ভুটানে ই-জিপি চালু করল বাংলাদেশি কোম্পানি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : বাংলাদেশের সফটওয়ার কোম্পানি দোহাটেক নিউ মিডিয়া ভুটানের সরকারি কেনাকাটার জন্য ইলেক্ট্রনিক প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) চালু করেছে।

থিম্পুতে এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল পদ্ধতিতে কেনাকাটার সুবিধা চালু করেন। গত বুধবার নতুন চালু এ পদ্ধতির মাধ্যমে বছরে ওই দেশের ১৫ হাজার সরকারি কেনাকাটা করা যাবে।

এখন সীমিত পর্যায়ে চালু হলেও আগামী জানুয়ারি থেকে ই-জিপি’র মাধ্যমে সরকারের সকল কেনাকাটা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে নিয়েছে দেশটির সরকার।

dohatech-techshohor
ভুটানে ই-জিপি উদ্বোধনের পর দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দোহাটেকের প্রধান লুনা শামসুদ্দোহা

 

এর আগে ২০১১ সালে বাংলাদেশেও দোহাটেক ই-জিপি চালু করেছে। ভুটানের জন্য তারা শুধু এ পদ্ধতির অনুকরণ করছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানির প্রধান লুনা শামসুদ্দোহা।

অন্য একটি দেশের সরকারের জন্য বাংলাদেশের কোম্পানির তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট কাজ করা বড়ই সম্মানের বলে উল্লেখ করেন তিনি। দেশের জন্য এ সম্মান আনতে পারায় তারা গর্বিত।

এরই মধ্যে বাংলাদেশে ই-জিপি পদ্ধতিতে সরকারের দরপত্র আহবানের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার ৬১ হাজার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

ই-জিপি পদ্ধতিতে বিশ্বের যে কোনো জায়গায় বসেই অনলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকারী দরপত্রে অংশ নিতে পারেন। এ কারণে এ পদ্ধতি চালুর পর দেশে আর টেন্ডারবাজি নিয়ে গন্ডগোল বিষয়ক খবর কমে গেছে।

এর আগে ২০০৮ সালে দোহাটেক দেশে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়নের সফটওয়ার ডেভেলপ করাসহ জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিল।

১৯৯২ সালে যাত্রা করা কোম্পানিটি দেশের বাইরে সফটওয়্যার রফতানির মাধ্যমে কাজ শুরু করেছিল। এখন তারা ইউরোপ-আমেরিকার নানা দেশে সফটওয়ার নিয়ে কাজ করছে।

জিপিতেও অনলাইনে মিলছে সিম

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : জিপি শপের পরিধি আরেকটু বাড়িয়ে গ্রামীণফোনও অনলাইনে সিম বিক্রি শুরু করেছে। তবে এ পদ্ধতিতে এখন তারা শুধু রাজধানীতেই সিম বিক্রি করবে।

এর আগে বাংলালিংক গত বছর প্রথম অনলাইনে সিম বিক্রি শুরু করে। তখন গ্রামীণফোন তাদের অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে হ্যান্ডসেট ও অন্যান্য অ্যাক্সেসরিজ বিক্রি করলেও অনলাইনে সিম বিক্রি শুরু করেনি।

gp sim-techshohor

গ্রাহক বিচারে বর্তমানে দেশের বৃহত্তম অপারেটরটি তাদের ওয়েবসাইট ও ফেইসবুক পেইজে ঘোষণা দিয়ে এ বিষয়ক প্রচারণা শুরু করেছে।

আপাতত শুধু প্রিপেইডের নিশ্চিন্ত প্যাকেজের সিম এ পদ্ধতিতে বিক্রি করা হবে। প্রতিটি সিমের মূল্য ধরা হয়েছে ১১০ টাকা। আর ডেলিভারি চার্জ হিসেবে দিতে হবে আরও ৮০ টাকা।

তবে এখান থেকে ইচ্ছে মতো নম্বর পাওয়ার সুযোগ কম বলে গ্রামীণফোন তাদের ফেইসবুক পেইজে জানিয়েছ্

বর্তমানে গ্রামীণফোনের কার্যকর সংযোগের সংখ্যা ছয় কোটি পেরিয়ে গেছে।

সময় মাপা ডেটা অফার দিচ্ছে বাংলালিংক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : গ্রাহক আকর্ষণে মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর প্যাকেজের শেষ নেই। ভয়েসের চেয়ে এখন তাদের বেশি নজর ডেটা বিক্রিতে। এতদিন পর্যান্ত ভলিউমভিত্তিক ইন্টারনেটের নানা অফার দিয়ে প্যাকেজ সাজালেও এবার বাংলালিংক নিয়ে এসেছে সময় মাপা অফার।

তাদের নতুন অফারে থাকছে ভ্যাট-ট্যাক্সসহ ১৯ টাকায় চার ঘণ্টা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ। বিজ্ঞাপনে আনলিমিটেড বলা হলেও একটু চাতুরি রয়েছে এ অফারে।

আসলে এ চার ঘণ্টায় এক এমবিপিএস গতিতে তারা সর্বোচ্চ এক জিবি ডেটা ব্যবহার করতে দেবে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এক জিবি পার হয়ে গেলে এরপর গতি কমিয়ে ১২৮ কেবিপিএস করে দেওয়া হবে। এ জন্য বাড়তি বিলও গুণতে হবে গ্রাহককে।

Banglalink-Techshohor

বর্তমানে বড় তিন অপারেটরের মধ্যে বাংলালিংকের ডেটার গ্রাহক সবচেয়ে কম। সে কারণে ডেটা থেকে তাদের আয়ও অনেক কম।

অপারেটরটি ডেটা থেকে তাদের আয় বাড়াতেই নতুন অফার নিয়ে আসছে। আর এর অংশ হিসেবেই তারা এমন আরও কিছু অফার নিয়ে আসছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি এ বিষয়ে নিজেদের ফেইসবুক পেইজে প্রচারণা শুরু করেছে গ্রাহক বিবেচনায় দেশের তিন নম্বর অপারেটর বাংলালিংক।

ফেইসবুক পেইজে অবশ্য গ্রাহকরা এ বিষয়ে ভালো-মন্দ উভয় ধরণের মন্তব্যই করেছেন। অনেকে যেমন অফারটি সম্পর্কে আরও খোঁজ নিয়েছেন বা ডেটা ব্যবহারের সীমা না রাখতে বলেছেন। কেউ কেউ আবার বাংলাংলিংকের ইন্টারনেট সেবা সংক্রান্ত নানা অভিযোগও করেছেন।

বাংলালিংকের গ্রাহকরা স্বংয়ক্রিয়ভাবে *৫০০০*৭৭৩# ডায়াল করে সেবাটি নিতে পারবেন।

অফারটি কতদিন কার্যকর থাকবে সে বিষয়ে গ্রাহকের প্রশ্নের পরেও নিশ্চিত করে উত্তর দিতে পারেনি বাংলালিংকের ফেইসবুক অ্যাডমিন।

মোবাইল ডেটার দাম নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু

অনন্য ইসলাম, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল ইন্টারনেটের প্রকৃত দাম কত হওয়া উচিত, তা নির্ধারণে কস্ট মডেলিংয়ের বহু প্রতিক্ষীত কার্যক্রম শুরু করেছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি।

আন্তর্জাতিকে টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের দু’জন বিশেষজ্ঞ এ জন্য কাজ শুরু করেছেন। তারা ধারাবাহিকভাবে বিটিআরসি ও অপারেটরগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কর্মশালা করছেন।

আগামী কয়েক মাসের মধ্যে তারা ইন্টারনেটের দামের বিষয়ে প্রতিবেদন দেবেন। এর মাধ্যমে দেশে ইন্টারনেট ডেটার প্রকৃত দাম কতো হওয়া উচিত সেটি নিরূপিত হবে।

smartpthone-techshohor-internet

 

এর আগে বিটিআরসি ভয়েস কল ও এসএমএসের কস্ট মডেলিং করে উচ্চ ও নিন্মসীমা বেঁধে দিলেও ইন্টারনেট ডেটার ক্ষেত্রে এটি কখনও হয়নি।

এদিকে তিন দিনের বৈঠকে বিশেষজ্ঞরা অপারেটরগুলোর কাছে তাদের সংশ্লিষ্ট সকল ব্যয় ও আয়ের তথ্য চেয়েছেন। পরে এগুলো পর্যালোচনা করে ডেটার সর্বোচ্চ ও সর্বনিন্ম সীমা বেঁধে দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, ডেটার কস্ট মডেলিং হলে গ্রাহকরা প্রকৃত দামে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।

এর আগে গ্রাহকদের একাধিক আবেদনের প্রেক্ষিতে মোবাইল ডেটার মূল্য বেঁধে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় বিটিআরসি। তবে শেষ পর্যন্ত তা হয়ে ওঠেনি।

মাঝে একবার এ জন্য বিটিআরসিকে এক মাসের সময়ও বেঁধে দেয় ডিজিটাল বাংলাদেশ টাস্কফোর্সের নির্বাহী কমিটি।

এর আগে ২০১৬ সালের শুরুতে কস্ট মডেলিং করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা করণে তা আর শুরু করতে পারেনি কমিশন।

মাঝে একবার আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) কাছে এ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ পরামর্শক চেয়েছিল বিটিআরসি। তবে বিনা খরচায় ইউনিয়ন এ পরামর্শক দিতে চায়নি। পরে ২৫ লাখ ডলার ব্যয়ের চুক্তি করে আইটিইউ থেকে পরামর্শক পেল কমিশন।

বিটিআরসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উন্নত বিশ্বের কোনো দেশই কস্ট মডেলিং ছাড়া ইন্টারনেটের প্যাকেজ সাজায় না। এ ক্ষেত্রে একেক দেশ একেক পদ্ধতি অবলম্বন করে।

তারা জানান, অপারেটরের খরচ, বিনিয়োগ ও লাভের অংক ধরেই পরে প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

এবার সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অনেক দিন থেকে সেবায় না থাকা দেশের সবচেয়ে পুরনো মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি।

বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করেছে কমিশন। সম্প্রতি কমিশন বৈঠকে অপারেটরটির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সূত্র জানিয়েছে। এর আগে স্পেকট্রাম বরাদ্দ স্থগিত করা হলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে তা ফিরে পেয়েছিল অপারেটরটি। তবে আর কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।

মূলত পুরনো বকেয়া পরিশোধ না করা এবং আদালতের নির্দেশ অনুসারে চলতি পাওনা, যেমন স্টেকট্রাম ফ্রি ও লাইসেন্স ফি পরিশোধ না করার পাশাপাশি লাইসেন্সের শর্তভঙ্গ করার অভিযোগ আনা হয়েছে অপারেটরটির বিরুদ্ধে।

citycell-btrc-techshohor

এসব কারণ দেখিয়ে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ পাঠিয়েছে বিটিআরসি।এ দিকে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে তারা দ্রুতই তা বিটিআরসিকে অবহিত করবে।

গত সপ্তাহে এ সুপারিশ পাঠানো হয় বলে সাংবাদিকদের জানান, কমিশনের চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।তিনি জানান, সরকার লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত অনুামোদন করলে তারা সিটিসেলের এ স্পেকট্রাম নিলামে তুলবেন।

বিটিআরসি টেলিযোগাযোগ আইনের ৪৬ ধারা ভঙ্গের অভিযোগও করেছে।

সম্প্রতি বিটিআরসি এ বিষয়ে সিটিসেলকে কারণ দর্শানো নোটিশ পাঠালে সিটিসেল উল্টো দাবি করেছে, তারা বরং বিটিআরসিকে হিসাবের অতিরিক্ত টাকা দিয়েছে।

ফলে তারা আর বিটিআরসিকে নতুন করে কোনো অর্থ দেবে না।

 

এর আগে ২০১৬ সালের ২০ অক্টোবর কমিশন অপারেটরটির স্পেকট্রাম বরাদ্দ স্থগিত করলে সিটিসেল উচ্চ আদালতে যায়। আপিল বিভাগ স্পেকট্রাম খুলে দেয়ার আদেশ দেন। ৬ নভেম্বর স্পেকট্রাম ফিরিয়ে দেয়া হয়। তবে তাদের এখন আর কোনও গ্রাহক নেই।

এর আগে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত সিটিসেলের কাছে মোট পাওনা ৪৭৭ কোটি টাকা বকেয়া ছিল বলে দাবি বিটিআরসি। তবে এর মধ্যে অপারেটরটি পরিশোধ করেছে ২৫৫ কোটি টাকা। অবশিষ্ট ২২২ কোটি পরিশোধ করলেই অপারেটরটির দায় মুক্ত হওয়ার কথা।

২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের মার্চের মধ্যে সিটিসেলের এ পাওনা কিস্তিতে পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু যথা সময়ে তা পরিশোধ করেনি অপারেটরটি।

এদিকে, পাওনা আদায়ে সিটিসেলের প্রধান কার্যালয় নিলামে তুলছে ন্যাশনাল ব্যাংক। রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ভবনটির ৬ষ্ঠ হতে ১৩তলা পর্যন্ত নিলামে তোলা হবে বলে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপনও দেয় ব্যাংকটি।

অবশেষে একীভূতকরণের স্বীকৃতি পাচ্ছে রবি

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : নানা টানা টানাপড়েনের পর অবশেষে এয়ারটেলের সঙ্গে একীভূতকরণের জন্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেতে যাচ্ছে রবি।

টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কাছ থেকে ‘অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স’ বৃহস্পতিবার পাওয়ার কথা বলে জানা গেছে।

প্রায় নয় মাসে একীভূতকরণের অনুমোদন পাওয়ার পর গত কয়েক মাসে শীর্ষ এ দুই অপারেটর কার্যত রবির মাধ্যমেই পরিচালিত হচ্ছে। তবে আর্থিক দেনাপাওনার হিসাব সংক্রান্ত জটিলতায় বিটিআরসি এতদিন এ লাইসেন্স দেয়নি।

airtel -robi_techshohor

বুধবার মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর সংগঠন অ্যামটবের বাজেট বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে রবির চিফ পিপলস অফিসার মতিউল ইসলাম নওশাদ বলেন, একীভূতকরণ শেষ পর্যন্ত যথাযথভাবে হচ্ছে। এ উদ্যোগ উভয় কোম্পানির জন্য সুফল নিয়ে আসবে।

পর্যায়ক্রমে তা গ্রাহকদের মধ্যেও সঞ্চারিত হবে বলে উল্লেখ করেন।

যদিও এর আগে রবি একাধিকবার বলেছে, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছ থেকে একীভূতকরণ বিষয়ে তাদের এ ধরণের কোনো লাইসেন্স নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

সূত্র জানায়, শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই বিটিআরসির দাবি করা বাড়তি টাকা ও ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা থাকায় ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়েই ‘অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স’ বুঝে নিচ্ছে রবি।

ইতিমধ্যে তারা এয়ারটেলের ৩ দশমিক ৪ মেগাহার্জ তরঙ্গ বিটিআরসিকে ফেরত দিয়েছে।

 

২০১৬ সালের ২৬ অক্টোবর মোট ২১ শর্ত দিয়ে রবি ও এয়ারটেলের একীভূতকরণ অনুমোদন দেয় বিটিআরসি।

১০০ কোটি টাকা একীভূতকরণ ফি ও ৩০৭ কোটি টাকা এয়ারটেলের তরঙ্গ সমন্বয় ফি হিসেবে মোট ৪০৭ কোটি টাকা, যা ভ্যাট-ট্যাক্স মিলে ৪২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।

এর মধ্যে ২০ নভেম্বর ৩১৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা পরিশোধ করে রবি। বাকি ১০৮ কোটি ৮৩ লাখ টাকা দুই কিস্তিতে পরিশোধের কথা থাকলেও তা দেয়নি অপারেটরটি। শর্ত প্রতিপালন না করায় অনুমোদনের পরও গত প্রায় নয় মাস ধরে একীভূতকরণ চূড়ান্তের বিষয়টি ঝুলে ছিল।

এ দীর্ঘ সময়ে একীভূতকরণের শর্ত পূরণ নিয়ে রবিকে বেশ কয়েক দফা চিঠি দেয় বিটিআরসি। পরে শোকজও করে।

এর মধ্যে একীভূতকরণ বাতিলের হুমকিও দেয়।

পরে টাকা পয়সা পরিশোধের শর্তে অর্ডার অব মার্জার অব লাইসেন্স নিতে বিটিআরসির কাছে আবেদন করলে এ জটিলতা নিরসন হয়।

মোবাইল ফোনে বাড়তি করে হিতে বিপরীত : অ্যামটব

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিতে শুল্ক বাড়ানোর পদক্ষেপ সরকারের ডিজিটাল কার্যক্রমের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করে অ্যামটব।

মোবাইল ফোন অপারেটগুলোর এ সংগঠন ইন্টারনেটের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার না করার পাশাপাশি হ্যান্ডসেটে শুল্ক বৃদ্ধিতে বুধবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

সংগঠনটির দাবি অতিরিক্ত করারোপ করা না হলে জাতীয় আয় আরও বৃদ্ধি পেত। এ জন্য এসব বাড়তি কর ও ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।

amtob-techshohor

আগামী অর্থবছরের বাজেটের আগে ইন্টারনেটের ওপর থেকে ভ্যাট ও সিম ট্যাক্স প্রত্যাহারসহ মোটা দাগে তিনটি দাবি জানিয়েছিল মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো। এগুলোর একটিও পূরণ হয়নিই উল্টো প্রস্তাবিত বাজেটে সিম আমদানির পর্যায়ে ভ্যাট যুক্ত হয়েছে।

এর বাইরে মরার ওপর খাড়ার ঘা হিসেবে মোবাইল হ্যান্ডসেট আমাদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে।

রাজধানীর একটি হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যামটব বলেছে, এ কর নীতি ডিজিটাইজেশনের পথকে আরও কঠিন করে দেবে।

এ জন্য সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক টিআইএম নূরুল কবীর দায়ী করেছেন সরকারের রাজস্ব আহরণের দায়িত্বে থাকা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)।

“ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকারের যে ভিশন এবং মোবাইল খাত থেকে এনবিআরের আয়ের যে লক্ষ্য সে দুটি এক সঙ্গে যায় না- সংবাদ সম্মেলনে বলেন নূরুল কবীর। তিনি বলেন, এনবিআরের সমন্বয়হীনতা তাদের চোখে বড় হয়ে ধরা দিচ্ছে।

নূরুল কবীর বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে হলে ইন্টারনেটের ব্যবহারের ওপর থেকে ভ্যাট তুলতে হবে। গত কয়েক বছর ধরে এ দাবি জানানো হলেও এনবিআর তা বিবেচনাই করছে না।

সিমের ওপর কর বিষয়ে অ্যামটবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এ কর কমানোর ফলে সরকারের আয় বৃদ্ধির বিষয়টি সবাই দেখতে পাচ্ছেন। সরকারের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক জাতীয় আয়ও বেড়েছে।

এখন জাতীয় আয় বাড়ছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ হারে। তার দাবি, সিম কর তুলে নিলে এটি ৮ শতাংশের ওপরে চলে যাবে।

একই সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অপারেটরগুলোর কর্মকর্তারা করপোরেট কর অন্যান্য খাতের মতো ‘স্বাভাবিক’ পর্যায়ে নামিয়ে আনার দাবি জানান।

শীর্ষ তিন অপারেটরের কর্মকর্তারা বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মোবাইল ফোনের ওপর ও মোবাইল ফোনের সেবার ওপর নানা পর্যায়ে কর বাড়ছে। এ কারণে জনগণে সেবা পেতেও বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।

মোবাইল ফোন আমদানিতে বাড়তি করসহ সিম আমদানিতে ভ্যাট যুক্ত করা এবং নেটওয়ার্ক যন্ত্রপাতি আমদানিতে বাড়তি কর আরোপের কারণে সেবার দামও কিছুটা বাড়তে পারে বলে উল্লেখ করেন তারা।

কম দামে বেশি স্পেকট্রাম চায় অপারেটরগুলো

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ফোরজি সেবায় বেশি দামে কম স্পেকট্রামের পরিবর্তে তুলনামূলক কম দামে পুরো স্টেকট্রাম কিনতে চায় মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো।

প্রতি মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের মূল্য দুই কোটি ডলারের নিচে নামিয়ে আনতে সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে দেশের বড় তিন অপারেটরের মূল কোম্পানি।

গ্রামীণফোনের মূল কোম্পানি টেলিনর, রবির মূল কোম্পানি আজিয়াটা ও বাংলালিংকের মূল কোম্পানি ভিয়েনের পক্ষ থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে গত ২৯ মে পাঠানো যৌথ এ চিঠিতে তিন কোম্পানির তিন শীর্ষ কর্মকর্তা সই করেছেন।

GP-banglalink-robi-4G-techshohor

তারা বলছেন, ২০১৩ সালে দেশে থ্রিজি চালুর আগে সরকারের হাতে থাকা স্পেকট্রামের মাত্র কিছু অংশ বিক্রি হয়েছিল। উচ্চ মূল্যের কারণেই অপারেটরগুলো অল্প স্পেকট্রাম কিনে থ্রিজি সেবা চালু করতে বাধ্য হয়।

এখন থ্রিজি ব্যান্ডে অনেক অবিক্রিত স্পেকট্রাম রয়ে গেছে। সরকার তখন নিলামে এই স্পেকট্রামের ভিত্তিমূল্য ধরেছিল প্রতি মেগাহার্ডজ দুই কোটি ডলার। নিলামে তা দুই কোটি ১০ লাখ ডলারে বিক্রি হয়।

দেশে ফোর জি সেবা চালু করতে এখন কয়েকটি ব্যান্ডের স্পেকট্রাম বিক্রি করতে চায় বিটিআরসি। নিরামে এগুলোর কোনোটির ভিত্তিমূল্য তিন কোটি থেকে সাড়ে তিন কোটি ডলার পর্যন্ত ধরা হচ্ছে।

এত দাম না বাড়িয়ে অপারেটরগুলো বরং সরকারকে ভিন্নভাবে চিন্তা করতে অনুরোধ করছে। তারা প্রতি মেগাহার্ডজ স্পেকট্রামের মূল্য দুই কোটি ডলারের নিচে নামিয়ে আনার অনুরোধ করেছে।

দাম কমানো হলে অপারেটরগুলো বেশি স্পেকট্রাম কিনতে বিনিয়োগ করতে পারবে, তাতে ফোরজিতে গ্রাহক সেবার মান উন্নত হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন কর্মকর্তারা।

একই সঙ্গে তারা ফোরজিতে অপারেটরগুলোর রাজস্ব ভাগাভাগি কিছুটা কমিয়ে আনা এবং স্পেকট্রামে বাড়তি মূল্য না নিয়ে প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা দেওয়ার ‍অনুরোধ করেন।

গুগলের অ্যাসিসটেন্ট দেখতেও পাবে, আরও ৫ চমক

আনিকা জীনাত, টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই হবে প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত। টেক জায়ান্টগুলো নিয়মিত কাজের বাইরে তাই এখন চোখ রাখছে এআই নামে পরিচিতি পাওয়া এ অভিনব উদ্ভাবনে। গুগল শুধু পিছিয়ে থাকতে নয়, সবাইকে টেক্কা দিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারিশমা দেখানোর মিশনে নেমে পড়েছে।

গুগল হোম বাটন দিয়ে ফোন করা ও গুগল অ্যাসিসটেন্টের দেখতে পাওয়ার মতো চমকপ্রদ ফিচার আনার ঘোষণা দিয়েছে সার্চ থেকে টেক জায়ান্টে পরিণত হওয়া কোম্পানিটি।

গুগল আইও নামে জনপ্রিয়তা পাওয়া ডেভেলপারদের বার্ষিক সম্মেলনে এবার জায়ান্টটি এতদিনের প্রচলিত পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে জোর দিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায়। তাদের নতুন ছয় উদ্ভাবনের ঘোষণায় সেটির প্রমাণও মিলেছে।

Google -IO-Techshohor

ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউয়ে গুগলের হেডকোয়ার্টারে চলছে এ সম্মেলন। বুধবার এ ছয়টি বড় ঘোষণা এসেছে। এতদিন অ্যান্ড্রয়েড ও ক্রমকে কেন্দ্র করেই তাদের বিভিন্ন পরিকল্পনার সাজানো হলেও এবার বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে এআই।

এ ছয় ফিচার নিয়ে এ প্রতিবেদন।

গুগল হোম দিয়ে ফোন করা যাবে
স্মার্টফোনের এ যুগে স্পিকারেরও স্মার্ট ভার্সন চলে এসেছে। দেখতে অনেকটা বডি ডিওড্রেন্টের মতো ডিভাইসটি দিয়ে এখন থেকে বিনামূল্যে কথা বলা যাবে।

আইএসডি কল করার ক্ষেত্রও কোনো মূল্য চার্জ করা হবে না। ব্যবহারহারীরা চাইলে ডিভাইসটিতে তাদের ফোন নম্বরও যুক্ত করে দিতে পারবেন।

গুগল হোমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তা বিভিন্ন ব্যক্তির  কণ্ঠও শনাক্ত করতে পারে। এতে ‘প্রোটেক্টিভ অ্যাসিসটেন্ট’ নামে আরেকটি ফিচার যুক্ত করা হয়েছে।

স্পিকারটির আলো জ্বলে উঠলে ব্যবহারকারীরা গুগল হোমের কাছ থেকে জেনে নিতে পারবেন তাদের জন্য ফ্লাইট ডিলে সংক্রান্ত কোনো গুরুত্বপূর্ণ আপডেট আছে কিনা।

গুগল অ্যাসিসটেন্ট দেখতেও পারে
আইফোনের সিরি বা আমাজনের আলেক্সাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে গুগল তৈরি করেছে গুগল অ্যাসিসটেন্ট। ইংরেজি বাদে অন্য কোনো ভাষায় নির্দেশ দিলেও বানানসহ তার উত্তর দেবে এটি।

ইতিমধ্যে গুগলের পিক্সেল ফোনে গুগল অ্যাসিসটেন্ট ফিচারটি যুক্ত করা হয়েছে।

Google-IO-2017-3-Techshohor

এখানেই থেমে নেই, কয়েক মাসের মধ্যে এ বিশেস সহকারী দেখতেও পাবে বলে দাবি করেছে টেক জায়ান্টটি। অন্য ভাষার চিহ্নের দিকে ফােন তাক করলে সেটি চোখে দেখার আগেই অনুবাদ করে দেবে।

শুধু তাই নয়, সিনেমা হলের দিকে ফোনের ক্যামেরা তাক করলেও এটি মুহূর্তেই বলে দেবে সিনেমার শো টাইম। এর সঙ্গে দেখাবে টিকিট কেনার অপশন।

‘অ্যান্ড্রয়েড ও’
অ্যান্ড্রয়েডের নতুন সংস্করণ ‘ও’ নিয়ে হাজির হয়েছে গুগল। অপারেটিং সিস্টেমটি ব্যবহার করলে টেক্সট কপি পেস্ট করার ব্যাপারটি অনেক সহজ হয়ে যাবে।

কোনো ঠিকানা কপি করতে হলে ‘অ্যান্ড্রয়েড ও’ পুরোটা ঠিকানাটিই কপি করে নিবে। শুধু তাই নয়, গুগল ম্যাপে তা পেস্ট করারও অপশনও দেখাবে।

‘অ্যান্ড্রয়েড ও’ ফোনের নিরাপত্তা, ব্যাটারি লাইফ বৃদ্ধি করবে। ভিডিও চালু করলে তা মিনিমাইজ করে রাখার অপশনও এতে যুক্ত করা হবে।

অ্যান্ড্রয়েড গো
লো অ্যান্ড অ্যান্ড্রয়েড ফোনের নতুন সফটওয়্যার গুগল এখন স্বল্প মূল্যের ফোনগুলোর জন্য নতুন একটি সফটওয়্যার তৈরি করেছে। এর নাম ‘অ্যান্ড্রয়েড গো’।

সাধারণত ৪ জিবি র‌্যামের ফোনগুলোকে হাইএন্ড ও ১ জিবি র‌্যামযুক্ত ফোনগুলোকে লোএন্ড ফোন বলা হয়।

‘অ্যান্ড্রয়েড গো’ ভার্সনটি চালু করার ফলে এখন লোএন্ড ফোন ব্যবহারকারীরাও ইউটিউবে ভিডিওর প্রিভিউটি দেখতে পারবে। ভিডিওটি দেখতে কত পরিমাণ ডাটা খরচ হবে তাও বলে দিবে অ্যান্ড্রয়েট গো সফটওয়্যারটি।

ফোন ছাড়াই ভিজুয়্যাল রিয়েলিটি
এখন থেকে ভিআর হেডসেটে গান শুনতে হলে তা স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে না।

গুগল ঘোষণা দিয়েছে এ বছরের শেষেই বাজারে ছাড়া হবে স্বয়ংসর্ম্পূণ ভিআর হেডসেট। এর নকশা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কোয়ালমকে।

রিয়েল লাইফ অ্যালবাম
গুগল এখন থেকে ফোনের গ্যালারি ফিচার থেকে ছবি বেছে ফটো অ্যালবাম তৈরি করে দেবে।

গুগল ফটোস অ্যাপটি ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির ছবি দিয়ে অ্যালবাম সাজাতে পারবেন।

শুধু তাই নয়, চাইলে ফটো অ্যালবামটি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গেও শেয়ার করা যাবে।

ওয়ানাক্রাই ঠেকাবে টিয়ারস্টপার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারসের ওয়ান্নাক্রাই র‌্যানসমওয়্যারের বিরুদ্ধে সাইবার যুদ্ধে নেমেছে আরেকটি হ্যাকার গ্রুপ। আতংক ছড়ানো এ সাইবার আক্রমণ রুখে দেওয়ার একটি ‘অস্ত্র’ আবিষ্কার করেছে তারা। বিনামূল্যে ব্যবহারের জন্য তা অনলাইনে উন্মুক্তও করে দিয়েছে গ্রুপটি।

‘হোয়াই হ্যাট হ্যাকারস’ নামের এ হ্যাকার গ্রুপের চমকপ্রদ এ অ্যান্টি ভাইরাস ‘টিয়ারস্টপার’ ব্যবহারে দুই হাজার ব্যক্তি উপকারও পেয়েছেন।

এদিকে আরেক হ্যাকারও একটি অ্যান্টি ভাইরাস তৈরির দাবি করেছে। এ ছাড়া টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটও এ আক্রমণ ঠেকাতে কিছু ‘প্যাচ’ (কৌশল) তৈরি করেছে।

Black-hack-Ransomware-Techshohor

টুইটারে @HIBC2017 নামে আইডি খুলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই হ্যাকার দাবি করেছেন, অ্যান্টি-ভাইরাসটি কাজ শুরু করতে একটু সময় নিলেও তা দ্রুতই কম্পিউটারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। অনলাইনে এটা বিনামূল্যে পাওয়া যাবে। এটি ব্যবহার করতে হলে শুধু কয়েকটা বাটনে ক্লিক করতে হবে।

ওয়ান্নাক্রাই সাইবার হামলা প্রতিরোধে তার তৈরি অ্যান্টি ভাইরাস এখন পর্যন্ত পাঁচ হাজার ডাউনলোড হয়েছে বলে ওই হ্যাকার জানিয়েছেন । এটি তৈরি করতে তার ৩৬ ঘণ্টা লেগেছে।

এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা গবেষক মার্কাস হ্যাচিন একটি গোপন ‘কিল সুইচ’ আবিষ্কার করেছেন, যা হামলার গতি স্লথ করে দিয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা অন্য হ্যাকাররাও ভাইরাসটির ধরন বুঝতে পরামর্শ দিচ্ছেন এবং সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।

বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি করা এ আক্রমণের বিষয়ে সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য প্রমাণ দেখে আঁচ করা যাচ্ছে- এই হামলার পেছনে রয়েছে উত্তর কোরিয়াভিত্তিক একটি গ্রুপ।

গত শুক্রবার থেকে এ পর্যন্ত বিশ্বের দুই লাখ কম্পিউটার সিস্টেম ওয়ান্নাক্রাই র‌্যানসমওয়্যার হামলার শিকার হয়েছে।

স্কাই নিউজ অবলম্বনে আনিকা জীনাত

সাইবার নিরাপত্তায় শুরুতে প্রচারণা, পরে সমন্বয় বৈঠক

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : সাইবার নিরাপত্তা ইস্যুতে সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি। এরপর সরকারি সংস্থাগুলোর কাজের মধ্যে সমন্বয়হীনতা কাটাতে একটি উচ্চ পর্যায়ের সমন্বয় বৈঠক করা হবে।

দেশে ও বিশ্বজুড়ে র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের প্রেক্ষিতে টেলিযোগাযাগ বিভাগে এক বৈঠকে এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিটিআরসিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব সুবীর কিশোর চৌধুরী।

খুব দ্রুতই প্রচারণার কাজ শুরু করতে বৈঠক থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ র‌্যানসমওয়্যার হতে নিরাপদ থাকতে ও ক্ষতি এড়াতে ৬টি পরামর্শ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।

এতে বলা হয়, পেন ড্রাইভ, সিডি, হার্ডডিস্কে সংরক্ষণ করে নিয়মিত ডেটা ব্যাকআপ রাখতে হবে।

উইন্ডোজ কম্পিউটারে ms17-010 প্যাচ (patch) দিয়ে হালনাগাদ করা, নিয়মিত উইন্ডোজ আপডেট এক্ষেত্রে উইন্ডোজ অটোমেটিক হালনাগাদ চালু রাখা।

কোনো অনিরাপদ বা অবিশ্বস্ত সোর্স হতে র‌্যানসমওয়্যার রিমুভ্যাল টুল ডাউনলোড না করা। কারণ এটি নতুন হামলা হতে পারে।

মেইলের সোর্স যাচাই না করে সেগুলো ক্লিক করা যাবে না। এগুলোতে দেয়া লিঙ্কগুলোতেও না। এছাড়া সিস্টেমে অ্যান্টি-ভাইরাস ব্যবহার করা।

ransomware

এদিকে সাইবার  নিরাপত্তায় দেশে বিভিন্ন সংস্থা নানাভাবে কার্যক্রম চালালেও কাজের মধ্যে সমন্বয় নেই বলে বৈঠকে অনেকেই মত প্রকাশ করেন। এতে করে যে কোনো সাইবার আক্রমণ হলে দেশের তথ্য প্রযুক্তি ও ডিজিটাইজেশন কার্যক্রম বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ।

টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের সভাপতিত্বে সোমবারের বৈঠকে টেলিযোগাযোগ বিভাগ, তথ্য প্রযুক্তি বিভাগ, বিটিআরসি, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গত শুক্রবার থেকে র‍্যানসমওয়্যার পৃথিবীজুড়ে আক্রমণ শুরু করে, যার খানিকটা প্রভাব বাংলাদেশেও লেগেছে।

দেশে ইতিমধ্যে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কয়েক ডজন কম্পিউটার র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণের শিকার হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দু’এক দিনের মধ্যেই সব টেলিভিশন এবং অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে সচেতনতামূলক বার্তা দিয়ে প্রচারণার কাজ শুরু করবে বিটিআরসি।

বৈঠকে সকল সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয় রাখতে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি সমন্বয় বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়। ওই বৈঠকে সকলের কাজের অগ্রগতি ও সমন্বয়ের বিষয়ে আলোচনা করার কথা বলা হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে চিঠি লেখা হবে, যাতে তারা বৈঠকটি আয়োজন করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

জামান আশরাফ