিপপের একটি কাস্টমাইজড ভার্সন। এ কারণে ললিপপের পাশাপাশি নতুন ফিচার মিলবে।

xiami-redmi-3-techshohor (5)

পারফরমেন্সে এগিয়ে
দুই জিবি র‍্যামের কারণে রেডমি ৩ কিছুটা ধীরগতির ছিল। এ সমস্যা সমাধানে এ ফোনে ব্যবহার করা হয়েছে তিন জিবি র‍্যাম। পাশাপাশি কোয়ালকমের স্নাপড্রাগন ৬১৬ চিপসেট রয়েছে যা আগের সংস্করণের চেয়ে উন্নত।

অক্টাকোর প্রসেসরের এ ডিভাইসে কর্টেক্স এ৫৩ আর্কিটেক্সারের ১.৫ গিগারহার্জের চারটি ও ১.২ গিগাহার্জের চারটি প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। গ্রাফিক্স প্রসেসিংয়ের জন্য রয়েছে অ্যান্ড্রিনো ৪০৫ জিপিউ।

প্রসেসর ও র‍্যামের সমন্বয় ভালো হওয়ায় ফোনটি খুব ভালো পারফরমেন্স দিতে সক্ষম। একই কারণে গেইমিং অভিজ্ঞতাও হবে ঝামেলাবিহীন।

অন্যদিকে ফিঙ্গারপ্রিন্ট রিডার সেন্সরের কারণে বিভিন্ন নিরাপত্তা ফিচারে দৃশ্যমান সমস্যা পাওয়া যায়নি।

xiami-redmi-3-techshohor (1)

মাল্টিমিডিয়াতে ভালো
সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছে শাওমি অনেক আগে থেকেই আস্থার ব্র্যান্ড। এটিতেও সে ধারাবাহিকতা বজায় আছে। অডিও আউটপুট কোয়ালিটি বেশ ভালো। কোনো ধরনের ল্যাগ ছাড়াই ফুল এইচডি ভিডিও প্লেব্যাক হয়।

ক্যামেরাতে মাঝারি
পেছনে ১৩ মেগাপিক্সেল ও সামনে পাঁচ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দিয়ে বেশ ভালো ছবি তোলা যাবে। তবে মৃদু আলোতে ছবির মান কিছুটা ঘোলাটে। এ ক্যামেরা দিয়ে ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনের ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ড করতে পারবেন।

xiami-redmi-3-techshohor (2)

ব্যাটারিতে অসাধারন
৪,১০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের নন-রিমুভএবল লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির কারণে ব্যাকআপ অসাধারণ। একবার ফুল চার্জে টানা দুই বা তিন দিনও চলবে। ফার্স্ট চার্জিং সুবিধা থাকায় অল্প সময়েই ফুল চার্জ হবে।

কানেক্টিভিটিতে পরিপূর্ণ
ফোনটি সেভেন ব্যান্ডের ফোরজি নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করে। এ ছাড়া ওয়াই-ফাই,ওয়াই-ফাই ডিরেক্ট, জিপিএস, এফএম রেডিও, ইউএসবি ২.০ প্রভৃতি কানেক্টিভিটি সুবিধা রয়েছে।

এক নজরে ভালো
অসাধারন বিল্ড কোয়ালিটি
অনেক ভালো ব্যাটারি লাইফ
স্মুথ ইউজার ইন্টারফেস
ফিংগারপ্রিন্ট রিডার সেন্সর

এক নজরে খারাপ
ডিসপ্লের রেজুলেশন কম
একই সঙ্গে ডুয়াল সিম ও মেমরি কার্ড ব্যবহার করা যায় না
এনএফসি সুবিধা নেই

লাভা আইরিশ ৮৭০ : স্বল্প বাজেটে চলনসই স্মার্ট ফিচার

রিয়াদ আরিফিন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : লাভার নতুন স্মার্টফোন আইরিশ ৮৭০ বাজারে এসেছে খুব বেশি দিন হয়নি। স্বল্প বাজেটের এ ফোন সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে আকর্ষণীয় মনে হবে। তবে যারা এর আগে দু’একবার স্মার্টফোনের মডেল বদলেছেন তারা খুব সপ্রতিভ হবেন না। তাদের কাছে কিছুটা ধীর গতির মনে হতে পারে এটি।

৯,৯৯০ টাকা মূল্যের ২ জিবি র‍্যামের ফোনটিতে ১.০ গিগাহার্জ গতির প্রসেসর ব্যবহারের কারণে স্মার্টফোননির্ভর কাজের জন্য যারা এটি বাছাই করতে চান, তারা পারফরমেন্স নিয়ে খুব উচ্ছসিত হবেন- তা বলা যাবে না।

এক নজরে লাভা আইরিশ ৮৭০

  • ১০৮০*৭২০ পি রেজুলেশনের ৫.০ ইঞ্চি আইপিএস ডিসপ্লে
  • থ্রি নেটওয়ার্ক সুবিধাসহ ডুয়াল সিম
  • ১.০ গিগাহার্জ গতির মিডিয়াটেক প্রসেসর
  • ২ গিগাবাইট র‍্যাম
  • ১৬ জিবি ইন্টারনাল স্টোরেজ
  • এসডি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা
  • ৮ মেগাপিক্সেল রিয়ার  ও ৫ মেগাপিক্সেল  ফ্রন্ট  ক্যামেরা
  • ২,৭০০ মিলিএম্পিয়ার নন-রিমুভেবল লিথিয়াম-পলিমার ব্যাটারি

Lava-Iris-870-techshohor

আনবক্সিংয়ে যা পাওয়া যাবে

  • হ্যান্ডসেট
  • একটি ইয়ারফোন
  • একটি চার্জিং এডাপটর
  • একটি ইউএসবি ডেটা ক্যাবল
  • একটি ফ্রি ব্যাক কাভার
  • ইউজার ম্যানুয়াল ও
  • ওয়ারেন্টি কার্ড ।

গড়নে নেই নতুনত্ব

হ্যান্ডসেটটির ডিজাইনে তেমন কোনো নতুনত্বের ছোঁয়া চোখে পড়ে না। ৮.৪ মিমি. পুরুত্বের এ ডিভাইসে গ্লোসি প্লাস্টিক বডি ব্যাবহার করা হয়েছে।

ডান দিকে থাকছে লক-আনলক/পাওয়ার বাটন ও ভলিউম রকার। ক্যামেরা থাকছে পেছন দিকের কোনায়। বামে কোনো ফিজিক্যাল বাটন নেই।

একদম নিচে থাকছে ইউএসবি ২.০ পোর্ট ও লাউডস্পিকার। স্পিকার নিচের প্যানেলে থাকায় টেবিল বা অন্য কিছুর ওপর ফোনটি রাখলে সাউন্ডে ব্যাঘাত ঘটবে না। একদম উপরের অংশে থাকছে ৩.৫ মিমি অডিও আউওটপুট পোর্ট।

ডিসপ্লে প্যানেলের উপরে থাকছে প্রক্সিমিটি সেন্সর ও সেলফি ক্যামেরা।

lava-techshohor

ডিসপ্লে ও টাচঃ
১২৮০*৭২০ পিক্সেলের ৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে ২.৫ডি আর্ক আইপিএস। ফলে ভিউ অ্যাংগেলে কোনো সমস্যা পাওয়া না গেলেও কালার রিপ্রোডাকশনে কিছুটা আশাহত হতে পারেন।

সাধারণ ব্যবহারীদের জন্য এটি কোনো ব্যাপার না হলেও যারা মোবাইলে এইচডি মুভি দেখা ও উচ্চ গ্রাফিক্স গেইমিংয়ে অভ্যস্ত তারা কিছুটা সমস্যায় পড়বেন।

ডিসপ্লেটির টাচ রেসপন্স কিছুটা ধীরগতির মনে হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারে তা ল্যাগও করে মাঝে মধ্যে।

র‍্যাম ও রম

হ্যান্ডসেটটিতে ২ গিগাবাইট র‍্যাম ও ১৬ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ ব্যবহার করা হয়েছে। মাইক্রো এসডি কার্ড দিয়ে স্টোরেজ বাড়িয়ে নেওয়া যাবে।

কানেক্টিভিটি
ডুয়াল সিমের এ ফোন থ্রিজি নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করে। উভয় সিমের স্লট মাইক্রো। এ ছাড়া ওয়াই-ফাই, ওয়াই-ফাই ডিরেক্ট, জিপিএস, এফএম রেডিও, ইউএসবি ২.০ প্রভৃতি কানেক্টিভিটি সুবিধা রয়েছে।

ইউএসবি অন দ্যা গো (ওটিজি) ফিচারও রয়েছে এতে।

Lava-Iris-870-techshohor (3)

কাস্টমাইজড ইউজার ইন্টারফেস
অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ মার্শম্যালোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি স্টার ওএস নামের কাস্টম ইউআই ব্যবহার করা হয়েছে ফোনটিতে। এতে ব্যবহারকারীরা অতিরিক্ত কিছু ফিচার পাবেন।

পারফরমেন্সে ধীরগতি
মিডিয়াটেক এমটি৬৪৩৫পি মডেলের চিপসেটের এ ডিভাইসে ৬৪বিট আর্কিটেক্সারের কোয়াড কোর প্রসেসরের গতি মাত্র ১.০ গিগাহার্জ। ফলে ২ জিবি র‍্যাম থাকলেও অনেকটাই ধীরগতির হয়ে উঠতে পারে।

সাধারণ ব্যবহারে খুব বেশি সমস্যা না হলেও এডভান্স ইউজারদের জন্য ফোনটি তেমন উপযুক্ত নয়।

গেইমিংয়ে হতাশা

এ ফোনে গেইমিং পারফরমেন্স খুবই সাধারণ মানের। বেশিরভাগ উচ্চ গ্রাফিক্স গেইম চালাতে ফ্রেইম ড্রপ ও অনাকাংখিত ল্যাগ হতে দেখা গেছে।

Lava-Iris-870-techshohor (2)

মাল্টিমিডিয়া
ফোনটির মিউজিক এক্সপেরিয়েন্স বেশ ভালো। এটির সঙ্গে থাকা ইয়ারপিচের মান খুব বেশি চমক তৈরি না করলেও ভালো ইয়ারপিচ ব্যবহারে বেশ মিউজিক আউটপুট পাওয়া যায়। ল্যাগ ছাড়াই ফুল এইচডি ভিডিও প্লেব্যাক হয়, যা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের উচ্ছ্বসিত করবে।

মাঝারি মানের ক্যামেরা
পেছনে ৮ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা ও সামনে ৫ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা দিনের আলোতে মাঝারি মানের পারফরমেন্স দিলেও মৃদু আলোতে ছবির মান কমে যায়।

এ ক্যামেরা দিয়ে ১০৮০ পিক্সেল রেজুলেশনের ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ড করা যাবে। ভিডিও কোয়ালিটি মোটামুটি মানের।

Lava-Iris-870-techshohor (1)

ব্যাটারি
২,৭০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম-পলিমার নন রিমুভেবল ব্যাটারির এ ফোনে প্রসেসরের গতি কম হওয়ায় বেশ ভালো ব্যাকআপ দেবে।

মূল্য
এক বছরের বিক্রয়োত্তর সুবিধাসহ ৯,৯০০ টাকায় ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে।

এক নজরে ভালো

  • ভালো ব্যাটারি লাইফ
  • ওটিজি সুবিধা
  • সহজে বহনযোগ্য

এক নজরে খারাপ

  • মাত্র ১.০ গিগাহার্জ প্রসেসর
  • ফাস্ট চার্জিং সুবিধা অনুপস্থিত
  • টাচ কিছুটা ধীরগতির

গ্যালাক্সি জে৫ : পারফরমেন্সে ভালো তবে ভোগান্তিও কম নয়

রিয়াদ আরিফিন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর :  প্রতিযোগিতামূলক বাজারের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন হ্যান্ডসেট আনা অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়ছে স্মার্টফোন কোম্পানিগুলোর জন্য। আর তাই পুরাতন হ্যান্ডসেটগুলোকে ফিচারে উন্নত করে আবারও বাজারে ছাড়ছে স্যামসাং। তারই ধারাবাহিকতায় বাজারে এসেছে গ্যালাক্সি জে৫ এর ২০১৬ সংস্করণের স্মার্টফোন। ব্যাটারি, ক্যামেরাতে ভালো হলেও ব্যবহারকারীকে কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হবে এটি ব্যবহারে। চলুন বিস্তারিত দেখে নেওয়া যাক।

Samsung-Galaxy-J5-2016-techshohor.jpg (1)

এক নজরে স্যামসাং জে৫ (২০১৬)

  • ১২৮০*৭২০ পিক্সেল রেজ্যুলেশনের ৫.২ ইঞ্চির অ্যামোলেড ডিসপ্লে
  • ফোরজি নেটওয়ার্কের সুবিধাসহ ডুয়াল সিম সমর্থন
  • ১.২ গিগাহার্টজ স্ন্যাপড্রাগন ৪১০ চিপসেট
  • অ্যান্ড্রিনো ৩০৬ জিপিইউ
  • ২ গিগাবাইট র‍্যাম
  • ১৬ গিগাবাইট ইন্টারনাল স্টোরেজ
  • ১২৮ গিগাবাইট পর্যন্ত মাইক্রোএসডি কার্ড ব্যবহারের সুবিধা
  • পেছনে ১৩ মেগাপিক্সেল ও সামনে ৫ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা
  • ৩১০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের রিমুভেবল ব্যাটারি
  • ব্লুটুথ ৪.১ প্রযুক্তি

বক্সে যা পাওয়া যাবে

  • একটি হ্যান্ডসেট
  • ভালোমানের একটি ইয়ারফোন
  • একটি চার্জিং অ্যাডাপ্টর
  • একটি ইউএসবি ডেটা ক্যাবল
  • ইউজার ম্যানুয়াল
  • ওয়ারেন্টি কার্ড

সাদামাটা গড়ন

স্যামসাংয়ের এই হ্যান্ডসেটটি ডিজাইনে বেশ সাদামাটা। প্লাস্টিক বডির এই হ্যান্ডসেটটির ফ্রেমিংয়ে অ্যালুমিনিয়াম মেটাল ব্যবহার করা হয়েছে। ফ্রেমের এই অ্যালুমিনিয়ামের আবরণ কিছুদিন ব্যবহারে উঠে যেতে পারে। হ্যান্ডসেটটির ডানদিকের ফ্রেমে রয়েছে পাওয়ার লক/আনলক বাটন ও বামদিকে রয়েছে ভলিউম রকার।

Samsung-Galaxy-J5-2016-techshohor.jpg (3)

ক্যামেরা, এলইডি ফ্ল্যাশ ও লাউডস্পিকার রয়েছে একদম পিছনে। লাউডস্পিকার পিছনে থাকায় ফোনটিকে টেবিল কিংবা বিছানার উপর রাখা অবস্থায় সাউন্ডের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

একদম নিচে রয়েছে চার্জিং পোর্ট ও ৩.৫ মিলিমিটার অডিও আউটপুট পোর্ট।

ডিসপ্লেতে ভালোই
ফোনটিতে ব্যবহৃত ১২৮০*৭২০ পিক্সেলের ৫.২ ইঞ্চির অ্যামোলেড ডিসপ্লেটির পিক্সেল ঘনত্ব মাত্র ২৮২ পিপিআই, ফলে ব্যবহারকারিরা কিছুটা আশাহত হতে পারেন। এই ফোনটি সর্বোচ্চ ৫টি আঙ্গুলের ছোয়ায় (মাল্টিটাচ) ব্যবহার করা যাবে। এটি অনেক স্মুথ। ডিসপ্লের ভিউয়িং অ্যাঙ্গেলে কোন সমস্যা না পাওয়া যায়নি।

স্টোরেজে সন্তুষ্টি
হ্যান্ডসেটটিতে পর্যাপ্ত স্টোরেজ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। বিল্ট ইন হিসেবে থাকছে ১৬ গিগাবাইট জায়গা, যা মাইক্রোএসডি কার্ড ব্যবহার করে ১২৮ গিগাবাইট পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। তবে অপারেটিং সিস্টেমেই প্রায় ৬ গিগাবাইট জায়গা ব্যবহৃত হবে।

রয়েছে ২ গিগাবাইটের র‍্যাম, যেখানে ১৫৯ মেগাবাইট রিজার্ভ হিসেবে থাকছে। এছাড়া সাধারণত সিস্টেম ও অ্যাপস ইনস্টলের কারণে প্রায় ৬৫ শতাংশ র‍্যাম পূর্ণ থাকে। ফলে কাজের ক্ষেত্রে কিছুটা ধীরগতির হতে পারে হ্যান্ডসেটটি।

Samsung-Galaxy-J5-2016-techshohor.jpg (4)

কানেক্টিভিটি
স্মার্টফোনটি ফোরজি নেটওয়ার্ক সমর্থিত। রয়েছে দুইটি মাইক্রো সিম ব্যবহারের সুবিধা। এছাড়া ওয়াই-ফাই,ওয়াই-ফাই ডিরেক্ট, জিপিএস, এফএম রেডিও, ইউএসবি ২.০ প্রভৃতি কানেক্টিভিটি সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি থাকছে নেয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) সুবিধা।

কাস্টোমাইজড ইউজার ইন্টারফেইস
অ্যান্ড্রয়েড মার্শম্যালো ৬.০.১ এর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠা স্যামসাংয়ের নিজস্ব কাস্টোমাইজড ইউআই ডিজাইন। ফলে বাড়তি অনেক ফিচার রয়েছে হ্যান্ডসেটটিতে। মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের সুবিধার্তে থাকছে এসবাইক মোড ও আল্ট্রা ডেটা সেইভিং মোড নামে আকর্ষনীয় দুটি ফিচার।

Samsung-Galaxy-J5-2016-techshohor.jpg (5)

ব্যবহারকারীরা চাইলে হ্যান্ডসেটটিতে তার পুরাতন হ্যান্ডসেটের কনটেন্টগুলো আনতে পারবেন। ফলে কিছুটা ভোগান্তি থেকে বাঁচা যাবে।

পারফরমেন্স
ফোনটিতে কোয়ালকম এমএসএম৮৯১৬ মডেলের স্ন্যাপড্রাগন ৪১০ চিপসেট ব্যবহার করা হয়েছে। কর্টেক্স এ৫৩ আর্কিটেক্সারের ৬৪ বিট কোয়াড কোর প্রসেসরটির গতি ১.২ গিগাহার্টজ। ফোনটি সাধারন ব্যবহারকারীদের জন্য যথেষ্ট ভালো পারফরমেন্স দিলেও অ্যাডভান্সড লেভেলের ব্যবহারকারী কিংবা হাই গ্রাফিক্স গেইমারদের জন্য এর পারফরমেন্স পর্যাপ্ত নয়।

Samsung J5 2016 edition problem-2-TechShohor

রয়েছে ভোগান্তি
ফোনটি প্রতিবার রিস্টার্ট নেওয়ার সময়ই উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের মতোই অ্যাপস অটোআপডেট ও ইনস্টল নেয়। ফলে প্রতিবার রিস্টার্টে প্রায় ৫ মিনিট সময় লাগে। এছাড়া অতিরিক্ত অ্যাপস ব্যবহারে হ্যান্ডসেটটি গরম হয়ে যায়।

Samsung J5 2016 edition problem-TechShohor

এছাড়া অপারেটিং সিস্টেমে কিছুটা ঝামেলা থাকায় প্রায়ই এরর দেখায়। যেটি ব্যবহারকারীকে মাঝে মাঝেই ভোগান্তি দিতে পারে।

মাল্টিমিডিয়াতে বেশ
ফোনটির মিউজিক অভিজ্ঞতা বেশ ভালোই। এর সঙ্গে থাকা ইয়ারপিচটার মান সন্তোষজনক। ফোনটিতে ল্যাগ ছাড়াই ফুল এইচডি ভিডিও প্লেব্যাক হয়।

Samsung-Galaxy-J5-2016-techshohor.jpg (2)

ক্যামেরাতে সেরা
পিছনে ১৩ মেগাপিক্সেলের ক্যামেরা ও সামনে ৫ মেগাপিক্সেলের সেলফি ক্যামেরায় তোলা ছবি ব্যবহারকারীকে দারুন অভিজ্ঞতা দেবে। এ ক্যামেরা দিয়ে ১৯২০*১০৮০ পিক্সেল রেজ্যুলেশনের ফুল এইচডি ভিডিও রেকর্ড করা যাবে। ভিডিও কোয়ালিটিও বেশ ভালোমানের। রয়েছে ওয়াইড সেলফি, ইন্টারভ্যাল শর্ট, ফ্ল্যাশ, টাইমার, ইফেক্টসহ নানা সুবিধা।

ব্যাটারি
এতে ৩১০০ মিলিঅ্যাম্পিয়ারের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যাটারি ব্যাকআপ খুবই ভালো। এক চার্জে দুইদিন চালানো যাবে। এছাড়া শুধুমাত্র কথা বললে কয়েকদিন পর্যন্ত ব্যাটারি ব্যাকআপ দেবে। তবে ডিভাইসটিকে দ্রুত চার্জ করার জন্য কুইক চার্জিং কিংবা ফাস্ট চার্জিং সুবিধা না থাকায় চার্জিংয়ে সময় বেশি লাগবে।

মূল্য
ফোনটির নিয়মিত দাম ২১ হাজার ৯০০ টাকা। তবে ঈদ উপলক্ষে এক হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশ ডিসকাউন্টের সুবিধা রয়েছে।

এক নজরে ভালো

    • পর্যাপ্ত স্টোরেজ
    • ভালো ব্যাটারি লাইফ
    • অ্যামোলেড ডিসপ্লে
    • এনএফসি সুবিধা
    • ভালোমানের ক্যামেরা

এক নজরে খারাপ

  • অপারেটিং সিস্টেমে সমস্যা
  • রিস্টার্ট নিতে প্রচুর সময় নেয়
  • ফাস্ট চার্জিং সুবিধা অনুপস্থিত
  • মাঝে মাঝে গরম হয়ে যায়

এইচপি প্রোবুক ৪৭০জি-৩ : গেইমিং ছাড়া পারফরমেন্সে ডেক্সটপের বিকল্প

রিয়াদ আরিফিন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : এইচপির প্রোবুক সিরিজের নতুন ল্যাপটপ ৪৭০ জি-৩ সম্প্রতি দেশে বেচাকেনা শুরু হয়েছে। উচ্চ ক্ষমতার এ ল্যাপটপে হিটিং ইস্যুতে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।

শীর্ষস্থানীয় ল্যাপটপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির দাবি নতুন এ মডেলের  ল্যাপটপ একটানা দীর্ঘক্ষণ ব্যবহারেও খুব বেশি গরম হয়ে উঠবে না। তাই ২.১৬ কেজি ওজনের এ ডিভাইসকে ডেস্কটপ কম্পিউটারের বিকল্প আখ্যা দিয়েছে বিদেশি অনেক গনমাধ্যম।

উচ্চ গ্রাফিক্স গেইমিংয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও পারফরমেন্স ও মূল্য বিবেচনায় এটি হয়ে উঠতে পারে ক্রেতাদের বেশ পছন্দের।

HP-ProBook-470-G3-techshohor

ডিজাইনে অসাধারন
ল্যাপটপটির ডিজাইন এক কথায় বলতে গেলে দারুণ। মেটালিক (সিলভার) কালার এটিকে প্রিমিয়াম লুক দিয়েছে। কালো রঙের কিবোর্ড ব্যবহার করা হয়েছে এতে।

ডান দিকে রয়েছে ডিভিডি বার্নার, দুটি ইউএসবি ২ পোর্ট ও একটি ইথারনেট পোর্ট। বামে দুটি ইউএসবি ৩ পোর্ট, পাওয়ার ক্যাবল পোর্ট ও ভিজিএঙ্গো এইডিএমআই পোর্ট রয়েছে।

ডিসপ্লেতেও ভাল
১৭.৩ ইঞ্চি ও ১৫.৬ ইঞ্চি আকারের দুটি ভিন্ন ডিসপ্লেতে রিলিজ হলেও দেশের বাজারে শুধু ১৫.৬ ইঞ্চি পাওয়া যাচ্ছে। এতে ফুল এইচডি আইপিএস ডিসপ্লে ব্যবহার করা হয়েছে। এক নজরে ডিসপ্লেটি দেখে ভালো লাগবে।

প্রসেসরে সর্বশেষ প্রযুক্তি
ল্যাপটপটিতে ইন্টেলের ৬ষ্ঠ প্রজন্মের কোর-আই৭ ৬৫০০ ইউ প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে। ৬৪ বিট এ প্রসেসর ২.৫ থেকে ৩.১ গিগাহার্জ পর্যন্ত ক্ষমতার, যার ক্যাশিং ক্ষমতা ৪ এমবি। প্রসেসরটি এসি ও ব্যাটারি উভয় মোডে সমান পারফরমেন্স দিতে সক্ষম ।

গ্রাফিক্স
গ্রাফিক্স চিপসেট হিসেবে এতে রেডন আর-৭ ৩৪০ ব্যবহার করা হয়েছে। এর মেমরি ২ গিগাবাইট। গ্রাফিক্স কার্যকারিতা মধ্যম মানের। তবে তা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য যথেষ্ট।

HP-ProBook-470-G3-techshohor

র‍্যাম ও স্টোরেজে স্বস্তি
৮ গিগাবাইটের ডিডিআর-৩ এল র‍্যামের পাশাপাশি ১ টেরাবাইট হার্ড ডিস্ক ব্যবহারকারীদের বেশ স্বস্তি দেবে। তবে হতাশার বিষয় হতে পারে এসএসডি স্টোরেজ সুবিধা না থাকার বিষয়টি। ফলে অনেকেই আশাহত হবেন।

কানেক্টিভিটি ও নেটওয়ার্কিং
দুটি করে ইউএসবি থ্রি ও ইউএসবি টু মোট চারটি পোর্ট থাকায় পোর্ট স্বল্পতায় ভোগান্তিতে পড়তে হবে না। এ ছাড়া ডিসপ্লে আউটপুট হিসেবে এইচডিএমআই ও ভিজিএ দুই ধরনের পোর্টই ব্যবহার করা হয়েছে।

নেটওয়ার্কিং সুবিধা হিসেবে ল্যান ও ব্লুটুথ প্রযুক্তি থাকায় কানেক্টিভিটিতে উল্লেখযোগ্য কোনো ঘাটতি থাকছে না।

গেইমিং
উচ্চ গ্রাফিক্স গেইমিংয়ে ল্যাপটপটির বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা লক্ষ্য করা গেছে। উচ্চ গ্রাফিক্সরের গেইমগুলো নিম্ন বা মধ্যম গ্রাফিক্স সেটিংয়ে ভালোভাবে চললেও ফুল গ্রাফিক্স সেটিংয়ে চলে না। যারা ল্যাপটপ গেইমিং ভালবাসেন, তাদের জন্য এটি বেশ হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

অপটিক্যাল ডিভাইস
এতে ব্যবহৃত ডিভিডি রমের মাধ্যমে চাইলে সিডি/ডিভিডি রিড ও রাইট করা যাবে।

HP-ProBook-470-G3-techshohor

ব্যাটারি
ল্যাপটপটিতে ৬ সেলের লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে, যা প্রায় সাড়ে চার ঘন্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে সক্ষম।

মূল্য
দেশে ল্যাপটপটি পাওয়া যাচ্ছে ৬২,৮০০ টাকায়। সঙ্গে থাকছে এক বছরের বিক্রয়ত্তোর সেবা।

এক নজরে ভালো
– ডিজাইনে দারুণ
– উন্নতমানের প্রসেসর
– উন্নতমানের ডিসপ্লে
– পারফরমেন্সে এগিয়ে

এক নজরে খারাপ
– এসএসডি নেই
– কিবোর্ড ব্যাকলিট নয়

শাওমি ব্যান্ড১ এস : নতুনত্ব বলতে হার্ট রেট সেন্সর

রিয়াদ আরিফিন, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : জীবনযাত্রার অনেক কিছুতেই এখন প্রযুক্তির সুফল পাওয়া যাচ্ছে। বিভিন্ন পরিধেয় গ্যাজেটের মাধ্যমে স্বাস্থ্য সেবাও পাওয়া যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে আসা এসব ইলেকট্রনিক গ্যাজেটের মধ্যে ফিটনেস ব্যান্ড অন্যতম। এটি বেশ জনপ্রিয়ও হচ্ছে।

স্মার্টফোন নির্মার্তা জায়ান্টগুলোর মতো চীনা অ্যাপল খ্যাত শাওমি নিয়ে এসেছে এম ব্যান্ড-১ এস। এটি মূলত আগের ব্যান্ড-১ এর বর্ধিত সংস্করণ। এ স্মার্ট গ্যাজেট স্মার্টফোনের এমআই ফিট অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

এক নজরে ব্যান্ড-১এস

  • হৃৎ স্পদন সম্পর্কিত তথ্য জানা যাবে
  • হেঁটে অতিক্রান্ত দূরত্বের হিসাব পাওয়া যাবে
  • ক্যালরি পোড়ানোর তথ্য মিলবে

Xiaomi-Mi-Band-1S

বক্সে যা মিলবে

  • একটি এমআই ব্যান্ড ক্যাপসুল
  • একটি রিস্ট স্ট্রাপ
  • চার্জিং ক্যাবল
  • নির্দেশিকা

ডিজাইন ও বিল্ড কোয়ালিটি
এতে রাবারের রিস্ট স্ট্রাইপ ব্যবহার করা হয়েছে, যা অনেকটাই আগের এমআই ব্যান্ড ১ এর অনুরূপ। ক্যাপসুলটি অনেকটাই মেটালিক ডিজাইনের।

ক্যাপসুলে থাকছে হার্ট রেট সেন্সর, যা প্রথম প্রজন্মের ব্যান্ডটিতে অনুপস্থিত ছিল। এটি পানিরোধী হওয়ায় গোসলের সময়ও ব্যবহার করা যাবে।

3

কার্যকারিতা
এ স্মার্ট গ্যাজেট ব্যবহারে আপনি শরীরের বিভিন্ন তথ্য জানতে ও হিসাব রাখতে পারবেন। যেমন- এ ব্যান্ড ব্যবহার করে এমআই ফিট অ্যাপের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন ঠিক কত সময় ঘুমিয়েছেন, কত সময় ও কতটুকু হেঁটেছেন।

এক কথায় ডিভাইসটি ব্যবহারে আপনার শরীরের প্রতি একক ক্যালরির হিসাব রাখতে পারবেন। তবে এ অ্যাপ থেকে প্রাপ্ত তথ্যগুলো শতভাগ সঠিক নাও হতে পারে।

পাশাপাশি থাকছে অ্যালার্ম সুবিধা, যা কম্পনের মাধ্যমে আপনার ঘুম ভাঙ্গাতে সাহায্য করবে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত হিসেবে থাকছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নোটিফিকেশনের সুবিধা।

Xiaomi-Mi-Band-1S-techshohor

চার্জিং ও ব্যাটারি ব্যাকআপ
ডিভাইসটির ব্যাটারি ব্যাকআপ নিয়ে ব্যবহারকারীরা দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে পারেন। কারণ এটি একবার ফুল চার্জ করে নিলে একটানা ৩/৪ সপ্তাহ পর্যন্ত ব্যবহার করা যাবে।

তবে অ্যালার্ম ফিচার ব্যবহার করলে এ ব্যাক আপ কমে আসতে পারে কিছুটা।

মূল্য
এ স্মার্ট গ্যাজেট দেশের বাজারে ১৫০০ থেকে ১৭০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: