অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ তৈরি করলো দশম শ্রেণীর ইসফার

টেক শহর কনটেন্ট কাউন্সিলর : অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জন্য তসবি নামের অ্যাপ তৈরি করেছে দশম শ্রেণীর ছাত্র ইসফার হাসান। সে ধানমন্ডি টিউটোরিয়াল স্কুলের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত পাঁচদিনব্যাপী মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়ন প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের পর সে এই অ্যাপ তৈরি করেছে।

নামাযের পরে বা বিভিন্ন দোয়ার আগে মুসলমানরা যে তসবি পাঠ করে থাকেন, সেটা গণনার প্রয়োজন হয়। এ কাজটি অনেকদিন ধরেই মুসলমানরা হাতের আঙুলের কর বা মালা সদৃশ্য তসবির মাধ্যমে করে থাকেন। ইসফার হাসানের তৈরি এই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এগুলো ছাড়াই এই গণনার কাজ করা যাবে।

Isfar Hasan (Class 10)

ইসফার হাসান জানায়, “ভ্রমণ করার সময় অনেক মানুষের পক্ষেই তসবি বহন করা সম্ভব হয় না। কিন্তু মোবাইল মানুষের নিত্য সঙ্গী। এই ধরনের পরিস্থিতিতে আমার তৈরী করা অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করে মানুষ উপকার পাবেন”।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য এই ট্রেনিংয়ে স্কুল ছাত্রের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা এমসিসি লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী আশ্রাফ আবির বলেন, ইসফার হাসান খুবই মেধাবী শিশু প্রোগ্রামার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দুই হাজার বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ ছাত্রছাত্রীকে প্রশিক্ষণের কথা থাকলেও, আমরা চেষ্টা করছি ইসফারের মতো সব বয়সী মেধাবীদেরকে এই প্রশিক্ষণে অন্তভূর্ক্ত করতে।

উল্লেখ্য, জাতীয় পর্যায়ে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন উন্নয়নে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গত ২০ জানুয়ারি ঢাকার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয় প্রশিক্ষণ।

পাঁচ দিনে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে জাভা ও অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ্লিকেশনে উপর বিস্তারিত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রাপ্ত প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে ব্যবহারিক ক্লাসের মাধ্যমে কর্মশালার শেষ দিনে প্রশিক্ষণার্থীরা পূর্ণাঙ্গ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরী করেন। দুটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমন পূর্ণাঙ্গ ৪৪ টি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করে সনদপত্র পান ৭৮ জন শিক্ষার্থী।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণের সমাপনী দিনে সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্যাক্স আপীল ট্রাইব্যুনালের সদস্য কানন কুমার রায়, সিম্ফনি মোবাইল কোম্পানির পরিচালক রেজওয়ানুল হক, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ক্লাবের উপদেষ্টা আন্নাজিয়াত আলীম রাসেল প্রমুখ।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ড. তৌহিদ তো প্রমুখ।

অনুষ্ঠিত এই দুটি প্রশিক্ষণ কর্মশালায় শ্রেষ্ঠ অ্যাপ নির্মাণকারী দুইজনকে পুরস্কৃত করা হয়। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া নবী এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মশালায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৈয়দা প্রিমা তাসনিম পুরস্কার হিসেবে সিম্ফনি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জিতে নেন।

এছাড়াও পুরস্কৃতদের জন্য বেসিস আয়োজিত সকল প্রশিক্ষণ কোর্সে থাকছে ৫০ শতাংশ ছাড়।

আগ্রহী কেউ এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করতে চাইলে ভিজিট করতে পারেন সাইটটিতে। পুরো প্রকল্পে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সহযোগি হিসেবে এমসিসি লিমিটেড ও ইএটিএলের সঙ্গে কাজ করছে বেসিস, মাইক্রোসফট, গ্রামীণফোন, রবি, নোকিয়া, সিম্ফনি, এসওএল কোয়েস্ট ও গুগল ডেভলাপার গ্রুপ ঢাকা।

Related posts

*

*

Top